উখিয়ার অদম্য যুবক নুরুল বশর “পুতিয়া’র ব্যবসাই সফলতার গল্প!

উখিয়ার অদম্য যুবক নুরুল বশর “পুতিয়া’র ব্যবসাই সফলতার গল্প!

নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া,কক্সবাজার থেকেঃ প্রায় এক যুগেরো বেশী সময় আগের কথা। তখন আমার বয়স বড় জোর কোন রকমেই তের কি চৌদ্দ ছুঁই-ছুঁই।বাবার খাবার হোটেল ও চায়ের দোকানে খন্ডকালীন বসতাম। দোকানটি বিভিন্ন সময়,বিভিন্ন জায়গা ছাড়াও  ছিল উখিয়ার বালুখালী বাজারে। এখানকার ক্রেতা প্রায় দরিদ্র। স্কুল শেষে বাবার দোকানে বসা মানে জীবিকার পথ তৈরি করা। পড়ালেখার পাশাপাশি দোকানে বসার একটা উদ্দ্যেশ্য ছিল,ব্যবসা শেখা। এতে বড় ভাই সাথে বাবা-মাও উৎসাহ যোগাতো।সকালে তেমন একটা দোকানে না গেলেও বিকালে কিন্ত ঠিকই যেতাম।শিখতাম কিভাবে দোকানদারী করতে হয়।

কোন খাদ্য-সামগ্রী কত টাকায় বিক্রি করতো,তাও দেখতাম।লাভ কত হল,কেনা কত টাকা হিসেব কষতাম।বছর পাঁচেক বাবার সাথে নাস্তা কিংবা কাপড় সেলাই করে দেবে এমন আশায় যেতাম।বড় ভাইসহ কাপড় সেলাই করে দিতো পছন্দ মত।দোকানদারী করে অনেকেই কিন্তু আর্থিক সমৃদ্ধ হচ্ছে,সম্পদের মালিক হচ্ছে বুঝতে পারি।তখনই বাবা-মা কে নিজের ইচ্ছাই বলি আমাকে একটা দোকান খোলে দাও।তখনি বাবা-মা’র উৎসাহে নিজেই একটা দোকান খুলে বসি।আর সেটি খাবার হোটেল বা চায়ের দোকান নয়।বিয়ে-বাড়ি কিংবা সামাজিক আচার অনুষ্ঠানের কথা বিবেচনা করে খূলে দিলেন “আল্লাহর দান” নামক ডেকোরেশনের দোকান।

বাবা-মা’র দেওয়া সামান্য পুঁজিতে আর স্থানীয় বন্ধুবান্ধবের নিকট থেকে ধারদেনা, ব্যাংক লোন নিয়ে 
খুলে বসা ডেকোরেশনের দোকানে বাবা একজন স্বনামধন্য বাবুর্চি হিসেবে প্রায় প্রতিদিনই ভাড়ায় যাচ্ছে নানা অনুষ্ঠানে।এক সময় হোটেল ব্যবসা ছেড়ে শুধুমাত্র ডেকোরেশন ব্যবসায় বাবা আর আমি মনোনিবেশ করি।
ভাড়া আর গ্রাহকের চাহিদা মেঠাতে গিয়ে দেখা দেয় আরো পুঁজি খাটানোর প্রয়োজনীয়তা।কিন্তু নিরুপায়।ধার-দেনা করে বন্ধু মহলের নিকট থেকে,দোকানে প্রায় লক্ষাধিক টাকার প্রয়োজনীয় মালামাল কিনে নিই ।ব্যবসার ধরণ আর ভাড়া বেশ জমে ওঠতেছে দেখি।

দোকান খোলার শুরুতেই প্রায় প্রতিদিনই ভাড়ায় যাচ্ছে ডেকোরেশন সামগ্রী। হাজার পাঁচেক থেকে কোনদিন লাখ টাকার পর্যন্ত ভাড়া হয়েছে।এভাবে ২টি ইলেকট্রনিকের দোকান গড়ে তুলি অদম্য প্রচেষ্টায়। বর্তমানে দোকান দুটিতে ১০/১২ লাখ টাকার মত পুঁজি রয়েছে।তার মধ্যে ব্যাংক কর্জ,আত্নীয় কুটুমের নিকট থেকে ধার-দেনা করা টাকা এবং বাকিতে আনা মালামাল রয়েছে অন্তত ৫ লক্ষাধিক টাকার।আল্লাহর নিকট শোকরিয়া আদায় করে এমনি ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার গল্প শোনালেন উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ২নং ওর্য়াডের বালুখালী পানবাজারের তরুণ ব্যবসায়ী নুরুল বশর পুতিয়া।

সে উখিয়ার পালংখালীর যুব সমাজের একজন পরিচিত মুখ।নিজের এলাকায় একজন সৎ নিষ্ঠাবান ব্যবসায়ী হিসেবেও রয়েছে সুনাম।বিগত ১ যুগের বেশী সময় ধরে নিজের অদম্য প্রচেষ্টায় “হালাল” এবং সৎ ব্যবসা করে জিবীকা নির্বাহ করে আসছেন বলে জানান তিনি।

এক প্রতিক্রিয়ায় তরুণ ব্যবসায়ী নুরুল বশর পুতিয়া জানান,তিলে-তিলে নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আজ ১ টি ডেকোরেশন ও ২টি দোকানের ইলেকট্রনিকস পণ্যের দোকান মালিক হয়েছি।হালাল রুজিতে স্ত্রী,সন্তান নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি।তাতে আমার পারিবারিক, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে উঠেপড়ে লেগেছে।আমার বিরুদ্ধে নানা অপকর্মেরর অপবাদ দিয়ে রাজনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যবসায়িক মান মর্যাদা ক্ষুন্ন করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।আমি হলফ করে বলতে পারি শত অপচেষ্টা চালালেও আমি সৎ থাকায় আল্লাহর উপর ভরসা রেখেছি বলে ব্যবসায়িক ভাবে সফলতা পেয়েছি।আগামীতে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে আমি আরো সফলতা পাবো প্রত্যাশা করছি।যেহেতো গ্রাহক সাধারণ আমার উপর আস্থা রেখেছেন।আমার ছোট একটি দোকান থেকে এতটুকু এগিয়ে চলা গ্রাহক সাধারণের অবদান আর প্রতিহিংসা পরায়ন ব্যক্তিদের কারণে জীদ করেছিলাম বলেই……।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*