ভাতা চাই না চাই শহীদ পিতা রঙ্গু মিয়া মুদ্ধিযোদ্ধার স্বীকৃতি

ভাতা চাই না চাই শহীদ পিতা রঙ্গু মিয়া মুদ্ধিযোদ্ধার স্বীকৃতি

মো.ওমর ফারুক,নাঙ্গলকোট: কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা রঙ্গু মিয়ার ৪৮ বছরেও স্বাধীনতা যুদ্ধের রাষ্টীয় স্বীকৃতি পায়নি। তার পরিবারের ২ সন্তান বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বাঁচতে চাই, জীবন অনেক কষ্টের হলেও এই ভেবে সান্তনা পাই যে আমাদের বাবা একজন বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। এটুকু আশা নিয়ে আজও বেচেঁ আছি। সর্ব শেষ যাচাই-বাছাই কমিটিতে আমাদের পিতাকে একজন বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স¦পক্ষে সকল দলীল পত্র দেয়া হয়েছে উপজেলার জোড্ডা পূর্ব ইউপির শ্রীহাস্য গ্রামের মৃত.আলী মিয়ার ছেলে বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা রঙ্গু মিয়া। ১৯৭১ সালে যখন যুদ্ধের সূচনা হয় তখন রঙ্গু মিয়া চট্টগ্রামে শ্রমিক নেতা ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রশিক্ষণের জন্য ভারতের কাঁঠালিয়ায় যায়।
সেখানে নোয়াব আলী হাবিলদারের মাধ্যমে প্রশিক্ষন শেষে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। দীর্ঘ দিন পাক-হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেন,নাঙ্গলকোট উপজেলার বটতলী বাজার এলাকায়। গত ২৬ মার্চ ২০১৬ সালে মোতাহার হোসেন মাহবুব রচিত “উনসত্তরের গণঅভ্যুথান ডেটলাইন শ্রীহাস্য ” বইয়ের ৭৬ পৃষ্ঠায় ১৯৬৯ সনের মার্চ মাসের মত পূনরায় আমাদের গ্রাম জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আওয়ামীলীগ করে এমন পরিবার গুলোর বিরুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীকে লেলিয়ে দেয়।এর পর পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা ও গ্রামবাসী মিলে কয়েকজন পাকিস্তানি দূর্বৃত্তকে প্রতিবাদী ছাত্র জনতা চোখ উপড়ে ফেলে। ২ জন ছাত্রসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় ১৭ই মার্চ প্রতিবাদী ছাত্র জনতা কর্তৃক ৪জন পাকিস্তানি পুলিশ সদস্যকে নৃসংসভাকে হত্যা করে। এ ঘটনার পর শ্রীহাস্য গ্রামে পুলিশ ৭/৮ টি বাড়ী ঘর জ্বালিয়ে দেয়। এ ঘটনার অভিযোগে আদালত ৫ জনকে ফাঁসি ও ১৮ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায় দেন। দেশ স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হস্তক্ষেপে সকলে মুক্তি পান।
এই বইটি ৮ নভেম্বর ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় স্বীকৃতি পায়। বইটিতে শহীদ মুক্তিযুদ্ধা
রঙ্গু মিয়ার নাম উল্লেখ রয়েছে।
স্বাধীনতার ৪২ বছর পর তার বড় ছেলে মো.সুরুজ মিয়া (৫২)ও তার ছোট ছেলে গোলাম মোস্তফা তাদের বাবা শহীদ মুক্তিযুদ্ধা রঙ্গু মিয়াকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবী জানান।
শহীদ রঙ্গু মিয়ার বড় ছেলে মো. সুরুজ মিয়া (৫২) জানান,১৯৭১ সালের ওইদিন
যোহরের নামাজরত অবস্থায় ছিলেন তার বাবা, তখন তাদের বাড়ীতে আসেন, দুইয়ারা গ্রামের রাজাকার মফিজ কারী সহ দুইজন,লোক,অর্ধেক নামাজ শেষ না হতেই তার বাবাকে ধরে নিয়ে যায় মুক্তিযোদ্ধা উকিল মোখলেছুর রহমানের বাড়ীতে, সেখান থেকে উকিল মোখলেছুর রহমান, ও রঙ্গু মিয়ার ভাই ফজলুল হকসহ নিতাই চন্দ্র শীলের বাড়ীতে নিয়ে আসে। ওই খান থেকে রঙ্গু মিয়ার জেঠাত ভাই আবু তাহেরকে ও ধরে নিয়ে আসে ।এরপর রশি দিয়ে বেঁধে চাঁনগড়া হাজী এবাদুল্লার বাড়ীতে নিয়ে সবাইকে মারধর করে হাসানপুর রেল স্টেশনের স্টাফ কোয়ার্টারে নিয়ে যায়।সেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে মুক্তিকামি লোকজনদের ধরে এনে একত্রিত করে রঙ্গু মিয়া, নিতাই চন্দ্র শীলসহ কয়েকজনকে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে লাকসাম দৌলতগঞ্জ বাজারে লাশ ফেলে দেয়। কয়েকজন মুক্তিযুদ্ধা রঙ্গু মিয়ার মরদেহ গর্ত করে মাটি চাপা দেয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তার দাদা আলী মিয়া জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে একটি চিঠি এনে লাকসাম থানায় দিলে ওখান থেকে লাশ উত্তোলন করে শ্রীহাস্য নিজ বাড়ীর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করেন।
রঙ্গু মিয়ার দুই ছেলে মো.সুরুজ মিয়া (৫২)ও তার ছোট ছেলে গোলাম মোস্তফা তাদের পিতাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*