মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে বীর চট্টলা বৈশাখী উৎসব

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে বীর চট্টলা বৈশাখী উৎসব
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলা ও বাঙ্গালীর নববর্ষ ১৪২৬ বাংলা সনকে বরণ, মুক্তিযোদ্ধদের সম্মাননা প্রদান ও বৈশাখী উৎসব উদযাপন উপলক্ষে বীর চট্টলা বৈশাখী উৎসব উদযাপন পরিষদের উদ্দ্যোগে গত ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭ ঘটিকায় নগরীর চেরাগী পাহাড়স্থ দৈনিক আজাদী চত্তরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্টান পরিষদের চেয়ারম্যান সাংবাদিক সুজিত কুমার দাশ’র সভাপতিত্বে এবং ছাত্রনেতা বোরহান উদ্দীন গিফারীর সঞ্চালনায় অনুষ্টিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন শহীদজায়া ভগ্নি লেখক বেগম মুসতারী শফি। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার(উন্নয়ন) নুরুল আলম নিজামী, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ড. গাজী সালাউদ্দিন, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ, বীরমুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, শিক্ষাবিদ ড. সানাউল্লাহ্, সমাজসেবক এম.এ সবুর, নাট্যকার সজল চৌধুরী, সাংবাদিক কিরণ শর্মা, সংগঠক জসীম উদ্দীন চৌধুরী, লায়ন ডা. আর.কে রুবেল, এড. নীলুকান্তি দাশ নীলমনি, সাংবাদিক কামাল হোসেন, অধ্যক্ষ রতন দাশগুপ্ত, ডা. মনির আজাদ, অমর দত্ত। সভায় বক্তারা বলেন, বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ বাংলা তথা ১ বৈশাখ হোক বাংলা ও বাঙ্গালীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতির সেতু বন্ধন। বিশ্বে আমরা একটি স্বাধীন জাতি। আমাদের আছে নিজস্ব সংস্কৃতি ও বিশাল এক ইতিহাস। বাংলা সন বাংলা ও বাঙ্গালী জাতীর গৌরবউজ্জ্বল ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে স্মরণ করে দেয়। সেই আবহমান কাল থেকে বিশেষ করে গ্রামীন পর্যায়ে আমরা এই সংস্কৃতিকে ঘরে ঘরে মনে মনে ধারণ ও লালন করে আসলেও দেশ স্বাধীনের আগে বড় ধরণের তেমন কোন বাঙ্গালী সাংস্কৃতিক আচার অনুষ্টান করা সম্বব হয়নি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে বাঙ্গালী জাতি স্বাধীনভাবে তার নিজস্ব সংস্কৃতি লালন পালন করে আসছে। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙ্গালী জাতি তার নিজস্ব সংস্কৃতিতে বলিয়ান হয়ে উঠে। সেই থেকে বাঙ্গালীর সংস্কৃতিক আন্দোলন শুরু। বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসই পারে একটি জাতি কিংবা দেশকে বাঁচিয়ে রাখতে। আমাদের সব আছে। তৎকালীন পাকিস্থানী শাসকেরা তা বুঝতে পেরে আমাদের ভাষা সংস্কৃতির উপর আঘাত হেনেছিল। ২১ ফেব্রুয়ারী ভাষা শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের ভাষা সংস্কৃতি রক্ষা পায়। আমরা বিশ্বের সকল জাতির নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতির মুল্যবোধে বিশ্বাসি। সভায় বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানকারী সাহসী ৪০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে সংগঠনের পক্ষ থেকে বৈশাখী সম্মননা প্রদান করা হয়। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বপন সেন, সংগঠক সজল দাশ, স.ম জিয়াউর রহমান, সালাউদ্দীন লিটন, নোমানউল্লাহ বাহার, ডা. বেলাল হোসেন উদয়ন, সৈয়দা শাহানারা বেগম, আসিফ ইকবাল, ডা. এস.কে পাল সুজন, রোজী চৌধুরী, এস.ডি জীবন, পশাল দত্ত, জনি বড়–য়া, সমিরণ পাল প্রমুখ। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী নারায়ন দাশ, অচিন্ত্য কুমার দাশ, সাইফুদ্দীন তুষার, শুক্লা দাশ, এস.ডি জীবন, ফারুক হোসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*