বঙ্গবন্ধুর বুদ্ধিবৃত্তিক ছিন্তাভাবনা এবং দূরদর্শিতা বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা পথিকৃৎ

বঙ্গবন্ধুর বুদ্ধিবৃত্তিক ছিন্তাভাবনা এবং দূরদর্শিতা
বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা পথিকৃৎ

কুতুব উদ্দিন রাজু,চট্টগ্রাম: ১৯৬৬ সালে ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ত শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তানে গ্রেফতার হলে ৭ জুন তাঁর মুক্তির দাবিতে হরতাল হলে এতে ১১ জন শহীদ হন। ৬ দফার মুল বক্তব্য ছিল প্রতিটি অঙ্গ রাজ্যে পূর্ণ স্বায়ত্ত শাসন সহ ফেডারেল রাষ্ট্রের আদলে পাকিস্তান পরিচালনা যেখানে আইন পরিষদের ক্ষমতা হবে সার্বভৌম এবং এ পরিষদ নির্বাচিত হবে সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে এবং জনসাধারণের সরাসরি ভোটে। ফেডারেল বা কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা দেশরক্ষা ও বৈদেশিক নীতি মাত্র ২টি ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে। অবশিষ্ট সকল বিষয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর ক্ষমতা থাকবে নিরঙ্কুশ। কিন্তু পাকিস্তান সরকার স্বায়ত্তশাসনের এই দাবি না মানায় পূর্ব পাকিস্তানে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ১৯৬৫ সালে পাক ভারত যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানকে সম্পূর্ণভাবে অরক্ষিত রাখা হয়। অথচ প্রতিরক্ষা বাজেটের বিরাট অংশের খরচ পূর্ব পাকিস্তানকে মিটাতে হতো। ১৯৫০ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে মোট ১১৩৩৪ কোটি রূপি পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যয় হলেও পূর্ব পাকিস্তানে ব্যয় করা হয় ৪৫৯৩ কোটি রূপি, যা ৭১.১৬% শতাংশ। বঙ্গবন্ধু পরিষদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে সহ-সভাপতি ডা. দিলীপ দে’র সভাপতিত্বে¡, অধ্যক্ষ মো. কফিল উদ্দিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস. রহমান মিলনায়তনে ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস উপলক্ষে স্বায়ত্তশাসন থেকে স্বাধীনতা শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তাগণ উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠরেন সাধারণ সম্পাদক ডা. মুহাম্মদ আইয়ুবুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের নৃবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. সুমন গাঙ্গুলী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক এস.এ. এম জিয়াউল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ডা. হোসেন আহমেদ।
বক্তারা আরো বলেন, ১৯৪৭ সমালে বাংলা ভাষায় কথা বলতো ৫৪% উর্দূ ভাষায় কথা বলতো ৭.২% লোক। উদর্ূূ শব্দটাই উর্দূ ভাষার নয়। এটি তুর্কি শব্দ। কিন্তু সেটিকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করতে জিন্নাহ উঠে-পড়ে লাগে। বাঙালি জাতীয়তাবাদীর যে নাবালক চেতনা ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছিল সেটি ১৯৬৬ সালে জাতীয়তাবাদের এবং স্বায়ত্তশাসনের দাবির অনেকটা পরিণত রূপ নিয়ে পরবর্তীতে মাত্র ৫ বছরে স্বাধীনতার আন্দোলনে পরিণত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*