চট্টগ্রামে কালুরঘাট সেতু নির্মানের দাবীতে ফেসবুক লাইভে সাংসদপুত্র ফারাজ করিম

চট্টগ্রামে কালুরঘাট সেতু নির্মানের দাবীতে ফেসবুক লাইভে সাংসদপুত্র ফারাজ করিম

কুতুব উদ্দিন রাজু,চট্টগ্রাম: দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে এই এলাকার বিশাল জনগোষ্টীর প্রাণের দাবীর সাথে একাত্নতা প্রকাশ করে অতি দ্রুত কালুরঘাট সেতু নির্মানের দাবী জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, তরুণ রাজনীতিবীদ সমাজসেবক ফারাজ করিম চৌধুরী।

ব্রিটিশ শাসনামলে কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি নির্মাণের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে দাবী জানিয়ে আসছিলেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ। এবার তাদের পাশে দাড়িয়ে মানুষের ভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন ফারাজ করিম চৌধুরী।

তিনি বলেন, লাখো নারীপুরুষ, আবাল বৃদ্ধ-বণিতার সীমাহীন দুঃখ-কষ্ট ও ভোগান্তি জড়িয়ে রয়েছে এই সেতুকে ঘিরে। শাহ আমানত (রহঃ) কর্ণফুলী সেতু নির্মাণের পূর্বে বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, বান্দরবান, কক্সবাজারের সাথে এই কালুরঘাট সেতুর মাধ্যমেই চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করতে হতো। বর্তমানে এই বৃহৎ অঞ্চলে বসবাস করা প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের প্রাণের দাবী এই কালুরঘাট সেতু নির্মাণ করা। আমাদের রাউজানে হয়তো অনেক রাস্তাঘাট আমরা এখনো করতে পারি নি, তবে এই সেতু নির্মাণের গুরুত্ব চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে আমি এড়িয়ে যেতে পারি না। আমরা জনগণ, আমাদের পদত্যাগ করার মতো কোন পদ নেই। আমরা সরকারের দিকে তাকিয়ে আছি। এই সেতুটি বাস্তবায়ন করা আমাদের প্রাণের দাবী।

শনিবার (৬ জুলাই) সকালে ফেসবুক লাইভে এসে কালুরঘাট সেতুর ভোগান্তির চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরেন তিনি। সাংসদপুত্রের ফেইসবুক লাইভে এসে কালুরঘাট সেতুর ভোগান্তি তুলে ধরে ধরায় দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষ তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছে।

এ সময় তিনি প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, বিগত ২০০১ সালে কালুরঘাট সেতু ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সেতুটির উপর দিয়ে ১০ টনের অধিক মালামাল নিয়ে ভারী যান চলাচল করছে। অথচ যেকোনো সময় সেতুটিতে ভয়াবহ দূর্ঘটনা ঘটে জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি হবার আশংকা রয়েছে। তখন তদন্ত কমিটি করে জীবনের মূল্য পাোয়া যাবেনা।

তিনি আরো বলেন, এই সেতুটি দিয়ে বাস-ট্রাক, রেল চলাচল করে । কিন্ত বর্তমানে সেতুটির উপর ছোট-বড় অনেক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।১৯৩০ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে কর্ণফুলী নদীর উপর প্রথম সেতু হিসেবে এই রেল সেতুটি নির্মিত হয়। প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে ট্রেন, যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক সহ ভারী যানবাহন চলাচল করে। এই সেতুর ভারসাম্য ৫ টন অনুমোদিত হলেও ১০ টন ওজনের গাড়ী চলাচল করছে। সবসময় গাড়ী আটকা পরে থাকে যে কারণে প্রতিনিয়ত সেতুর পিলারের উপর চাপ বাড়ছে। ২০০১ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই সেতুকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। ফলে যে কোন সময় ঘটতে পারে প্রাণঘাতী ভয়াবহ দুর্ঘটনা। লাখো নারীপুরুষ, আবাল বৃদ্ধ-বণিতার সীমাহীন দুঃখ-কষ্ট ও ভোগান্তি জড়িয়ে রয়েছে এই সেতুকে ঘিরে। শাহ আমানত (রহঃ) কর্ণফুলী সেতু নির্মাণের পূর্বে বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, বান্দরবান, কক্সবাজারের সাথে এই কালুরঘাট সেতুর মাধ্যমেই চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করতে হতো। বর্তমানে এই বৃহৎ অঞ্চলে বসবাস করা প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের প্রাণের দাবী এই কালুরঘাট সেতু নির্মাণ করা। আমাদের রাউজানে হয়তো অনেক রাস্তাঘাট আমরা এখনো করতে পারি নি, তবে এই সেতু নির্মাণের গুরুত্ব চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে আমি এড়িয়ে যেতে পারি না। আমরা জনগণ, আমাদের পদত্যাগ করার মতো কোন পদ নেই। আমরা সরকারের দিকে তাকিয়ে আছি। এই সেতুটি বাস্তবায়ন করা আমাদের প্রাণের দাবী।

ফারাজ করিম চৌধুরী বোয়ালখালী সেতুটি দিয়ে চলাচলকারী যান-বাহন চালকদের সাথে কথা বলেন এবং কালুরঘাট সেতুর কারণে তাদের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আমার বাবা রেলপথ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি। তিনি তার অবস্থান থেকে কালুরঘাট সেতুটি যাতে দ্রুত যাতে বাস্তবায়ন হয় সে ব্যাপারে সুপারিশ করেই যাচ্ছেন। আমি জেনেছি  একটি  কোরিয়ান কোম্পানি এটার ফিজিবিলিটি স্টাডি করেছে। তারাডিজাইনটা দেবে। এজন্য ৩ মাস সময়  চেয়েছে।

ফারাজ করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজের কাধে তুলে নেয়ার পর নতুন কালুরঘাট সেতু করার জন্য একটি প্রকল্প ইতিমপাস করিয়ে দিয়েছেন। চট্টগ্রামের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১ লক্ষ কোটি টাকার কাজ করছেন।

তিনি দূর্ঘটনার আশংকা প্রকাশ করে বলেন, কালুরঘাট সেতুর কারণে কোনো দূর্ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এমেচার বক্সিং ফেডারেশন এর সভাপতি বাবু সুমন দে, রাউজান উপজেলা ছাত্রলীগ এর সভাপতি জিল্লুর রহমান মাসুদ, দক্ষিণ রাউজান ছাত্রলীগ এর সভাপতি সৈয়্যদ মেজবাহ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, রাউজান পৌরসভা ছাত্রলীগ এর সভাপতি অনুপ চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আসিফ, রাউজান সাহিত্য পরিষদের সভাপতি মহিউদ্দিন ইমন, সহ-সভাপতি আহমেদ সৈয়্যদ, সেন্ট্রাল বয়েজ অব রাউজান এর সভাপতি মোঃ সাইদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুদ্দিন জামাল চিশতী, সাংবাদিক সাইফুদ্দিন খালেদ, শাহরিয়ার হাসান সাকিব, মিজানুর রহমান, তাজনবী ইমন, প্রিয়টন দে, আরফান গণি ফাহিম, জোনায়েদ উল্লাহ তুষার, আবদুল্লাহ আল সাকিব, ফরহানুল ইসলাম প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*