নরসিংদীতে স্বামীর পরিবারের অগ্নিদগ্ধের শিকার জান্নাতির ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে ৪০ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

নরসিংদীতে স্বামীর পরিবারের অগ্নিদগ্ধের শিকার জান্নাতির ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে ৪০ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায়  মৃত্যু 
কে.এইচ.নজরুল ইসলাম,নরসিংদীঃ নরসিংদীর হাজিপুরে স্বামী শশুড় শাশুড়ির কেরোসিনের আগুনে ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে  ৪০ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় অগ্নিদগ্ধের শিকার স্ত্রী জান্নাতির মৃত্যু হওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।স্বামী শশুড় শাশুড়িরসহ কথামতো যৌতুক না দেয়া ও মাদক ব্যবসায় রাজি না হওয়ায় ৪০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মারা গেছেন জান্নাতি আক্তার (১৮) নামে অগ্নিদগ্ধের শিকার এক গৃহবধু।ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে বৃহস্পতিবার (৩০ মে) ভোর রাতে তার মৃত্যু হয়।এর আগে ২১ এপ্রিল ভোরে নরসিংদীর সদর উপজেলার হাজিপুরে শশুড় বাড়িতে কেরোসিন ঢেলে তার শরীরে আগুন দিয়ে জ্বলসে দেয়।নিহত জান্নাতি নরসিংদী সদর উপজেলার হাজিপুর গ্রামের শরীফুল ইসলাম খানের মেয়ে ও পার্শ্ববর্তী চরহাজীপুর গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী হুমায়ুন ও শান্তি বেগম দম্পত্তির পুত্রবধূ।জান্নাতি গত বছরের ঈদুল আযহার দিনে প্রেমের টানে পালিয়ে বিয়ে করেছিল হুমায়ুনের ছেলে শিপলু ওরফে শিবুকে।নিহত জান্নাতির দাদা মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, প্রেমের টানে পালিয়ে বিয়ে করার পর জান্নাতিকে পুত্রবধু হিসেবে মেনে নিতে পারছিল না শশুড় শাশুড়ি মাদক ব্যবসায়ী হুমায়ুন ও শান্তি বেগম।প্রায় সময়ই জান্নাতিকে তাদের কথামতো মাদক ব্যবসায় সহযোগিতা করার জন্য চাপ দিতো পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী শশুর শাশুড়ি।জান্নাতি এতে রাজি না হওয়ায় তার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করা হয়।নির্যাতন সইতে না পেরে একাধিকবার পিত্রালয়ে ফিরে আসে জান্নাতি আক্তার।পরবর্তীতে আর নির্যাতন না করার শর্তে জান্নাতিকে শশুড় বাড়িতে ফিরিয়ে নেয় তারা।এরপরে আবারও নির্যাতন শুরু হলে জান্নাতি বাধ্য হয়ে ঢাকায় তার বাবার বাসায় চলে যায়।সেখান থেকে স্বামী শিবুর অনুরোধে আবারও শশুড় বাড়ি ফিরে আসে জান্নাতি।আসার পর শশুর শাশুড়ি ও ননদ ফাল্গুনি ওইদিন রাতভর ঝগড়া করে জান্নাতির সঙ্গে।এসময় তারা শশুড় বাড়িতে থাকতে চাইলে তিন লাখ টাকা যৌতুক ও মাদক ব্যবসায় সহযোগিতা করতে হবে বলে চাপ সৃষ্টি করে।এক পর্যায়ে গৃহবধু জান্নাতি নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে।ঘুমন্ত অবস্থায় ভোরে (২১ এপ্রিল) জান্নাতির শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে জ্বলসে দেয়।এসময় তার আর্তচিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে আগুন নেভায়।পরে তাকে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়।এ ঘটনায় নির্যাতিতা গৃহবধুর পরিবারের পক্ষ থেকে নরসিংদী আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়।ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে ৪০ দিন মৃত্যুর শয্যায় থেকে বৃহস্পতিবার (৩০ মে) ভোরে মৃত্যু হয় গৃহবধূ জান্নাতি আক্তারের।এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুজ্জামান বলেন, পরিবারের পক্ষে অগ্নিদগ্ধের ঘটনায় আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।আহত জান্নাতি মারা গেছে কী না এমন সংবাদ আমরা এখনও পাইনি।অভিযুক্ত শশুড় শাশুড়ি তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী কী না সে বিষয়ে তাৎক্ষনিক কিছু জানাতে পারেননি।ময়না তদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কতৃপক্ষ পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোব প্রকাশসহ বিচার দাবী  প্রকাশ করেন নরসিংদীর সুশীল সমাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*