অধ্যক্ষ ডা. আবদুল করিম শিক্ষা, চিকিৎসা ও সমাজসেবায় একটি নাম

অধ্যক্ষ ডা. আবদুল করিম শিক্ষা, চিকিৎসা ও সমাজসেবায় একটি নাম
মাহমুদুল হক আনসারী

অধ্যক্ষ ডা. আবদুল করিম শিক্ষা, সংস্কৃতি, চিকিৎসা এবং মানবতার কল্যাণে নিবেদিত একটি নাম। চট্টগ্রামসহ সারাদেশে হোমিওপ্যাথির প্রচার, প্রসারে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে হোমিওপ্যাথি জগতে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সারাদেশের হাজার হাজার হোমিও চিকিৎসকদের সুসংগঠিত করে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে হোমিও চিকিৎসাকে সহজলভ্য করার জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পর্যন্ত হোমিও চিকিৎসকদের ন্যায্য অধিকার পৌছানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। পাশাপাশি তিনি হোমিও হীলিং হোম নামক সর্বাধুনিক চিকিৎসা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। হোমিওপ্যাথি গবেষণা ও প্রকাশনা পরিষদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে হোমিও চিকিৎসা জগতে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহের প্রতিদিনই সকাল বিকেল অজপাড়াগাঁ গ্রাম থেকে জটিল কঠিন ও দূরারোগ্য ব্যাধিতে দীর্ঘদিনের আক্রান্ত রোগীগণ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠছেন। স্বল্পমূল্যে অত্যন্ত আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে এ প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রেখেছেন। বলা যায়, আলহাজ্ব অধ্যক্ষ ডা. আবদুল করিম হোমিও চিকিৎসার এক বিরল উজ্জ¦ল প্রদীপ। এখানে উল্লেখ্য হোমিওপ্যঅথির আবিস্কারক ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের জন্মদিন ১০ এপ্রিলকে ‘হোমিওপ্যাথি দিবস’ হিসেবে পালন করার জন্য তিনিই সর্বপ্রথম দেশের একমাত্র নিয়মিত রেজিস্ট্রার্ড হোমিও পত্রিকা ‘হোমিও চেতনার’ মাধ্যমে বিগত ২০০৫ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডকে আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং প্রথম বারের মত তিনিই বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সরকার প্রতিনিধি থাকাকালীন সময় বোর্ডে এই প্রস্তাব উত্তাপন করেন। এজন্য হোমিও সমাজও তাঁর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞ। বর্তমানে ১০ এপ্রিল সারাদেশে বোর্ড চেয়ারম্যান ডা. দিলীপ কুমার রায় এর নির্দেশে ও রেজিস্ট্রার ডা. জাহাঙ্গীর আলমের বলিষ্ঠ ভূমিকায় ‘হোমিওপ্যাথি দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। চিকিৎসার সাথে চট্টগ্রামের ধর্মীয় সামাজিক অরাজনৈতিক কর্মকান্ডে ডা. করিমের পদচারণা প্রায় অর্ধশতাব্দী। তিনি চট্টগ্রামের ধর্মীয় মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, গীর্জা সহ বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মকান্ডে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছেন। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম ঈদ জামাত কমিটির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল। এ সংগঠনের মাধ্যমে চট্টগ্রামের ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের আন্তরিক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবছর মাহে রমজানুল মোবারককে স্বাগত জানিয়ে এতিম গরীব অসহায় দুস্থদের মাঝে নতুন কাপড় চোপড় ও অন্যান্য ঈদ সামগ্রী বিতরণ করে থাকেন। এর অধীনে দুঃস্থ মহিলাদের পূনর্বাসনে সেলাই মেশিন প্রদান প্রকল্প ও পরিচালনা করেন তিনি। বলা যায়, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এসব কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকেন। তিনি শিক্ষা ও মানব কল্যাণমূলক কর্মকান্ড প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম শিক্ষা কল্যাণ ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। এ সংগঠনের মাধ্যমে মহান এ ব্যাক্তি চট্টগ্রামের অসংখ্য এতিম দরিদ্র অসহায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে শিক্ষাবৃত্তি দেয়া সহ বিভিন্ন ছাত্রছাত্রীদের বই খাতা কলমসহ আর্থিক সাহায্য করে থাকেন। এছাড়াও তিনি আল্লাহর ঘরের মেহমান মহান হাজী সাহেবানদের কল্যাণে হজ্বযাত্রী কল্যাণ পরিষদের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিবছর এই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আল্লাহর ঘরের মেহমানদের হজ্ব প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকেন। হাজীদের ন্যায্য অধিকার রাষ্ট্রীয় জাতীয় আন্তর্জাতিক সুযোগ সুবিধা প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সর্বোচ্চ পর্যায়ে চেষ্টা করে থাকেন। তিনি বিশ্ব শান্তি শৃংখলা ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বজনীন শান্তি সংঘ এর চেয়ারম্যান হিসেবে বর্তমানে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। তিনি এ সংগঠনের মাধ্যমে পৃথিবীর সব ধর্ম গোত্র মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাঁর বিভিন্ন মানবীয় বাণী ও বক্তব্য পৃথিবীর ক্ষমতাধর নেতৃবৃন্দের নিকট পৌছে যাচ্ছে। অকাতরে তিনি ইসলাম ও অন্যসব ধর্মের অনুসারীদের ভ্রাতৃত্ববোধ ও একতা শৃংখলা রক্ষার মাধ্যমে আন্তঃধর্মীয় শৃংখলা রক্ষার কথা বলে যাচ্ছেন। বলা যায়, মহান এ ব্যাক্তি এ যুগের একজন মহান মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব। তিনি চট্টগ্রামের পেরেন্টস্ কেয়ার স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে এ কলেজের সার্বিক উন্নতি অগ্রগতির জন্যে চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখছেন। এ স্কুলের শিক্ষার মান উন্নতিকল্পে তার অবদান ও ত্যাগ চট্টগ্রামের শিক্ষাঙ্গণে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করায় কতিপয় মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে মহান এ ব্যাক্তি এবং তার অনুসারীদের উপর ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে। তার ফলশ্র“তিতে গত ২০ মার্চ ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে স্কুলের সভায় চট্টগ্রামের একটি রাজনৈতিক দলের নেতা কোন কথাবার্তা ছাড়া অতর্কিতভাবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ সভায় ন্যাক্কারজনকভাবে হামলা চালিয়েছেন। হামলার কারণে চশিক ফাউন্ডেশনের এক জরুরী সাধারণ সভায় উক্ত ভুমিদস্যু খ্যাত জাপা নেতাকে ফাউন্ডেশন থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় স্কুলের নামে ক্রয়কৃত চট্টগ্রাম বোয়ালখালী উপজেলার একটি জমি আত্মসাৎ করার মানসে এ ধরনের ঘৃনীত ও ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। সমাজের একাধারে চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক, ধর্মানুরাগী, মানবতাবাদী একজন মহান ব্যাক্তির প্রতিষ্ঠানে ও অধ্যক্ষ শিক্ষকদের উপর কাপুরুসুচিত ন্যাক্কারজনক হামলার মাধ্যমে উক্ত ব্যক্তি সমাজে একটি নতুন সন্ত্রাসী অধ্যায়ের সূচনা করল। এ ধরনের জঘন্য আচরণের প্রতিবাদের ভাষা সমাজের সুশিল সমাজ হারিয়ে ফেলেছে। শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষানুরাগী মানুষের উপর হামলা আক্রমণ ও অনৈতিক অশোভন আচরণ কখনোই সমাজের সুশীল সমাজ মেনে নেবে না। তাই তার এ গর্হিত লজ্জিত কর্মকান্ডে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের চিকিৎসক সমাজ, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবিসহ বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর মানুষগণ নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং যা অব্যাহত রেখেছে। শিক্ষাঙ্গণকে কলুষিত করার মাধ্যমে স্কুল চালাতে অক্ষম হওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমি বিক্রয় করতে বাধ্য হলে উক্ত জমি আত্মসাৎ করতে পারবে। এ ধরণের ষড়যন্ত্র কোন শান্তি প্রিয় বিবেগবান ব্যক্তি বা সংগঠন মেনে নেবে না। দেশের বিভিন্ন ব্যক্তি, সংগঠন ও সুশীল সমাজ শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধী ওই ব্যাক্তিকে আইনের মাধ্যমে কঠোর শাস্তি দাবি করেছে। অন্যথায় শিক্ষা সংস্কৃতি মানবসেবার মহতি উদ্যোগ সমাজ থেকে হারিয়ে যেতে বেশি সময় লাগবে না।
লেখক : গবেষক, প্রাবন্ধিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*