আকামা বিহীন হয়ে পড়ছে অনেক প্রবাসীরা

আকামা বিহীন হয়ে পড়ছে অনেক প্রবাসীরা
হেলাল আহমদ :-লেবাননে বিভিন্ন কারণে আকামা বিহীন হয়ে পড়ছে অনেক প্রবাসীরা। আর আকামা না থাকায় অবৈধ হয়ে বিভিন্ন মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এসকল প্রবাসী কর্মীরা। পূর্বে আকামা বিহীন অর্থাৎ অবৈধ প্রবাসীদের দেশে ফেরাতে লেবানন সরকারের উদ্যোগ ছিল,এবং প্রতি বছর থাকত জরিমানা না দিয়ে সাধারণ ক্ষমায় দেশে ফেরার সুযোগ। কিন্তু ২০১৪ সালের পর থেকে আর সেই সুযোগ দেয়া হচ্ছেনা লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে। কারণ এটিকে এখন তারা অর্থ উপার্জনের একটি অন্যতম উৎস হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেছে।অবৈধ বা আকামা বিহীন কর্মীদের দাবি হয় তাদের বিনা জরিমানায় দেশে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হোক আর না হয় বৈধ হবার সুযোগ করে দেয়া হোক।এই দাবী নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন গুলা বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রদূতের মহোদয়ের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে যাচ্ছেন। এমন এক সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার আশ্বাস দিয়ে বলেন, এই দাবি নিয়ে দূতাবাস দীর্ঘদিন যাবৎ লেবানন সরকারের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু লেবাননের জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচিত সক্রিয় সরকার না থাকায় কোন মন্ত্রনালয় থেকে কোন সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি । এখন যেহেতু নতুন মন্ত্রী পরিষদ গঠিত হয়েছে আমরা আশা করছি খুব শীঘ্রই এই সমস্যা গুলো নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা শুরু করব। তবে এক্ষেত্রে আমাদের প্রবাসীরা নিজেরাও অনেক সমস্যার সৃষ্টি করছেন। যেমন- আইনগত স্বীকৃতি না থাকা সত্বেও তাঁরা দালালদের সাহায্যে ফ্রি ভিসায় এদেশে আসছেন। যে সকল লেবানিজ কোম্পানি এসব অবৈধ কাজের সাথে জড়িত দূতাবাস সে সব কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও তাঁরা দূতাবাসের অনুমোদন ছাড়াই বাংলাদেশ বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনকে ম্যানেজ করে ফ্রি ভিসায় লোক নিয়ে আসছে তারা আসার পরপরই অবৈধ হয়ে পড়ছে। আবার অনেকে কোম্পানি আকামা করে দেয়ার পরেও সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে অবৈধ হচ্ছে। যারা বিনা জরিমানায় দেশে যেতে চাচ্ছে এদেশের জেনারেল সিকিউরিটি থেকে তাদের ক্লিয়ারেন্স আনার পর তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে এদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইমিগ্রেশন কতৃপক্ষের সাথে দূতাবাসের সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, রোগীদের চিকিৎসা ও দ্রুত দেশে পাঠানোর বিষয়টিকে দূতাবাস সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। কিন্তু দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগীর আত্মীয় স্বজনরা রোগীকে দূতাবাসে রেখে না বলে চলে যায়! এমনকি রোগীর চিকিৎসা শেষ হওয়ার পরও তাঁকে নেয়ার জন্য কাউকে পাওয়া যায়না। ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে দূতাবাসের সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে। যাঁরা রোগী হিসেবে দেশে যাওয়ার আবেদন করেন দেখা যায় তাদের অর্ধেকের বেশী মিথ্যা বা ভূয়া রোগী। ফলে এদেশের ইমিগ্রেশন কতৃপক্ষের নিকট দূতাবাসের বিশ্বাস যোগ্যতা ইতিমধ্যে নষ্ট হয়েছে। তাঁরা এখন নিজেরা যাচাই বাছাই করছে, যে ডাক্তার সার্টিফিকেট দিয়েছে তার সাথে যাচাই করছে। গত একমাসে রোগী হিসেবে আবেদন করা তিনজন ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর এখন আর দেশে যেতে চাচ্ছে না। ফলে গত সপ্তাহ থেকে জেনারেল সিকিউরিটি সকল রোগীর জন্য ইনভেস্টিগেশন বাধ্যতামূলক করেছে। রাষ্ট্রদূত সকল প্রবাসীদের এমন অন্যায় করা দূরে থেকে দূতাবাসের কাজে সহযোগিতা করার আহবান জানান। গতকাল নিউজটি দেশ সংবাদ অনলাইন পত্রিকায় প্রচারের পর ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। অনেক প্রবাসী এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে, অনেকেই রাষ্ট্রদূত আবদুল মোতালেব সরকার এর জন্য দুহাত তোলে আল্লাহ দরবারে তাঁর সুস্থতা ও মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা কামনা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*