পারিবারিক নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ থেকে কিশোরী ফাতেমাকে রক্ষা করলেন ইউএনও জুলিয়া সুকায়না

পারিবারিক নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ থেকে কিশোরী ফাতেমাকে রক্ষা করলেন ইউএনও জুলিয়া সুকায়না
পাইকগাছা,খুলনা,প্রতিনিধি।। ১৪ বছরের কিশোরী ফাতেমার স্বপ্ন লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হবে। সমাজের আর দশটা মেয়েরমত স্কুলে যাবে, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা করবে, মিশবে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে। সে এখন ৮ম শ্রেণিতে পড়ে। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মানুষের মত মানুষ হতে হলে তাকে যেতে হবে এখনো অনেকটা পথ। পিতৃহারা ফাতেমার স্বপ্ন পূরণ ও চলার পথের বড় বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে তারই পরিবারের লোক। ২০০৬ সালে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হন পিতা মোঃ হারুন শেখ। পিতার মৃত্যুর পর নিজ গ্রাম সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মাছিয়াড়া গ্রাম ছেড়ে পরিবারের সবাই পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনিতে বসবাস শুরু করে। ফাতেমা বর্তমানে কপিলমুনি মেহেরুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। ফাতেমার পরিবারের অভিভাবক বলতে এখন মা এবং অনার্স পড়–য়া ভাই। ফাতেমার অভিযোগ মা ছবিরন বেগম ও ভাই শাহীন শেখ তাকে লেখাপড়া শেখাতে চায় না। মুক্ত পরিবেশে চলা-ফেরা করার সুযোগ দেয় না। তারা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বিয়ে দিতে চায়। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় মা ও ভাই তাকে শারীরিক নির্যাতন করে। যদিও মা ও ভাই ফাতেমার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেন। কিশোরী ফাতেমার নির্যাতন ও বাল্য বিবাহ দেওয়ার চেষ্টার খবর স্কুলের প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়নাকে অবহিত করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাৎক্ষনিকভাবে থানার ওসি মোঃ এমদাদুল হক শেখের মাধ্যমে পরিবারের হাত থেকে ফাতেমাকে রক্ষা করার জন্য তাকে উদ্ধার করান। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার ওসি রোববার সকালে ফাতেমাকে নিয়ে কপিলমুনি মেহেরুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ে যান এবং বিষয়টি নিয়ে ফাতেমার পরিবারের সাথে কথা বলেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না নারী শিক্ষায় বর্তমান সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক ও বাল্যবিবাহের কু-ফল ও আইনগত দিক ও ফাতেমার বয়স ও উন্নত ভবিষ্যতের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ফাতেমার লেখাপড়ার সুযোগ ও সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি ও সহযোগিতা করার জন্য তার মাতা ছবিরন বেগম ও ভাই শাহীন শেখের প্রতি মানবিক আহ্বান জানান। এ সময় সকলের উপস্থিতিতে তার মা ও ভাই তাকে জড়িয়ে ধরে আবেগ আপ্লুত হয়ে ফাতেমার সকল দায়-দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে নেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ওসি এমদাদুল হক শেখ, ওসি (তদন্ত) রহমত আলী, ইউপি চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়াদ্দার, প্রধান শিক্ষক রহিমা আক্তার শম্পা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি আছাদুর রহমান পিয়ারুল সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। কিশোরী ফাতেমার সুরক্ষা ও উন্নত ভবিষ্যতের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং থানার ওসি’র মানবিক দায়িত্ববোধকে প্রশংসা করেছেন এলাকাবাসী। সকল বাঁধা অতিক্রম করে বেগম রোকেয়ার উত্তোরসূরী হিসাবে ফাতেমা ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এমন প্রত্যাশা সকলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*