স্বাধীনতা সংগ্রামে ওলামায়ে দেওবন্দের অবদান অনস্বীকার্য

স্বাধীনতা সংগ্রামে ওলামায়ে দেওবন্দের অবদান অনস্বীকার্য
নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার খতমে বুখারীতে দেওবন্দের প্রিন্সিপ্যাল

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম):দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন ইসলামী শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র আল জামিয়াতুল আরবিয়া নছিরুল ইসলাম নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স) সমাপনী ছাত্রদের  খতমে বুখারী ও পাগড়ী  প্রদান অনুষ্ঠান ২৪ মার্চ রবিবার মাদ্রাসা মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে দাওয়ারে হাদীস(মাস্টার্স) ছাত্রদেরকে সমাপনী পাঠ প্রদান করেন,  বিশ্ববিখ্যাত ইসলামী শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র দারুল উলুম দেওবন্দ ভারতের প্রিন্সিপ্যাল ও বিশ্ব বরেণ্য ইসলামী ব্যক্তিত্ব আল্লামা আবুল কাসেম নোমানী। 
প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপ্যাল ও শায়খুল হাদীস আল্লামা শাহ মুহাম্মদ ইদ্রিসের সভাপতিত্বে এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আল্লামা মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী, আল্লামা কাসেম, আল্লামা হাফেজ জাফর আহমদ, আল্লামা হাফেজ হাবিবুল্লাহ নদভী, আল্লামা মুফতী এরশাদ, মুফতী রবিউল হাসান, মাওলানা সালাহ উদ্দীন প্রমুখ।
 এছাড়া, আলেম-ওলামা, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের  প্রশাসনিক কর্মকর্তা সহ সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ জনতা এতে অংশগ্রহণ করেন। 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দারুল উলুম দেওবন্দের প্রিন্সিপ্যাল আল্লামা কাসেম নোমানী বলেন, “ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম সহ বিশ্ব স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল আন্দোলন-সংগ্রামে ওলামায়ে দেওবন্দের অবদান অনস্বীকার্য। ১৮৬৬ সনে দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়ে আজ অবধি ইসলাম, দেশ ও মানবতার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।” এ ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি
স্বাগত বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের সহকারী পরিচালক  ও শায়খুল হাদীস মুফতী হাবিবুর রহমান কাসেমী বলেন, “আমাদের অত্র প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের আদর্শ ও কারিকুলাম উপর ভিত্তি করে ১৯১২ সনে প্রতিষ্ঠিত হয় হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতাগণের মোবারক হাতেই। সেই থেকে এ মাদ্রাসা হাজার হাজার আলেম, হাফেজ, মুফতী, মুহাদ্দিস, লেখক, গবেষক সর্বোপরি মানবতার সেবক তৈরী করে যাচ্ছে।”  এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার প্রতি মাদ্রাসার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। 
 অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আল্লামা আবুল কাসেম নোমানীকে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। তা পাঠ করে শুনান মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক, দারুল উলুম দেওবন্দ ও নদওয়ার ফাযেল মুফতী আব্দুল হাকীম কাসেমী।
পরে বিশ্ব শান্তি ও জাতির কল্যাণ কামনা করে মুনাজাত পরিচালনা করেন আল্লামা কাসেম নোমানী।এর আগে দুপুর ১২ টা নাগাদ হেলিকপ্টারযোগে নাজিরহাট আদর্শ স্কুল মাঠে অবতরণ করেন প্রধান অতিথি কাসেম নোমানী। সেখান থেকে   মাদ্রাসার সহস্রাধিক ছাত্র-শিক্ষক ও সর্বস্তরের জনতার অভ্যর্থনার মধ্যদিয়ে খতমে বুখারী অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিশ্ববরেণ্য এ ব্যক্তিত্ব। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*