বাবা ভা-ারীর ওরশ শরীফে আশেক ভক্তের সমাগমে মুখরিত মাইজভা-ার দরবার শরীফ

বাবা ভা-ারীর ওরশ শরীফে আশেক ভক্তের সমাগমে মুখরিত মাইজভা-ার দরবার শরীফ

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি :: মাইজভা-ার দরবার শরীফের মহান আধ্যাত্বিক সাধক হযরত সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভা-ারী (কঃ) এর মহান ২২ চৈত্র বার্ষিক ওরশ শরীফ শুরু হয়েছে। আগামীকাল ৫ এপ্রিল বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে ফটিকছড়ি মাইজভা-ার দরবার শরীফ মহাসমারোহে প্রধান দিবস অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আশেকভক্ত আসতে শুরু করেছে। লোকে লোকারন্য হয়ে পড়েছে মাইজভা-ার দরবার শরীফ।
মাইজভান্ডার শরীফস্থ সকল মঞ্জিলে মহান ২২ চৈত্র উদযাপন করেন । রওজা শরীফ গোসল, গিলাফ ছড়ানো ও জিয়ারতের মধ্যে দিয়ে ওরশ শরীফের র্কমসূচী শুরু হয়। এছাড়া রয়েছে হযরত গাউছুল আজম বাবাভান্ডারীর (কঃ) সহ আউলিয়া ক্বেরামগনের জীবর্নদশন আলোচনা, সেমা মাহফিল, মিলাদ, জিয়ারত, মোনাজাত ও তাবারোক বিতরনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হবে বলে জানান মনজিল র্কতৃপক্ষ। আগামীকাল ৫ এপ্রিল প্রধান দিবসের দিন স্ব স্ব মনজিলেরে প্রধানগণ আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করবেন।
এদিকে হযরত সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভা-ারী (কঃ) এর মহান ২২ চৈত্র বার্ষিক ওরশ শরীফ গাউছিয়া হক মনজিলের ব্যবস্থাপণায়ও প্রতিবছরের ন্যায় মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রওজা শরীফ গোসল,খত্মে কোরআন.খতমে গাউছিয়া আলিয়া মাইজভা-ারীয়া,খতমে খাজাগান,কসিদায়ে গাউছিয়া মাইজভা-ারীয়া,মিলাদ মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালিত হবে বলে জানান মনজিল র্কতৃপক্ষ এবং আগামীকাল রাত ১২.৩০ মিনিেিট গাউসিয়া হক মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন রাহাবারে আলম আলহাজ্ব হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভা-ারী (মঃজিঃআঃ) আশেক ভক্ত দেশ, জাতি ও বিশ্বের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করবেন।
ওরশ উপলক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষেও নেওয়া হয়েছে ব্যপক প্রস্তুতি। সৃষ্টি করা হয়েছে নিরাপত্তা বলয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুশফিকুর রহমান বলেন,বার্ষিক ওরশ শরীফ সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ফটিকছড়ি থানা অফিসার ইনচার্য বাবুল আকতার বলেন,ওরশ উপলক্ষ্যে আইনশৃংঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়নের মাধ্যমে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প,পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়,হযরত বাবাভা-ারীর এর মহান ২২ চৈত্র বার্ষিক ওরশ শরীফ উপলক্ষে হাজার হাজার যানবাহন বাস. ট্রাক, কার, মাইক্রো করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেক আসা লক্ষ লক্ষ আশেক ভক্তের সমাগমে মাইজভান্ডার শরীফ সহ আশেপাশের বিশাল এলাকা জুড়ে সপ্তাহব্যাপি লোকে লোকারন্য হয়ে পড়েছে।হিন্দু, মুসলিম,বৌদ্ধ,খৃষ্টান,সকল জাতীর সকল বয়সের আবাল, বৃদ্ধা, বণিতা নারী পুরুষের যেন এক মহা মিলন মেলার দিন। বিশালএলাকা জুড়ে বসেছে লোকজ শিল্পপণ্যের মেলা। জিকির জিয়ারত আলোচনা, জীবন দর্শন, মিলাদ মাহফিল, সেমা মাহফিল, ঢোল বাজনা, আধ্যাত্মিক গান মাইজভান্ডারী গানের মূর্ছনায় ভক্তরা আপ¬ুত হয়ে গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী ও বাবা ভাণ্ডারীর ফয়েজ বরকত কামনা করছেন।
হযরত গাউছুল আজম সৈয়দ আহমদ উল¬াহ মাইজভা-ারী(কঃ) এর আপন ভ্রাতুষপুত্র হচ্ছেন মাইজভা-ার শরীফের দ্বিতীয় আধ্যাত্বা পুরুষ হযরত গোলামুর রহমান বাবা ভা-ারী। হযরত বাবা ভা-ারী জন্মেও পূর্বে হযরত কেবলা আলম একদা হযরত বাবা ভ-ারীর আম্মাজানকে পীরানে পীর সাহেবের মা সম্ভোধন করেন। হযরত কেবলা আলমের ভবিষ্যতবাণী সত্যি হবে এ আশায় হযরত বাবা ভা-ারীর পিতামাতা দিন গুনছিলেন । অবশেষে হযরত কেবলা আলমের মহান ভবিষ্যতবাণী সত্যি হয়ে হযরত কেবলা আলমের কনিষ্ঠভ্রাতা সৈয়দ আব্দুল করিম ও সৈয়দা মুশরফজান এর ঘর আলোকিত করে ১২৭০বাংলার ২৭ আশ্বিন রোজ সোমবার ভোরবেলা হযরত বাবা ভা-ারী এ ধরাধামে তশরীফ আনেন।
আত্মীয় প্রতিবেশিগন নবজাতক শিশুটিকে দেখিয়া আনন্দিত হয়ে বলতে লাগল এ শিশু মানব নহে একজন সম্মানিত ফেরেস্তা,আমরা এরূপ সুন্দর ছেলে কখনো দেখি নাই ।নিশ্চয় তিনি কালের একজন উচ্চ র্মযদার অলি হবেন। জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা উৎসব উদযাপন হয়।ঐ দিন শিশু হযরত বাবা ভা-ারীকে কোলে নিয়ে হযরত কেবলা আলম বলতে লাগলেন এ শিশু আমার বাগানের গোলাফ ফুল,হযরত ইউছুফ(আঃ)এর রূপ লাবন্য তাহার মধ্যে আসিয়াছে । তাহাকে যতœ করিও । আমি তাহার নাম গোলামুর রহমান রাখিলাম। একদা ফোরকানীয়া মাদ্রাসার শিক্ষক হযরত বাবা ভা-ারীর পিতাকে ডেকে বললেন এ শিশু সন্তানটির পাঠ আরম্ভ করিয়া দিন।কালে সে একজন আর্দশ পুরুষ হইবে।একদা শুভ শুক্রবার দিনে পিতা সৈয়দ আব্দুল করিম পুত্র শিশু হযরত বাবা ভা-ারীকে নিয়ে হযরত কেবলা আলমের নিকট যান। হযরত কেবলা আলম শিশু হযরত বাবা ভা-ারীকে শিক্ষার্থী বেশে দেখে মৃদু হাসিলেন এবং বললেন তুমি কালামুল¬াহ পড়িবে। আচ্ছা পড় দেখি এ বলিয়া কোরআন শরীফের কিছু অংশ পড়িয়া ছবক দিলেন । মত্তব শিক্ষা শেষে তিনি ভর্তি হন চট্টগ্রাম মোহছেনীয়া মাদ্রাসা(বর্তমান মহসিন কলেজ)।বাল্যকাল থেকে ইবাদত বরন্দগী ও হযরত কেবলা আলমের খেদমত করার মধ্যে দিয়ে রিয়াজত সাধনা করতে লাগলেন। সংসারের প্রতি কোন আশক্তি না থাকায় সংসার মনযোগী করার আশায় জামায়াতে দোয়ামে পড়াকালীন ১৩০৭ হিজরীর ২৭ ফাল্গুন সুয়াবিল নিবাসী সৈয়দ করমচাঁদ এর বংশধর আলহাজ্ব আশরাফ আলী আল হোসাইনীর প্রথমা কন্যা সৈয়দা জেবুন্নেছা বেগমের সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে দেন। তারপরও সংসারের প্রতি আকৃষ্ট করাতে পারলনা। জামায়াতে উলার পরিক্ষার তৃতীয় দিনে পারক্ষার হলে আপন মাশুকের প্রেমে বিভোর হয়ে কাগজ কলম ছুড়ে ফেলে প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখার সমাপ্তি ঘটে। শুরু হল আগের চেয়ে আরো অধিক কঠোর রিয়াজত। এভাবে অল্প আহার অল্প নিদ্রার মধ্যে দিয়ে কঠোরি থেকে কঠোরতম রেয়াজতে মগ্ন হলেন।প্রান নাশের ভয়ে তাঁহার পিতমিাতা হযরত কেবলা আলমের নিকট রেয়াজতের ভার কমিয়ে দেয়ার জন্য আরজ করলেন। হযরত কেবলা আলম বলে উঠলেন তিনি ইউছুপ (আঃ) হতে চান। আর তোমরা তাঁহাকে মৌলভী বানাইতে চাও। খোদা তোমাদের মান্না ও ছলোয়া নামক স্বর্গীয় খাদ্য খাওয়াতে চান। আর তোমারা পেয়াজ রসুন খাইতে চাও। তোমরা কি উৎকৃষ্ট বস্তুও বিনিময় নিৎকৃষ্ট বস্তু চাও। কঠোর রিয়াজত সাধনার মধ্যে দিয়ে আপন মুর্শিদ হযরত কেবলা আলমের কাছ থেকে বেলায়তের উচ্চতর মকাম হাসিল করে আধ্যাত্ব জগতের সম্রাট হলেন। আটাশ বৎসর বয়স হতে বন জঙ্গল পাহাড়ে দিনের পর দিন ভ্রমনের মধ্যে দিয়ে কঠোর সাধনা করতে লাগলেন।
চলিশ বৎসর বয়সে হযরত কেবলা আলমের ওপাতের পর মাইজভান্ডার শরীফ ফিরে আসেন তিনি।
তিনি সুর্দীঘ ২৩ বৎসর জবান মোবারকে কোন কথা বলেননি।আগত আশেক ভক্তের মনের খবর জানতেন ।বেলায়তী শক্তিতে তিনি সকল ফরিয়াদির আশা পুরন করতেন ।ফয়েজ বরকত দান করতেন।
হযরত শাহসূফী অছিয়র রহমান(রঃ) হযরত কাজী আছদ আলী(রঃ) হযরত মতিউর রহমান শাহ(রঃ) হযরত আব্দুল হাদী কাঞ্চনপুরী(রঃ) হযরত আব্দুল গনি কাঞ্চনপুরী(রঃ) হযরত আমিনুল হক হারবাংগিরী(রঃ) হযরত আব্দুচ্ছালাম ইছাপুরী (রঃ)সহ অসংখ্যজন হযরত বাবা ভা-ারীর সান্নিধ্যে এসে চরন সেবায় অলিয়ে কামেল হয়েছেন,হযরত বাবা ভন্ডারী সফরকালে অনেক পুরানো আউলিয়াক্বেরামের মাজারে যেতেন তিনি যাওয়ার পর এসব মাজার শরীফের শান জৌলুস রওনক বৃদ্ধি পেতে থাকে।যেমন হযরত আমানত শাহ(রঃ) হযরত বায়জীদ বোস্তাামী (রঃ) হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া(রঃ) হযরত বদর শাহ আউলিয়া (রঃ) হযরত শাহজাহান শাহ (রঃ) হযরত শাহ মনোহর সহ অনেক আউলিয়া ক্বেরামের মাজার শরীফে শুভগনে মধ্যে দিয়ে শ্রীবৃদ্ধি হতে থাকে।
হযরত বাবা ভা-ারী আশেক ভত্তদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে ১৩৪৩ বাংলার ২২ চৈত্র, ১৯৩৭ খৃষ্টাব্দের ৫এপ্রিল রোজ সোমবার ভোর ৭টা ৫৫ মিনিটের সময় পর্দার আড়াল হয়ে মহান প্রেমময় প্রভুর সাথে মিলিত হন। বার্ষিক ওরশ শরীফে লক্ষ লক্ষ আশেক ভক্ত মাইজভা-ার শরীফে আসেন।জিকির আজগার,মিলাদ মাহফিল,কোরআন তেলাওয়াত, তছবীহ তালীম, নিয়ত মানতের মধ্যে দিয়ে সকলেই হযরত বাবা ভা-ারীর ফয়েজ বরকত কামনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*