প্রাঃ বিদ্যালয়ে বিস্কুট দেওয়া হয় কিন্তুু আমাদের স্কুলে দেয়না কেন?

প্রশিপস্ ইসলামপুর অটিজম ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় আর্থিক সংকট নিয়মিত পাঠদান অব্যাহত
প্রাঃ বিদ্যালয়ে বিস্কুট দেওয়া হয় কিন্তুু আমাদের স্কুলে দেয়না কেন?
রোকনুজ্জামান সবুজ , জামালপুর ঃ জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায় স্থানীয় বেসরকারী সংস্থা প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষা ও পরিচর্যা সমিতি,র (প্রশিপস্) প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এমনই মন্তব্য করেন সবার স্কুলে বিস্কুট দেওয়া হয় কিন্তুু আমাদের স্কুলে দেয়না কেন? প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের এমন প্রশ্ন নিত্যদিনের । বিস্কুট দিতে না পেরে কর্তৃপক্ষও উত্তরহীন এবং নিরুপায় হয়ে যায়। স্কুলের ব্লাক বোর্ডটিও ভাঙ্গা। ১৯৯৯ সালে ইসলামপুর ডিগ্রী কলেজের সহযোগিতায় অব্যবহৃত শ্রেনী কক্ষে ইসলামপুর প্রশিপস্ অটিজম ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় যাত্রা শুরু হয়। বিদ্যালয়টি সে সময়কার ভুমি প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব রাশেদ মোশারফের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত শিশুদের সমাজের মুল¯্রােতধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষে শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। ২০ জন বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে শিক্ষার জন্য যাত্রা শুরু হয়ে বর্তমানে শতাধিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী অধ্যয়ন রয়েছে এবং আরো শতাধিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী সমাজের সাধারন বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার উপযোগি হয়ে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে বলে অত্র স্কুলের কর্তৃপক্ষ জানান। বর্তমানে বিদ্যালয়টি ইসলামমপুর পেীরসভায় কাচারী পাড়ায় মনোরম পরিবেশে অবকাঠামোসহ ভুমি অফিস সংলগ্ন মাঠের পাশে পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের নিজস্ব নামে ২০ শতাংশ জমি রয়েছে । বিদ্যালয়ে প্রতি শ্রেনীকক্ষে দশজন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীর মৈনন্দিন কাজের দক্ষতা অর্জন, যোগাযোগ দক্ষতা ,নিজের যতœ নেয়া, সামাজিক দক্ষতাতৈরী , প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে নিজে পরিচালনা করতে পারা এবং সাধারন বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার উপযোগী করার লক্ষে পাঠদান করা হচ্ছে। অটিজম ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেগম রোকেয়া সরদার জানান- ইসলামপুর উপজেলায় গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর চরম দারিদ্র পীড়িত এলাকা হিসেবে অত্র উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরের খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্য স্কুল ফিডিং কর্মসুচি বাস্তবায়ন করছে। এই কর্মসুচির আওতায় এলাকার সকল প্রাইমারী বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে উচ্চশক্তিসম্পন্ন বিস্কুট বিতরন করা হচ্ছে। কিন্তু পৌরশহরে প্রতিবন্ধী অটিজম ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা এই কর্মসুচির আওতায় বাইরে রয়েছে এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা স্কুল ফিডিং কর্মসুচির বিস্কুট থেকে বঞ্চিত। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে বিস্কুটের আবেদন করেন এবং তাদের আকুতি অন্য স্কুলে বিস্কুট দেওয়া হয় কিšতু আমাদের স্কুলে দেয়না কেন? প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের এমন প্রশ্ন নিত্যদিনের । বিস্কুট দিতে না পেরে আমরাও উত্তরহীন এবং নিরুপায়। বিস্কুট না পেয়ে প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীরা অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন। চরম দারিদ্র পীড়িত এলাকার অন্যান্য শিশুদের মতোই প্রতিবন্ধী শিশুদেরও পুষ্টি চাহিদার অভাবে রয়েছে। অধিক পুষ্টি সম্পন্ন বিস্কুট প্রাপ্তি থেকে অটিজম ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা বাদ থেকে যা্েছ। দারিদ্র পীড়িত এলাকা হিসেবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর এবং বুদ্ধিবৃত্তি বিকাশের জন্য অধিক গুনমান সমৃদ্ধ বিস্কুট বিতরন কর্মসুচিতে অন্তভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আবেদন জানান। অপর শিক্ষকবৃন্দ মিতালী আকতার ও লিপি আকতার জানান -সংস্থার বর্তমানে আর্থিক সংকট থাকায় নিয়মিত বেতনভাতা পাইনা তবুও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরদের জন্য পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। বিদ্যালয় পরিচালনাকারী সংস্থার নির্বাহী প্রধান রফিকুল ইসলাম বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনভাতা প্রদানের জন্য সরকারী সহায়তা কামনা করেন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা মেটানো এবং বুদ্ধিবৃত্তি বিকাশের জন্য অধিক গুনমান সমৃদ্ধ বিস্কুট প্রয়োজন এবং উক্ত চলমান স্কুল ফিডিং কর্মসুচিতে অন্তভুক্তির আবেদন জানান। ইসলামপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মির্জা নিজোয়ারা বলেন, অটিজম ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি পরিচালনা করা একটি মহৎ উদ্যোগ আমি পথমেই এর কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই। স্কুলটিতে আমি আমার স্বাধ্যমতো সহযোগিতা করে থাকি। যদি আরও বড় ধরনের সহযোগিতা করা যেতো তাহলে স্কুলটি আরও অনেক ভাল চলতো। এর জন্যে প্রয়োজন সরকারী সহযোগিতা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা মেটানো এবং বুদ্ধিবৃত্তি বিকাশের জন্য অধিক গুনমান সমৃদ্ধ বিস্কুট স্কুল ফিডিং কর্মসুচিতে অন্তভুক্তি করে দেওয়া হবে। আর যদি তা না হয় তাহলে আমরা ব্যাক্তিগত ভাবে ব্যবস্থা করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*