ময়মনসিংহের ভালুকায় এনজিওর ঋণের চাপে এক ব্যবসায়ীর আত্মহত্যার অভিযোগ

ময়মনসিংহের ভালুকায় এনজিওর ঋণের চাপে এক ব্যবসায়ীর আত্মহত্যার অভিযোগ
মিজানুর রহমান , ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের ভালুকায় কাজল (৪০) নামে এক ব্যবসায়ী স্থানীয় সুদখোর ও এনজিওর ঋণের চাপে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জামিরদিয়া গ্রামে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাফরগাঁও উপজেলার ধোপাখোলা গ্রামের কাজল মিয়া ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া গ্রামে জমি কিনে বাসাবাড়ি নির্মাণ করে বসবাসের পাশাপাশি টেইলারিং ব্যবসা করে আসছিলেন। ব্যবসার সুবাদে ইতোমধ্যে স্থানীয় সুদখোর ও এনজিওর কাছে বহু টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনারদিন সকালে স্থানীয় সুদখোর স্থানীয় ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান, জজ মিয়া, জুলফিকার, ফারুক ও সুজন কাজলের বাসায় গিয়ে পাওনা টাকার জন্য অশালিন ভাষায় গালাগাল ও বাসা দখল করে নেয়ার হুমকী দেয়। তাছাড়া স্থানীয় এনজিও পিদিম ফাউন্ডেশন নামে একটা এনজিও’র কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছিলো। দুই লাখ টাকা কিস্তিতে পরিশোধ হওয়ার পর এনজিওর ম্যানেজার মনিরুল ইসলাম কাজলকে বলেছিলো তিন লাখ টাকা জমা দিলে পাঁচ বছর মেয়াদী ১৮ লাখ টাকা দেয়া যাবে। পরে বিভিন্ন ভাবে ব্যবসায়ী কাজল সুদসহ বিভিন্ন ভাবে গত সোমবার তিন লাখ টাকা যোগাড় করে এনজিওতে জমা দেয়ার পর মঙ্গলবার দুপুরে ম্যানেজার জানিয়ে দেন আর টাকা দেয়া যাবেনা। এ ঘটনার পরদিন বিকেলে তিনি এনজিরওর ওই ঘটনায় ও সুদখোরদের ঋনের চাপের কারণে রাগে, অপমানে ও ক্ষোভে বিষপান করে আত্মহত্যা করেন। নিহত কাজলের পরিবারের লোকজন জানান, স্থানীয় ভাবে কাজল অনেক ঋণগ্রস্ত হয়ে পরেছিলো তাছাড়া এনজিও পিদিম ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার একসাথে তিন লাখ টাকা জমা নিয়ে ঋণ না দেয়ায় স্থানীয় সুদখোরদের ঋণের চাপেই সে আত্মহত্যা করেছে। পাশের অপর টেইলারিং ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী জানান, এনজিওর টাকা না দেয়ার কারণেই কাজল ঋণের টাকার চাপে আত্মহত্যা করেছেন। স্থাণীয় ব্যবসায়ী সোহেল জানান, ব্যবসায়ী কাজলকে দিয়ে এনজিও থেকে সাত লাখ টাকা উঠিয়ে খলিল মেম্বারকে দেন কিন্তু পরে মেম্বার তা অস্বীকার করেন। তিনি আরো জানান, জুলফিকার ও খলিল মেম্বারের টাকার জন্য এমনকি এনজিও প্রতারণা করে ঋণ দিবে বলে পরে অস্বীকার করায় কাজল আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। অভিযুক্ত সুদের ব্যবসায়ী ফারুক জানান, নিহত কাজলের কাছে তিনি হাওলাদ হিসেবে এক লাখ ১২ হাজার টাকা পান। তবে টাকার ব্যাপারে তিনি কোন চাপ দেননি। অপর অভিযুক্ত জজ মিয়া জানান, বেশ কিছুদিন আগে কাজলের সাথে লেনদেন ছিলো। আব্দুল গফুর জানান, কাজলের কাছে তিনি পাঁচ লাখ টাকা পান কিন্তু টাকার জন্য কোন চাপ প্রয়োগ করেননি। স্থানীয় ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান জানান, কাজলের কাছে শুনেছি অনেকেই টাকা পাবে। তবে তিনি নিহত কাজলের কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। এনজিও পিদিম ফাউন্ডেশনের স্থানীয় ফিল্ড অফিসার হাফিজুর রহমান তিন লাখ টাকা এক সাথে জমা নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তার কিস্তিতে কোন গাফলতি ছিলোনা। তবে এ ঘটনা কেনো ঘটলো তা এ ব্যাপারে ম্যানেজারের সাথে কথা বললেই বুঝতে পারবেন। এনজিও পিদিম ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার মনিরুল ইসলাম জানান, কাজল মিয়া প্রথমে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলো এবং কিস্তিতে তিনি লক্ষাধিক টাকা পরিশোধও করেছিলেন। তাকে অধিক ঋণ দেয়ার আস্বাসে এক সাথে তিন লাখ টাকা জমা নেয়া হয়েছিলো কিন্তু হেড অফিস ঋণ অনুমোদন না দেয়ায় ঋণ দেয়া সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*