পান-সুপারির কদর

পান-সুপারির কদর

হেলাল আহমদঃ ভোজনরসিকদের কাছে পান-সুপারির কদর আলাদা। এ দেশে অতিথি আপ্যায়নের ক্ষেত্রেও পান-সুপারির ব্যবহার বেশ পুরনো। এর অবশ্য ভিন্ন আবেদন রয়েছে সিলেটবাসীর কাছে।জনপ্রিয় এ পদটি খেতে সুস্বাদু হলেও রয়েছে ক্যানসারের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা। সম্প্রতি এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। পানের সঙ্গে সুপারি, জর্দা, চুনসহ আরও বেশ কিছু পদ মিশিয়ে এটি খাওয়া হয়। এ মিশ্রণেই মূলত ক্যানসারের ঝুঁকি রয়েছে বলে মত চিকিৎসকদের। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়ার মুখে ক্যান্সার রোগ ধরা পড়ে অতিরিক্ত পান খাওয়ার কারণে। ঢাকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অধ্যাপক কিবরিয়াকে সে কথাই জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি ১৯৭৮ সাল থেকে পান খাওয়া শুরু করি। তখন আমি উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী। এখন অবশ্য পান খাওয়া বাদ দিয়েছি।’ সিলেটের ঘরে ঘরে পান একটি অতি পরিচিত মুখরোচক খাবারবিশেষ। সাধারণত অতিথি আপ্যায়নে কিংবা কোনো বৈঠকে আলোচনা শুরু করার উপলক্ষ হিসেবে পানের ব্যবহার দেখা যায়। মূলত পান, সুপারি, চুন ও নানা রকমের জর্দা (তামাক জাতীয় দ্রব্য), খয়ের ইত্যাদি একসঙ্গে খাওয়াকেই পান খাওয়া বোঝায়। আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএআরসির মতে, চুন ও সুপারি দিয়ে পান খেলে মুখের ক্যানসার হতে পারে। তাই যারা পানের সঙ্গে তামাকজাতীয় দ্রব্যাদি গ্রহণ করেন তাদের সাধারণের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি ওরাল ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোয়াজ্জেম আলী খান বলেন, ‘পান-সুপারি খাওয়ার কারণে মুখে আলসার, ক্যানসারসহ নানা রোগ হতে পারে। তবে কতটুকু পান-সুপারি খেলে এ রোগ হতে পারে তা চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্পষ্ট করা হয়নি। যে খাবার রোগ সৃষ্টি করে তা বর্জন করা শ্রেয়।’ এক গবেষণায় দেখা গেছে, চুনসহ সুপারি দিয়ে পান খেলে মুখের ক্যানসারের ঝুঁকি ৯.৯ গুণ (জর্দাসহ) এবং ৮.৪ গুণ ( জর্দা ছাড়া)। চুনে রয়েছে প্যারা অ্যালোন ফেনল, যা মুখে আলসার সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের ঘা ধীরে ধীরে ক্যানসারে রূপান্তরিত হতে পারে। কাঁচা সুপারিতে রয়েছে উচ্চমাত্রার সাইকোএকটিভ এলকালয়েড। এ কারণে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সুপারি চিবোলে শরীরে গরম অনুভূত হয়, এমনকি শরীর ঘেমে যেতে পারে। সুপারি খেলে তাৎক্ষণিক যেসব সমস্যা দেখা যায়, সেগুলো হলো—অ্যাজমা বেড়ে যেতে পারে, হাইপারটেনশন বা রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে পানে রয়েছে টারফেনলস। পান খাওয়ার কারণে ঠোঁট ও জিহ্বাতে দাগ পড়ে যায়। পানের উপকারিতাও কিন্তু কম নয়। পান পাচনশক্তি বৃদ্ধি, আওয়াজ পরিষ্কার করতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। পানের সাথে গোলমরিচ, লবঙ্গ মিশিয়ে খেলে কাশি কমে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*