কুষ্টিয়ায় অবৈধ ডিস কন্ট্রোলরুমে সিলগালা

কুষ্টিয়ায় অবৈধ ডিস কন্ট্রোলরুমে সিলগালা
এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, কুষ্টিয়া ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজোত সীমান্ত এলাকার অবৈধ ডিসের কন্ট্রোলরুম ফের সিল করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। ভাগজোত এলাকার ইমদাদুল হকের ছেলে মিন্নাত আলী স্থানীয় রামকৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ ম-লের ছেলেকে ব্যবসায়ী পার্টনার বানিয়ে ওই চেয়ারম্যানের বাড়িতে অবৈধভাবে ডিস ব্যবসার কন্ট্রোলরুম বসিয়ে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে ডিস ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিন্নাত আলী বাংলালিংক ডিস ক্যাবল নেটওয়ার্ক নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে জোরপূর্বক এলাকার গ্রাহকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ডিস সংযোগ নিতে বাধ্য করার ফলে কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন ২০০৬ এর ১৭ (৫) ধারা সুস্পষ্টভাবে লংঘনের দায়ে দোষী হন। এ কারণে বিটিভির কন্ট্রোলার/লাইসেন্স ম্যানেজার ২০১৭ সালের ১৮ অক্টোবর বাংলালিংক ডিস ক্যাবল নেটওয়ার্কের অবৈধ কর্মকা- বন্ধ করার জন্য কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে গত বছরের ৮ মার্চ তখনকার জেলা প্রশাসক জহির রায়হানের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ প্রতিম শীল দৌলতপুর উপজেলার ভাগজোত সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ ম-লের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সেখানে অবস্থিত অবৈধ ডিসের কন্ট্রোলরুম সিল করে দেন। তবে ম্যাজিস্ট্রেট চলে যাওয়ার পরেই তারা পেছন দরজা ভেঙে সিল করা কন্ট্রোলরুমে প্রবেশ করে পুনরায় ডিস ব্যবসা শুরু করেন। এ ঘটনায় রামকৃষ্ণপুর ক্যাবল নেটওয়ার্কের সত্ত্বাধিকারী গিয়াস উদ্দিন বিটিভি কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবগত করায় ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন ২০০৬ এর ২০ ধারা মোতাবেক ওই বছরের ৮ মে বাংলালিংক ডিস ক্যাবল নেটওয়ার্কের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়ার জন্য বিটিভির কন্ট্রোলার/লাইসেন্স ম্যানেজার জেলা প্রশাসককে পুনরায় নির্দেশ দেন। বিটিভি কর্তৃক এই নির্দেশনার পর জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেনের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ প্রতিম শীল ফের বুধবার (১৩ মার্চ) ভাগজোত সীমান্তে সিরাজ চেয়ারম্যানের বাড়িতে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালান। এ সময় সেখানে অবস্থিত অবৈধ ডিসের কন্ট্রোলরুমটি আবারও সিল করে দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ প্রতিম শীল। এ অভিযানকালে অবৈধভাবে পরিচালিত বাংলালিংক ডিস ক্যাবল নেটওয়ার্কের মালিক মিন্নাত আলীকে আটক করা হলে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান তিনি। কন্ট্রোলরুমের ছাদে লাগানো ডিস সংযোগের সিগন্যাল এন্টেনা দ্রুত সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ প্রতিম শীল। ওই প্রতিষ্ঠানটি সরকারি নিয়ম ভঙ্গ করে এবং সরকারকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ডিস ব্যবসা চালিয়ে আসলেও অবশেষে জেলা প্রশাসন সেটি বন্ধ করে দেয়ায় ভুক্তভোগী রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নবাসীর কাছে প্রশংসিত হয়েছেন জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*