নোয়াখালীর সেনবাগের চেয়ারম্যান জেড.এ,চৌধুরী

নোয়াখালীর সেনবাগের চেয়ারম্যান জেড.এ,চৌধুরী
জাহাঙ্গীর বাবু :: ধারণা ছিলো নির্বাচনী ৩১ মার্চ ২০১৯ নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে,নিজেরা নিজেরা লড়াই করে হলেও সেনবাগবাসীকে দেখাবে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন।একটু ভোটের আমেজ।ভোট শব্দটি কি বিলুপ্ত হবে কিনা তাও উড়িয়ে দেয়া যায়না। তবে খরচ আর নিজেদের মধ্য টানাপোড়েন  ভিতরে অন্তর্দহন থাকলেও প্রকাশ্যে যে কোন দলকে একজোট,এক কাতারে দেখতে ভালোই লাগে।
সেনবাগ এর সাথে  আর সোনাইমুড়ীর আংশিক যুক্ত হবার পর সংসদ নির্বাচনে হেভী ওয়েট প্রার্থীর এলাকায় পরিনত হয়েছে নোয়াখালী-২  সেনবাগ সোনাইমুড়ী আংশিক।
 অর্থ,বিত্ত,যশ,খ্যাতিতে জন পাঁচেকতো পারদের উপরেই আছেন। এমন অবস্থায় আওয়ামীলীগ কাকে রেখে কাকে দেবে নমিনেশন।বলছিলাম গেল সংসদ নির্বাচনের কথা। অন্য দলের প্রার্থীরা,না থাক,  এখন ও সব বাদ রেখেই টিক টিক করে সময় ঘুরছে তার মতো। 
সংসদে কিংবা দলীয় মনোনয়ন পাওয়া মানেই জিতে যাওয়া।কেন? বাদ দেন না, বিস্তারিত সবাই জানে কেন,এর উত্তর।ধারাবাহিকতার শুরু যারা করেছে তারাই মাজড়াশার জালে,রাজনীতির খেলায়।
সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পছন্দে তৃনমুলের পছন্দ ছিলেন জাফর আহম্মদ চৌধুরী তিনি দীর্ঘ কালের ত্যাগী নেতা,একবার নমিনেশন পেয়েছিলেন নৌকা নিয়ে।সেবার ভোট ত্যাগ করেছে দল।এর আগে করেছিলেন স্বতন্ত্র।
লায়ন মানিক সাহেব মুক্তিযোদ্ধার সন্তান,হেভী ওয়েট ব্যাবসায়ী।কদর ও আছে এলাকায়।তবে সংসদে যাবার ইচ্ছা এবার না যাওয়ার মতোই ছিলো।
সবচেয়ে ডেশিং আর দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন তমা মানিক, মানে আতাউর রহমান মানিক। এই বুঝি পেয়েই গেলেন এম পি নমিনেশন,জনপ্রিয়তার তুঙ্গেই তার হিসাব নিকাষ। 
জামাল উদ্দিন এফ সি এ,নৌকা নিয়ে নির্বাচন করেছেন,বিশাল অর্থনীতিবিধ।অর্থনীতি সমিতির সাঃসম্পাদক জনপ্রিয়তাও বেশ।যদিও কথায় কাট খোট্টা।
সব কিছুকে ছাপিয়ে গতবারের বিনা ভোটের আমলের সাংসদ হয়েই সেনবাগে মোরশেদ আলম এর জনপ্রিয়তার শুরু।পাঁচ বছরে উন্নয়ন করে এগিয়েছেন বেশ।উন্নয়ন কি কি তা অন্য সময়ে বলা যাবে।তাদের পোষ্টারে ব্যানারে ছবি সহ আছে। তমা মানিক নৌকা পেয়ে যাবেন যাচ্ছেন এর ধ্যান ধারনা জল্পনা কল্পনা যখন চায়ের টেবিল থেকে ঘরে বাইরে ফেসবুকে তখনি বর্ষিয়ান মোরশেদ আলম আবারো নৌকা নিয়ে ছক্কা আর সেঞ্চুরীর স্বাদ নিলেন।তিনিই এখন সেনবাগের সাংসদ।
আওয়ামীলীগ যুবলীগ অন্য অঙ্গ সংগঠন এর সদস্যরা এই ক’জন হেভী ওয়েটের সাথে ভাগা ভাগি করেই চলছেন। বেশ কয়েক জন আছেন আবার সবার সাথে। মার্কা মানে প্রতীক বা মনোনীত হলেই সবাই কম বেশি একসাথেই চলেন। এট লিষ্ট উপরে উপরে। অন্দর মহল আর অন্তরে কিন্তু দলীয় কর্মীদের রক্ত ক্ষরণ।নিজ নেতা বার বার বঞ্চিত মনোনয়ন থেকে।মেনে নিতে কষ্ট হয় কর্মীদের। 
অর্থ,বিত্ত,প্রতাপশালী হেভী ওয়েটদের জন্য সংসদ নির্বাচন,উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন আর পৌরসভা মেয়র নির্বাচন। সংসদ নির্বাচন শেষ। পৌরসভা মেয়র নির্বাচন  বহুদুর,কে জানে কি হয় তত দিনে রাজনীতির প্রেক্ষাপট।তাই উপজেলা নির্বাচনে আবার তমা মানিক সাহেবের সমর্থকরা আশা করেছিলেন তাদের নেতা এইবার চেয়ারম্যান হবেন।কিন্তু তিনি মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন কিনা তাও অনেকে জানেনা। 
সর্বদল আর সর্বজন বিদিত, নন্দিত,আর দীর্ঘ দিনের ত্যাগে এবার চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য নৌকা পেলেন আলহাজ্ব জাফর চৌধুরী নির্বাচন হলে তার জয় প্রায় নিশ্চিত ছিলো।এর মাঝে আওয়ামীলীগ থেকেই বিরুধী স্বতন্ত্র প্রার্থী লায়ন জাহাঙ্গীর আলম মানিক এর নাম  চলে আশায় সেনবাগ বাসী একটা নির্বাচনী আমেজ পাবে আশা করেছিলো। 
আওয়ামীলীগের বিপক্ষে আওয়ামিলীগ দেখতে শুনতে বেখাপ্পা লাগে। তাই হয়তো দুপুর,বিকাল পেরিয়ে রাত অবধি ঢাকার  সভা শেষে কিছুটা আভাস ছিলো একক প্রার্থী জাফর চৌধুরী হচ্ছেন।তবু যেন শেষ হয়েও হয়না শেষ।
অবশেষে হেলিকপ্টারে উড়ে এলেন আতাউর রহমান মানিক। যদিও নমিনেশন এর পরো তারা মিলিত হয়েছেন। ১৩ মার্চ সকালেও এলেন তমা মানিক সাহেবের  বাড়িতে এলেন জাফর সাহেব।
বাড়ীর উপর তখনো শোভা পাচ্ছে তৌহিদা ভিলেজের হেলিপ্যাড কাম ছাদে হেলিকপাটার।বাড়ী ভরা নেতা,কর্মী, সমর্থক। কর্মীদের আক্ষেপের সময় তার বাড়িতেই বললেন,আমি,আমরা সবাই আওয়ামীলীগ।  আতাউর রহমান মানিক গাড়ির বহর নিয়ে হাজির হলেন লায়ন জাহাঙ্গীর আলম মানিকের দরবারে।তার প্রতিষ্টিত মহিলা কলেজেই হলো সেনবাগ আওয়ামীলীগ কর্মী সমর্থকদের মহামিলন। ভাষনে হাত তালি।জয়বাংলা শ্লোগান।দুই মানিক আর জাফর চৌধুরী হাত উঁচিয়ে জানান দিলেন সেনবাগ আওয়ামীলীগ এক অভিন্ন।
জাফর চৌধুরী বরণ করেন মালা দিয়ে লায়ন মানিককে। লায়ন মানিক সরে দাঁড়ালেন চেয়ারম্যান পদের ভোটের লড়াই থেকে।সেনবাগ বাসী ভোট থেকে বঞ্চিত হলেও ভোট ঝামেলা মুক্ত চেয়ারম্যান এখন।ঝামেলা মুক্ত দল, সমর্থক,ভোটার গন। কম্প্রোমাইজ বা লায়ন মানিকের সরে যাওয়া নিয়ে লবিং গ্রুপিং জাম্পিং মেন্টাল হেমারিং হয়েছে অনেক,টেনশন উত্তেজনা ছিল হালাকা।সমঝোতার উদ্যাগ অনেকে হয়তো নিয়েছে।বসেছে একাধিক বৈঠিকে কিন্তু আপাত দৃষ্টিতে হেলিকপ্টারে উড়ে এসে কফিনের শেষ পেরেক ঠুকলেন আতাউর রহমান মানিক ওরফে তমা মানিক। জনপ্রিয়তায় আরো এগিয়ে গেলেন ভাবছেন তার সমর্থকরা।শেষ সমঝোতার নায়ক আতাউর রহমান ভুইয়া মানিক।
নির্বাচনের আগেই নির্বাচিত হলেন আলহাজ্ব জাফর আহাম্মদ চৌধুরী। যদিও নির্বাচন না হলে নির্বাচিত শব্দটি লেখা বেমানআন।সেনবাগ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আলহাজ্ব জাফর আহাম্মদ চৌধুরী  ভোটের পূর্বেই চেয়ারম্যান হলেন। ১৩-৩-২০১৯ তাকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন,সমদলীয় স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বী লায়ন  জাহাঙ্গীর আলম মানিক। শুভেচ্ছা শুভকামনা চেয়ারম্যান জেড এ চৌধুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*