অনির্বাচিত ও আশ্রিত বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির নাম বিক্রয়কারীদের বেআইনীভাবে বৌদ্ধ বিহার দখলমুক্ত করার দাবী

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে মানববন্ধনে বক্তারা
অনির্বাচিত ও আশ্রিত বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির নাম বিক্রয়কারীদের বেআইনীভাবে বৌদ্ধ বিহার দখলমুক্ত করার দাবী

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার একটি সম্পূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে বিহার কমিটির পক্ষে ডা: আচারিয়া শ্রীমৎ পুন্নাচার ধর্মাধারী মহাস্থবিরসহ মহান ভিক্ষু সংঘকে দান করা হয়েছিল। প্রথম অধ্যক্ষ অধ্যাপক ধর্মবংশ মহাস্থবির অত্র বিহারের উন্নয়ন কাজ ও তার শীর্ষ শ্রীমৎ দিপংকর শ্রীজ্ঞান মহাস্থবির দ্বিতীয় অধ্যক্ষ হিসেবে বিহার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে প্রায় আশির দশক পর্যন্ত বিহার রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। আরএস ও পিএস খতিয়ানে শ্রীমৎ ধর্মবংশ মহাস্থবির ও শ্রীমৎ দিপংকর শ্রীজ্ঞান মহাস্থবিরের নামে লিপিবদ্ধ আছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আশ্রিত ও অবৈধ বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির নাম বিক্রয়কারী ব্যক্তিবর্গ সুকৌশলে বিএস জরিপে অধ্যক্ষদ্বয়ের নামে আরএস এবং পিএস খতিয়ান জালিয়াতি করে সমিতির পক্ষে নাম বসিয়ে বিহার সম্পত্তি দখলের অপপ্রয়াস চালিয়ে আসছেন। ২৯ ডিসেম্বর ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ৯ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়ে ৭ শতক জমি চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য প্রদত্ত জমি রেজিস্ট্রি দলিলে বিহারের পক্ষে অধ্যক্ষের নাম না দিয়ে কৌশলে আশ্রিত বৌদ্ধ সমিতির সভাপতির নাম অন্তর্ভুক্ত করে সরকারের সাথে জালিয়াতি ও প্রতারণা করেছে যা রাষ্ট্রীয় আইন লংঘন ও গুরুতর অপরাধের শামিল। কথিত বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি সিডিএ থেকে বৌদ্ধ বিহারের প্ল্যান পাস করিয়ে অবৈধভাবে আইনকে অমান্য করে একতরফাভাবে বৌদ্ধ বিহারের নির্মাণ কাজ শুরু করেছে যা অবৈধ। যদিও মহামান্য হাইকোর্টের আদেশে নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। অবিলম্বে বৌদ্ধ বিহারে আশ্রিত বৌদ্ধ সমিতির অবৈধ কর্মকা- বন্ধ করতে হবে। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভা ও বৌদ্ধ বিহার সংঘ সম্পত্তি সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশ আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এ দাবি জানান। বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভা ও বৌদ্ধ বিহার সংঘ সম্পত্তি সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশ আয়োজিত ২ মে বিকাল ৪টায় নগরীর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে আশ্রিত বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির অবৈধ হস্তক্ষেপে জোরপূর্বক বৌদ্ধ বিহার নির্মাণের নামে ভূমি দখলের প্রতিবাদে বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার ধর্মীয় সম্পাদক সুমঙ্গল মহাস্থবিরের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুমনোপ্রিয় স্থবিরের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জিনবোধি ভিক্ষু।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক করুণানন্দ থের, প্রজ্ঞাপাল মহাস্থবির, দীপংকর থের, প্রজ্ঞাতিলক, ধর্মবোধি, শান্তবোধি, লোকবোধি, জে.বি.এস আনন্দবোধি ভিক্ষু, সুশীল বড়–য়া, সবুজ বড়–য়া, এডভোকেট তুষার মুৎসুদ্দী, অনুপম বড়–য়া, ইন্দ্রবংশ থের, মহানাম ভিক্ষু, সুমনাপাল থের, রাহুলারতœ ভিক্ষু, সুভদ্র ভিক্ষু নন্দবোধি প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। যা সর্বসাধারণের আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। শত বছরের প্রাচীনতম এই বৌদ্ধ বিহার প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে বিহার কমিটি দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির দখলীয় কোনো সম্পত্তি নয়। দলিল ও খতিয়ান জালিয়াতির মাধ্যমে এবং ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রণীত সংগঠনের গঠনতন্ত্রের সংশোধনি জালিয়াতি পূর্বক চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারকে বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির নিজস্ব সম্পত্তি দাবি করে আসছে। যা বৌদ্ধ নীতি ও আদর্শ বহির্ভূত ন্যাক্কারজনক কাজ। বক্তারা আরো বলেন, চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের আর এস ১১০৬নং খতিয়ান চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার সম্প্রদায় পক্ষে ধর্মবংশ মহাস্থবিরের নামে লিপিবদ্ধ আছে। আর মৃত্যুর পর আর ঐ শিষ্য বিহারাধ্যক্ষ দীপঙকর শ্রীজ্ঞান স্থবিরের নামে পি এস খতিয়ান ১৯/২১ খতিয়ান ১৬/১৯ লিপিবদ্ধ ছিল। পরবর্তিতে স্বাধীন বাংলাদেশের বি এস জরিপে উক্ত খতিয়ান দ্বয়ের মধ্যে অধ্যক্ষ দ্বয়ের নাম কৌশলে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির নাম বসিয়ে বিহারের মালিকত্ব দাবি করে আসছে। যা অন্যায় ও অনিয়ম। সচেতন বৌদ্ধ জনগোষ্টি ও বৌদ্ধ ভিক্ষু সমাজ এ অন্যায় ও অনিয়ম মেনে নিতে পারে না। বক্তারা আরো বলেন, চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে রক্ষিত সর্বসাধারণের দেয়া দান বাক্সের লক্ষ লক্ষ টাকা বৌদ্ধ বিহারে না দিয়ে সমিতির এখতিয়ারে নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত কথিত বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি অন্যায়ভাবে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করে আসছে। বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির কর্মকর্তাগণ অবৈধ ও অনির্বাচিত। কারণ তারা ক্ষমতা দেখিয়ে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে কোনো নিয়ম না মেনে নির্বাচন করতে গিয়ে মহামান্য হাইকোর্ট সমিতির নির্বাচন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া সত্ত্বেও নির্বাচন করলে হাইকোর্ট পরবর্তিতে নির্বাচন অবৈধ বলে ঘোষণা করে সকল কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*