ফটিকছড়িতে একটাই মাত্র ব্রীজ ঃ বদলে দিতে পারে বেশ কয়েকটি গ্রামের জীবনব্যবস্থা

ফটিকছড়িতে একটাই মাত্র ব্রীজ ঃ বদলে দিতে পারে বেশ কয়েকটি গ্রামের জীবনব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা যখন উন্নতির পথে, ঠিক তখনি শুধুমাত্র একটি ব্রীজের কারণে যোগাযোগ ও জীবনব্যবস্থার অবহেলার দিকে ঝুঁকছে বৃহত্তম ফটিকছড়ি ভূজপুর থানার অন্তর্গত, উপজেলা থেকে প্রায় ১৭কিলোমিটার উত্তরে নারায়ণহাট ইউনিয়নের হাপানিয়া, সাঁপমারা ও সুন্দরপুরসহ আশেপাশের প্রায় ৫/৬টি গ্রাম।
নারায়ণহাট বাজারসহ ইউনিয়নের অন্য গ্রাম, আশেপাশের ইউনিয়ন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ভূমি অফিস, ২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১টি বালিকা বিদ্যালয়, ১টি কলেজ, ১টি মহিলা মাদ্রাসা, ১টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি কে.জি. স্কুল সহ নারায়ণহাট-হেঁয়াকো-বাগানবাজার-রামগড় রোড, নারায়ণহাট-মিরশ্বরাই রোড, নারায়ণহাট-ফটিকছড়ি-খাগড়াছড়ি রোড ও নারায়ণহাট-ফটিকছড়ি-চট্টগ্রাম শহর রোডকে উল্লেখিত ৫/৬টি গ্রাম, একটি সিনিয়র মাদ্রাসা, ইউনিয়ন রেঞ্জ অফিস, বিখ্যাত আউলিয়া হযরত সুন্দর শাহ (র) এর আস্তানা শরীফ ও আরো একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আলাদা করেছে হালদা নদী।
আর তাই দৈনন্দিন জীবনে চলাফেরা করার জন্য নদী পারাপারে ব্যবহার করতে হয় সেই চাঁদা, ধান, চাউলের বিনিময়ে বানানো প্রায় ৩০০ফুট নড়বগে কাঁঠের সেতু। ব্যবসা কিংবা বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ কাজে স্কুল কলেজ মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রী ও এলাকাবাসীসহ প্রতিদিন এই সেতুটি ব্যবহার করেন প্রায় কয়েক শতাধিক মানুষ। শুধু তাই নয়, ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয় সিএনজি, রিক্সা, ভ্যান, মোটরসাইকেলের মতো যানবাহনকে। ওপারে থাকা গ্রামবাসীগুলোর জরুরী চিকিৎসার জন্য স্থানীয় মেডিকেল বা চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে আসতে হলেও কষ্টের মধ্যে পার হতে হয় এই কাঠের সেতুটি। চট্টগ্রাম শহর থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে গ্রামে গেলে গাড়ি অন্যত্র পার্কিং করেই সেতুটি পার হতে হয়। গ্রামের কোনো মানুষ অন্য কোথাও মৃত্যুবরণ করলে তাঁর মরদেহবাহী গাড়িটিও ঢুকতে পারেনা গ্রামে। কোনো কারণে বন্যা হলে বা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে জীবন ঝুঁকি নিয়েই সেতুটি পার হতে হয়। আর সেতুটির কোনো কারণে একবার সংস্কার কাজ করতে গেলে মানুষকে নদীর পানি ডিঙ্গিয়েই নদী পার হতে হয়। সেতুটির কারণে অনেক সময় ব্যাহত হয় গ্রামগুলোর আর্থ সামাজিক ও শিক্ষা ব্যবস্থা।
এলাকাবাসীর মতে, “এখানে ব্রীজ হলে অবহেলিত গ্রামগুলো পাবে উন্নয়নের ছোঁয়া। একটি ব্রীজের অভাবে আমরা সুষম উন্নয়ন হতে পিঁছিয়ে আছি। একটি ব্রীজই পারে আমাদের আর্থ সামাজিক ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে।”
মাঝেমাঝে লোকমুখে বেশ কয়েকবার সেতুটির পরিবর্তনে ব্রীজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, বাজেট হচ্ছে শুনলেও বছর কি বছর চলে গেলেও, নির্মাণের কোনো আবাশ দেখা যায়না। এই বিরক্তিতে এলাকাবাসীরা বলেন, “যেদিন কাজ শুরু হবে, সেদিনই বিশ্বাস করা হবে ব্রীজের কাজ শুরু হয়েছে।”
সেতুটিকে ঘিরে জনদূর্ভোগের সীমা নেই এলাকাবাসীর। এই একটি ব্রীজই পারে প্রায় ০৫ থেকে ০৬টি গ্রামের প্রায় ১০হাজারের অধিক মানুষের যোগাযোগ ও জীবনব্যবস্থা পরিবর্তন করতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*