নিখোঁজের পাঁচ মাস পর বাবার কোলেই শিশু সন্তানকে ফিরিয়ে দিল থানা পুলিশ

নিখোঁজের পাঁচ মাস পর বাবার কোলেই শিশু সন্তানকে ফিরিয়ে দিল থানা পুলিশ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ভোলা থেকে নিখোঁজের পাঁচ মাস পর আবদুল্লাহ (১২) নামের এক শিশু সন্তানকে উদ্ধার করে তার বাবার কোলেই ফিরিয়ে দিল সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানা পুলিশ। মঙ্গলবার থানায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আবদুল্লাহকে তার পিতা সবুজ মিয়া ও পরিবারের লোকজনের নিকট সমঝিয়ে দেয়া হয়।, প্রসঙ্গত: ২০১৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোলা জেলার সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের উত্তর দিঘলদী গ্রামের সবুজ মিয়ার ১২ বছর বয়সী শিশু পুত্র আবদুল্লাহ নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। এদিকে খোঁজাখুজির পর সন্ধান না পেয়ে ছেলের সন্ধান চেয়ে সবুজ মিয়া ২০১৯ সালের ১৯ জানুয়ারি ভোলা সদর মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেন। অপরদিকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সদর বাজারে প্রায় তিন মাস পুর্বে এক শিশুকে অনিশ্চিতভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ি শিবলু মিয়া সহ একাধিক ব্যবসায়ি শিশুটিকে থানায় নিয়ে গিয়ে পুলিশকে অবহিত করেন। ওই সময় শিশুটি তার নাম আব্দুল্লাহ ব্যাথিত অভিভাবক বা কোন রকমেই নিজ বাড়ির ঠিকানা জানাতে পারেনি। থানা পুলিশ বিষয়টি অবহিত হয়ে ব্যবসায়ি শিবলুকে তার বাড়িতে রেখে আবদুল্লাহর প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা ও ভরণ পোষণের দায়িত্ব দেন। এরপর থানা পুলিশ ও শিবলু সহ অন্যান্য ব্যবসায়িরা অভিভাবক এবং স্বজনদের সন্ধান চেয়ে সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আব্দুল্লাহর ছবি সংযুক্ত করে পোষ্ট করলে তার পিতা সবুজ মিয়া ব্যবসায়ি শিবলু মাধ্যমে তাহিরপুর থানায় যোগাযোগ করেন। ভোলা সদর মডেল থানায় নিখোঁজ হওয়া শিশু আবদুল্লাহর পিতা সাধারন ডায়েরি করার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে তাহিরপুর থানা পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে এসআই আনোয়ার, ব্যবসায়ি শিবলু আজমল, শামসুল আলম, সেনু মিয়ার উপস্থিত থেকে থানা ভবনে শিশু আব্দুল্লাহকে তার পিতা সবুজ মিয়া ও পরিবারের লোকজনের নিকট মঙ্গলবার সমঝিয়ে দেয়া হয়। আব্দুল্লাহর পিতা ছেলেকে ফেরত পেয়ে তাহিরপুর থানা পুলিশ ব্যবসায়ি শিবলু সহ অন্যান্য ব্যবসায়িদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বলেন এই দুর্ঘম হাওর এলাকায় থানা পুলিশ ও ব্যবসায়িরা আমার শিশু সন্তানকে আগলে না রাখলে হয়তো তাকে আর কোনদিন ফিরেই পেতোম না। তাহিরপুর থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান জানান, প্রায় তিন মাস (৯০) দিন পুর্বে ওই শিশুটিকে ব্যবসায়িরা উদ্ধার করে থানা পুলিশকে অবহিত করলে থানা পুলিশ ও ব্যবসায়িরা তাকে তার পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দিতে বিভিন্ন মাধ্যমে তার অভিভাবকের সন্ধান চালিয়ে গেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*