কিডনী দেবেন মা, অপারেশনের টাকা কে দেবে?

কিডনী দেবেন মা, অপারেশনের টাকা কে দেবে?

মোঃফরহাদ হোসেন, লালমনিরহাট :: একমাত্র ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২২) দুইটি কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে। তার মা সামসুন্নাহার বেগম (৪৫) ছেলেকে বাঁচাতে কিডনী দিবেন। কিন্তু চিকিৎসা করাতে খরচ হবে প্রায় ৫/৬ লাখ টাকা। কোনোভাবেই জোগাড় করার সামর্থ্য নেই হতদরিদ্র পরিবারটির। ফলে ছেলেকে কিডনী দিয়ে বাঁচাতে চেয়েও টাকার অভাবে একমাত্র ছেলেকে হারাতে বসেছে। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম কাদমা গ্রামের মৃত আমের আলীর স্ত্রী সামসুন্নাহার বেগম। ৪ মেয়ে ১ ছেলের মধ্যে সাদ্দাম হোসেন সবার ছোট। গত ৫ বছর আগে স্বামী আমের আলী মারা যাওয়ার পর এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ঢাকায় গার্মেন্টস চাকুরি নিয়েছে সাদ্দাম। গত দুই মাস আগে গার্মেন্টসের চাকুরি করা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন সাদ্দাম হোসেন। বিভিন্ন পরীক্ষা -নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা জানান, তার দুইটি কিডনী অকেজো। চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে সব বিক্রি করে বর্তমানে নি:স্ব হয়ে পড়েছে পরিবারটি। অসুস্থ সাদ্দাম হোসেন বর্তমানে ঢাকা মিরপুর কিডনী ফাউন্ডেশন হাসপাতালে মৃত্যু সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। তার মা সামসুন্নাহার বেগমের আকুতি কিডনি আমি দিবো, কিন্তু কিডনী প্রতিস্থাপনের টাকা কে দিবেন? আমার একমাত্র ছেলেকে বাঁচান। এই মাহে রমজানে আপনাদের দানের টাকা দিয়ে আমার ছেলেকে বাঁচাতে সাহায্য করুন। আপনাদের সামান্য সহযোগিতায় আমার ছেলে বেঁচে যাবে। আমার ছোট ছেলেকে হারাতে চাই না। ঢাকা মিরপুর কিডনী ফাউন্ডেশন হাসপাতালের চিকিৎসক জিয়া উদ্দিন বলেছেন দ্রুত কিডনী প্রতিস্থাপন না করলে তাকে বাঁচান সম্ভব নয়। হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ডিএনএসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সিকান্দার আলী জানান, সাদ্দামের বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সন্তানের দুইটি কিডনী নষ্ট হয়ে গেছে জানার পর মা ভেঙে পড়েছেন। তাই অসহায় পরিবারটি দিকে চেয়ে তার ছেলে চিকিৎসার জন্য আপনাদের কাছে সাহায্যের আবেদন করছি। সাদ্দাম হোসেন বলেন,আমার চিকিৎসা করতে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ টাকা চলে গেছে আরও ৫ লাখ টাকা প্রয়োজন। তাই এত টাকা কে দিবে আমাকে? এ বিষয়ে ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন জানান, বিষয়টি আমি জেনেছি, সাদ্দামকে তার মা কিডনী দিবেন কিন্তু পরিবারটির অচল অবস্থা, কিডনী প্রতিস্থাপনে খরচ জোগাতে পারছেন না তাই সমাজের সকলকে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*