নরসিংদীর পলাশে পুলিশের উপর ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগে,থানা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজনসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

নরসিংদীর পলাশে পুলিশের উপর ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগে,থানা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজনসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

কে.এইচ.নজরুল ইসলাম,নরসিংদীঃনরসিংদীর পলাশে পুলিশের উপর ছাত্রলীগের হামলায় চরসিন্দুর ক্যাম্প ইনচার্জসহ ৫ জন আহতের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের। এ ঘটনায় পলাশ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজনসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশের উপর থানা ছাত্রলীগের হামলা।এসময় পুলিশ সদস্যদের বেধড়ক মারপিট ও পুলিশের ইউনিফর্ম ছিঁড়ে ফেলা হয়।সংবাদ পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে আহতবস্থ কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের  উদ্ধার করে।এসময় চরসিন্দুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পলাশ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ মোহাম্মদ রাজনসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।গ্রেপ্তারের পর রবিবার(৯জুন) বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পলাশ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ মোহাম্মদ রাজন (৩২), লাল মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া (২৫),আবু সাইদ ভূইয়ার ছেলে শফিকুল ভূইয়া (২৪), মোবারক মোল্লার ছেলে জাহির (১৯), কাজল মিয়ার ছেলে শুভ মিয়া (২০) ও রাজন (২৭)। তারা সকলেই উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়ের বাসিন্দা।পলাশ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধায় গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ হইতে ছাত্রলীগের কয়েকজন পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর নতুন ব্রিজে ঘুরতে আসেন।ওই সময় তারা ব্রিজের এক পাশে বসে তাস খেলছিলেন।এ সময় হৃদয় নামে স্থানীয় এক যুবক তাদের তাস খেলতে নিষেধ করেন।এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।এরপরে কালিগঞ্জ থেকে ঘুরতে আসা ছাত্রলীগ সদস্যরা বিষয়টি পলাশ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজনকে জানান।এরই জেরে পলাশ থানা ছাত্রলীগের সভাপতির লোকজন হৃদয়কে মারপিট করতে থাকে।পুলিশ জানায় সংবাদ পেয়ে চরসিন্দুর ক্যাম্পের আইসি-সহ পুলিশের একটি দল সেখানে যায়।এবং উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায়।স্থানীয় এক জন মনার উকানিতে তারা পুলিশের কথা অমান্য করে দুইপক্ষে সংঘর্ষে জাড়িয়ে পড়ে।পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠি চার্জ করে পুলিশ।এসময় পালাশ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ মোহাম্মদ রাজনের উপর লাঠির আঘাত লাগে।এতে ছাত্রলীগ নেতার সমর্থকরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।পরে স্থানয় মনা ও ছাত্রলীগ নেতা ও তার সমর্থকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে পুলিশের উপর হামলা চালায়।এ সময় ছাত্রলীগ নেতারা পুলিশকে মারপিট করেন।একই সাথে পুলিশের গায়ে থাকা ইউনিফর্ম ছিঁড়ে ফেলেন।এ সময় আহত হয় চরসিন্দুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই প্রদিপ কুমার দাশ, কনন্সটেবল জাহিদ, নাদিম, গাইয়ুম ও নায়েক আলামিন।সংবাদ পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।এঘটনায় চরসিন্দুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ প্রদিপ কুমার দাশ বাদী হয়ে ১১ জনকে আসামী করে পলাশ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।এরই প্রেক্ষিতে রবিবার দুপুরে পুলিশ পলাশ থানা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে।চরসিন্দুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ প্রদিপ কুমার দাশ সাংবাদিকদের বলেন, চরসিন্দুর ব্রিজ এলাকায় দুই পক্ষের মারপিট হচ্ছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে যাই।দুই পক্ষকেই শান্ত থাকার আহ্বান জানাই।এরই মধ্যে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা অতর্কিত পুলিশের উপর হামলা চালায়।এবং পুলিশের ইউনিফর্ম ছিঁড়ে ফেলেন।এ সময় তাদের হামলায় ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়।বিষয়টি জানতে পলাশ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আপেল মাহামুদের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন মোল্লা বলেন, পুলিশকে মারপিট ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগে পলাশ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি রজনসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*