চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রশাসন হার্ডলাইনে ছাতকে নদীপথে পৌরসভার ৯ কাউন্সিলরের চাঁদাবাজি অব্যাহত

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রশাসন হার্ডলাইনে ছাতকে নদীপথে পৌরসভার ৯ কাউন্সিলরের চাঁদাবাজি অব্যাহত

জামরুল ইসলাম রেজা, ছাতক প্রতিনিধি: ছাতক পৌরসভার সুরমা নদীতে চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে। দুজন চাঁদাবাজকে আটক করলেও বন্ধ হয়নি নৌপথে চাঁদাবাজি। পৌরসভার বিএনপি কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন সুমেন ও আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর তাপস চৌধুরীর নেতৃত্বে দীর্ঘদিন থেকে ৯জন কাউন্সিলর এই চাঁদাবাজি অব্যাহত রেখেছেন। চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবসায়ীরা বারবার দাবি জানিয়ে আসার পর, লোক দেখানো ধরপাকর করে প্রশাসন। এমন অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। রবিবার সকাল থেকে সুরমা নদীতে বিভিন্ন নৌযানে চাঁদাবাজরা চাঁদা তুলেছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ- প্রশাসন তাদের কাছ থেকে মাসোয়ারা পায় তাই চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না। পাথর ব্যবসায়ী মখলিছ মিয়া জানান, শাহজালাল সমবায় সমিতির সভাপতি ফারুক ও সেক্রেটারী পৌর বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক ও পৌর যুবদলের সভাপতি ৬নং ওয়ার্ডের কমিশনার জসিম উদ্দিন সুমেন অনেক দিন ধরে শাহজালাল সমবায় সমিতির নাম ধরে বার্জ-কার্গো ও মালবাহী নৌকা থেকে ১০০০ টাকা ট্যাক্সের নামে চাদা আদায় করে আসছেন, সেখানে বিআই ডাব্লিউটিএ (বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট অথরিটি)-এর নামে ২শ’ টাকার স্থলে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা, ছাতক পৌরসভার নামে ৩৫০ টাকার স্থলে এক হাজার টাকা, পৌরসভার অপর একটি ট্যাক্স ৪০০ টাকার স্থলে ৫শ’ টাকা আদায় করে আসছে এছাড়াও ছাতক পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আওয়ামীল লীগ নেতা তাপস চৌধুরী ও তার সহযোগীসহ কয়েক জন কাউন্সিলর এবং সমাজের কিছু রাগব গোয়ালরা জড়িত আছেন। ছাতকের সুরমায় চাঁদাবাজিতে একাট্টা আওয়ামী লীগ-বিএনপি। এমনিতে দলীয় মতবিরোধ থাকলেও এ ব্যাপারে তাদের মধ্যে কোন রাখ-ঢাক নেই। পাথর-বালু ও চুনাপাথর ব্যবসায়ীদের পণ্যপরিবহনে নানা কায়দায় নানা ওসিলায় তারা ঐক্যবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন। আর এ কারণে ব্যবসায়ীরা চরম বিরক্ত ও হতাশ। অনেকেই ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে অবশেষে স্থানীয় প্রশাসনের টনক নড়েছে। শনিবার সকালে অভিযান চালিয়ে তারা দুই চাঁদাবাজকে আটক করেছে। মঙ্গলবার নৌপথে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে ব্যবসায়ীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলোতে এ ব্যাপারে বারবার অভিযোগ দেওয়া হলেও সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়া যাচ্ছেনা। ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতবাদ করলেই প্রশাসন একটু নড়েচড়ে বসে। এরপর আবার যেইসেই। ছাতকে নৌপথে বেপরোয়া চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে এফবিসিসিআইর নির্বাহী কমিটির সদস্য, সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক ও ছাতক লাইমষ্টোন ইম্পোর্টার্স এন্ড সাপ্লায়ার্স গ্রæপের প্রেসিডেন্ট আহমদ শাখাওয়াত সেলিম চৌধুরী বলেন, কাউন্সিলর সুমেন এবং তাপস চৌধুরীর নেতৃত্বে নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ব্যবসায়ীরা কঠোর আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে। তিনি আরো বলেন, ছাতকে সুরমা নদীতে বিআই ডাবিøউটিএ (বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট অথরিটি)-এর নামে ২শ’ টাকার স্থলে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা, ছাতক পৌরসভার নামে ৩৫০ টাকার স্থলে এক হাজার টাকা, পৌরসভার অপর একটি ট্যাক্স ৪০০ টাকার স্থলে ৫শ’ টাকা এবং নবগঠিত শাহজালাল সমবায় সমিতির নামে এক হাজার টাকা করে অবৈধ চাঁদা হচ্ছে। ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, দীর্ঘদিন থেকে ছাতকে সুরমা নদীতে অবৈধভাবে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় করছে কিছু চিহ্নিত চাঁদাবাজ। এবার চাঁদাবাজদের কোন ছাড় দেয়া হবেনা। শনিবার (১১ মে ২০১৯) সকালে সুরমায় অভিযান চালিয়ে ২ চাঁদাবাজ মুজাহিদ ও মানিক মিয়াকে আটক করা হয়। নৌপথে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবেদা আফসারি বলেন, ছাতকে পাথর দিয়ে সারা দেশের উন্নয়ন কাজ চলছে। চাঁদাবাজদের কারনে উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, প্রশাসন এবার ছাতকের সুরমা নদীতে সরকার নির্ধাতির টোলের বেশী এক টাকাও আদায় করতে দেবেনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*