একজন চিকিৎসক দিয়েই চলছে তালতলী হাসপাতাল

একজন চিকিৎসক দিয়েই চলছে তালতলী হাসপাতাল
মো.মিজানুর রহমান নাদিম,তালতলী  প্রতিনিধি: জনবল সংকটে বরগুনার তালতলী  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটির চিকিৎসা সেবা বিঘিন্নত হচ্ছে।একজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে তিন লাখ মানুুষের চিকিৎসা সেবা।দৈনিক গড়ে ২৫০ জন রোগী আসে হাসপাতালটিতে। চিকিৎসক না পেয়ে রোগীরা উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের সেবা নিচ্ছিল।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,তালতলীতে আগত পর্যটক ও উপকূলীয় এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র এ হাসপাতালটি।আবার হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলে ও সে গুলোর সুবিধা পাচ্ছেন না রোগীরা।রোগীদের প্রায় সব ধরনের পরীক্ষা করাতে হয় প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।হাসপাতালের মূল্যবান যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত হওয়ার ফলে একদিকে যেমন এসব যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে আবার বেসরকারি  ডায়াগনস্টিক গুলোর রমরমা বাণিজ্য। ফলে রোগীদের ব্যয় হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তালতলী উপজেলায়  প্রায় তিন লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ভবন এবং ডাক্তার, নার্স ও আয়াদের জন্য কোয়ার্টারসহ অন্যান্য বিভাগের জন্য ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করে ২০০৬ সালে পার্শ্ববর্তী আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ডেপুটেশনে ডাক্তার সহ ১৭ জন স্টাফ এনে তালতলী ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের কার্যক্রম(আন্তঃবিভাগ ছাড়াই) চালু করা হয়। হাসপাতাল চালুর ২ মাসের মাথায় স্টাফদের ডেপুটেশন বাতিল হলে তারা আমতলী হাসপাতালে ফিরে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় তালতলী হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম।পরে স্থানীয় সংসদ সদ্যস  অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ১২বৎসর পর ফের হাসপাতালটির  ইনডোর ও আউটডোর চালু করেন ২০১৮ সালে ২৫শে ফেব্রুয়ারি বর্তমানে হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত নেই সংখ্যক জনবল। প্রতিনিয়ত পর্যটক সহ এলাকাবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বর্হিবিভাগে শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে ভিড় করছেন।ডা. মেজবাহ উল ইসলাম চৌধুরী একা তাদের চিকিৎসা  দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। তালতলী আধুনিক দ্বিতল চিকিৎসা ভবন, সেবিকা ভবন, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য দুটি আবাসিক ভবন,থাকলে ও বসবাস করার মত উপযোগী নেই ভিতরের কোয়ার্টার গুলো খুবই নোংরা হাসপাতালের চারপাশে ময়লা আবর্জনায় ভরে রয়েছে। হাসপাতালের বাউন্ডারির ভিতর অবাদ গরু ছাগল বিচারন করে।স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার, সাতটি ইউনিয়ন প্রায়় তিন লাাখ মানুষ বসবাসরত একজন চিকিৎসক থেকে কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। এ ছাড়া সোনাকাটা ইকোপার্ক ও শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকরা অসুস্থ্য হয়ে পড়লে  আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা পটুয়াখালী-বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে বাধ্য হচ্ছে। বর্তমানে ১জন ডাক্তার আর তিন জন নার্স ছাড়া বাকি সব পদ শূন্য রয়েছে। তালতলী উপজেলা হলে ও হাসপাতালটি এখনো পার্শবর্তী উপজেলা আমতলী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির সাবসেন্টার হিসাবে কাগজ-কলমে ব্যবহৃত হচ্ছে। অথচ ২০১০ সালের ৬ মে তালতলীকে উপজেলা ঘোষণা করে সরকার উপজেলা ঘোষণার ৯ বৎসর পার হলে ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পায়নি তালতলী উপজেলা বাসি।
এ বিষয় তালতলী উপজেলা আওয়ামীলীগের      সভাপতি জনাব,রেজবীউল কবীর জোমাদ্দার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তালতলী উপজেলা বাসীর আকুল আবেদন যেহেতু তালতলী উপজেলা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান এবং এই তালতলী তার নির্বাচিত এলাকা তাই আমি মনে করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের এই হাসপাতাল ২০ শয্যা থেকে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট অথবা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট একটি উন্নত মানের হাসপাতাল তৈরি করে দিবেন।
তালতলী উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডা.মেজবাউল হক চৌধুরী বলেন, বর্তমানে হাসপাতালটিতে আমি ছাড়া আর কোনো মেডিকেল অফিসার নেই। উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা রোগীদেরকে সেবা দেয়া আমার একার পক্ষে খুবই কষ্ট সাধ্য ব্যাপার। আমার বিভিন্ন সময় ট্রেনিং প্রশাসনিক কাজ কর্ম আমাকে দেখতে হয়। সব মিলিয়ে রোগীদের সেবা দেয়া সম্ভব হয় না।
আমার বাবা অসুস্থ থাকার পরে ও চিকিৎসক সংকটের কারণে ছুটি নিতে পারিনা।
সিভিল সার্জন হুমায়ন শাহীন বলেন, তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক–সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসকসহ জনবল পদায়নের জন্য জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*