আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন : সব দলের অংশগ্রহণ কাম্য

Pic-28রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত প্রার্থীদের নিয়ে প্রথমবারের মতো ২৩৪টি পৌরসভায় নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে আগামী ৩০ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ আগামী ৩ ডিসেম্বর। কিন্তু এখনো বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। বিগত জাতীয় নির্বাচনের মতোই তারা অংশগ্রহণের জন্য বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা পৌর নির্বাচন কমপক্ষে ১৫ দিন পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন আগেই বলে রেখেছে, জানুয়ারিতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং ফেব্রুয়ারিতে নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নের কর্মসূচি থাকায় নির্বাচন পেছানোর সুযোগ কম। সে ক্ষেত্রে এ নির্বাচনেও বিএনপির অংশগ্রহণ থাকবে কি না, তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েই গেছে। আর বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো নির্বাচনে না এলে বিগত জাতীয় নির্বাচনের মতোই এ নির্বাচনও যথার্থ অর্থে প্রতিনিধিত্বমূলক হবে না এবং গ্রহণযোগ্যতা অনেকাংশে কমে যাবে। ফলে নির্বাচন কমিশনের সামনে নতুন একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। আমরা আশা করি, কমিশন সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করবে।

স্থানীয় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ পৌরসভা। সঠিক ও কার্যকর জনপ্রতিনিধিত্বমূলক পরিচালনাব্যবস্থাই কেবল পৌরসভাগুলোর কার্যক্রমকে গতিশীল করতে পারে এবং পৌরসভা তথা তার নাগরিকদের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও এবার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। তৃণমূলে ভালো কাজের মাধ্যমে তারা সেখানে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে পারে। তাই শুধু বিএনপি নয়, গণতন্ত্রমনা প্রতিটি দলেরই উচিত এ সুযোগ গ্রহণ করা।

আমরা আশা করি, নির্বাচন কমিশন বিএনপির উত্থাপিত দাবিগুলো সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। বিএনপির উত্থাপিত দাবিগুলোর কিছু যৌক্তিকতাও রয়েছে। বর্তমানে বিএনপির নেতাকর্মীদের যেভাবে ধরপাকড় করা হচ্ছে, তাতে পৌরসভাগুলোর নেতৃস্থানীয় অনেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে তাঁদের পক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রায় অসম্ভব। সরকারের উচিত বিষয়টি বিবেচনা করা। অন্তত সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ না থাকলে নির্বাচন উপলক্ষে তাঁদের কিছুটা সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিএনপিরও উচিত অনড় অবস্থান ছেড়ে সামগ্রিক বিষয় মূল্যায়ন করে নির্বাচনে অংশগ্রহণকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া। এতে অদূর ভবিষ্যতে বিএনপিই লাভবান হবে।

ক্ষমতাসীন কিংবা বিরোধী দল সবাইকেই বুঝতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা ছাড়া গণতন্ত্র অর্থহীন হয়ে যায়। আর সেই পরিস্থিতি নানা ধরনের অপশক্তির জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে। আমরা আশা করি, রাজনৈতিক দলগুলো দেশের বৃহত্তর স্বার্থে রাজনীতিতে সেই আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট হবে। এ ক্ষেত্রে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন সবার জন্যই সেই সুযোগ তৈরি করে দেবে, এমনটাই প্রত্যাশিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*