উপজেলা নির্বাচনে আ.লীগের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে চকরিয়ায় কলা গাছ রোপন করে অভিনব প্রতিবাদ

উপজেলা নির্বাচনে আ.লীগের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে চকরিয়ায় কলা গাছ রোপন করে অভিনব প্রতিবাদ
মোঃ নাজমুল সাঈদ সোহেল , কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে কলাগাছ রোপন করে প্রতিবাদ জানিয়েছে দলের একাংশ।গতরাতে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও উপসড়কের দুইপাশে এসব কলাগাছ রোপন করা হয়।রোববার দলের কেন্দ্রিয় কার্যালয় থেকে গিয়াস উদ্দিনকে চকরিয়া উপজেলা পরিষদে দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এ খবর পৌছার পর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদীর সমর্থকরা এলাকায় বিক্ষোভ করেন।দাবি জানান প্রার্থী পরিবর্তনের। অন্যথায় নাগরিক কমিটির ব্যানারে ফজলুল করিম চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা দেন তার সমর্থকরা।
চকরিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে মাসজুড়ে চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রত্যন্ত জনপদে চষে বেড়িয়েছেন এক ডজন সিনিয়র আওয়ামীলীগ নেতা। নির্বাচনে সকলেই আওয়ামীলীগের দলীয় টিকেট পেতে মরিয়া ছিলেন।তবে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় তৃণমুলের নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে চকরিয়া উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে চকরিয়া থেকে কেন্দ্রে নাম পাঠানো হয় তিনজন প্রার্থীর নাম। তাঁরা হলেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী, পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কক্সবাজার জেলা পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম লিটু, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ক্রীড়া সংগঠক আলহাজ ফজলুল করিম সাঈদী। এছাড়াও নৌকা প্রতীক পেতে কেন্দ্রে যোগাযোগসহ নানাভাবে লবিং করছেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম,কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা আমিনুর রশিদ দুলাল, আওয়ামীলীগ নেতা নুরে হাবিব তসলিম।সর্বশেষ গতকাল রোববার কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ড উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষনা করেন। তাতে চকরিয়া উপজেলায় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন চৌধুরীকে।
নৌকার প্রার্থী হিসেবে আওয়ামীলীগ থেকে গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর তাকে প্রত্যাখান করে চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিত অপর প্রার্থী চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি,শ্রমিক নেতা ও ক্রীড়া সংগঠকফজলুল করিম সাঈদীর সমর্থনে আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ জনগন এবং সমর্থকরা নিজেদের উদ্যোগে কলাগাছ রোপন করেছে।
জানতে চাইলে আওয়ামীলীগ নেতা ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, রাজনৈতিক জীবনে কোনদিন দল থেকে বিচ্যুত হইনি। সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছি। দলের জন্য বার বার জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। তাই তিনি জনগণের অভূতপূর্ব সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ে যাবেন এবং জননেত্রী শেখ হাসিনা ও প্রিয় নেতা জাফর আলম এমপিকে এই উপজেলা উপহার দেবেন।
উল্লেখ্য,জনগনের কাছে অধিক জনপ্রিয় ও দলের মধ্যে পরীক্ষিত কর্মীবান্ধব নেতা ফজলুল করিম সাঈদী বিগত বিএনপি জোট সরকারের আমলে তারেক জিয়া মামলার প্রধান আসামী হয়ে(কনডম সেল)সহ আড়াই বছর কারাভোগ করেন।এছাড়া বিএনপি সরকারের যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের অন্যতম প্রতিহিংসার শিকার সাঈদী। বহু নির্যাতনের বলী হয়েছেন তিনি।দলের দুঃসময়ে কখনো হাল ছাড়েনি, প্রত্যহে বিভিন্ন কর্মীদের হয়রানিসহ চরম ক্রান্তিকালে পাশে এসে দাড়িয়েছেন তৃণমূলের কর্মীবান্ধব নেতা ফজলুল করিম সাঈদী। তাই উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে সাঈদীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।তাছাড়া নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবীতে গভীর রাত পর্যন্ত কলা গাছ হাতে নিয়ে শতশত নেতাকর্মী মহাসড়কে এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তাদের একটাই দাবী তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সাঈদীকে একক প্রার্থী দেওয়া হোক, অন্যথায় স্বতন্ত প্রার্থী হিসেবে সাঈদীকে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী করে নেত্রীকে এবং চকরিয়া-পেকুয়ার নবনির্বচিত সাংসদ আলহাজ্ব জাফর আলমকে এই উপজেলা উপহার দেবেন বলে দৃড় প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*