জামালপুরে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার কর্মকান্ড কাজের মেয়েকে ধর্ষণ

জামালপুরে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার কর্মকান্ড কাজের মেয়েকে ধর্ষণ
রোকনুজ্জামান সবুজ , জামালপুর ঃ জামালপুরে নিজ বাড়ির কাজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। গত শনিবার দুপুরে ওই কাজের মেয়ে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। ধর্ষণের পর কৌশলে মেয়েটিকে বিয়ে দেওয়ার দুই মাসের মধ্যে একটি মৃত কন্যাসন্তান জন্ম নেয়ার মধ্য দিয়ে ঘটনা ফাঁস হওয়ায় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী গত শুক্রবার রাতে ওই শিক্ষা কর্মকর্তার বাড়ি ঘেরাও করে এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন। গ্রামবাসী ও তার নিকটাআত্মীয়রা জানান, মেলান্দহ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলামের বাড়ি জামালপুর সদরে শরিফপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে। শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম একই গ্রামের তার দরিদ্র চাচাত বোনকে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিমাসে ২ হাজার টাকা মজুরিতে কাজের মেয়ে হিসেবে রাখেন। এর পর থেকেই তিনি বিভিন্ন সময় জোর করে ধর্ষণ করতে থাকে। কাজের মেয়ে আকলিমা অভিযোগ করে জানান, শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম তার কাজে যোগদানের কয়েকদিন পর অর্থাৎ ৮ সেপ্টেম্বর দিনের বেলা মেয়েটিকে জোর করে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে আরও কয়েকদফা ধর্ষণের ফলে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। বিষয়টি মাজেদুল ইসলাম টের পেয়ে কাউকে না বলার জন্য মেয়েটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। শিক্ষা কর্মকর্তা তার নিজের অপকর্মকে ভিন্ন খাতে নিতে কৌশলে বেশ টাকাপয়সা খরচ করে গত ৮ মার্চ মেয়েটিকে একই ইউনিয়নের পিঙ্গলহাটি গ্রামের এক দরিদ্র যুবকের কাছে বিয়ে দেন। বিয়ের পর থেকে স্বামীর বাড়িতে সংসার করে আসছিলেন। কিন্তু তার স্বামীকে ঘটনা খুলে বলতে সাহস পাননি। এক পর্যায়ে গতকাল শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে মেয়েটি একটি মৃত কন্যাসন্তান প্রসব করেন। বিয়ের দুই মাসের মধ্যেই নতুন বউয়ের সন্তান প্রসবের বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। ভুক্তভোগী মেয়েটি তার মা ও পরিবারের অন্যান্য স্বজনদের কাছে শিক্ষা কর্মকর্তার অপকর্মের ঘটনা খুলে বললে বিক্ষব্ধ এলকাবাসী শুক্রবার রাতে শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলামের বাড়ি ঘেরাও করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর থানা পুলিশ এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ^াস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম মৃত কন্যাশিশুটির উদ্ধার করে জামালপুর সদর হাসপাতারের মর্গে পাঠান। এ বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। কাজের মেয়েকে ধর্ষণ পরবর্তীতে গর্ভবতী এবং সন্তান প্রসবের ঘটনা জানাজানি হলে শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছেন।
জামালপুর সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ সালেকুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই কাজের মেয়ে বাদী হয়ে তাকে ধর্ষণ করে অন্তস্বও¦া করার অভিযোগে শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলামকে আসামি করে গত শনিবার দুপুরে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আমারা আসামীকে গ্রেফতারের জন্যে কাজ করে যাচ্ছি দূত সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেফতার করতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*