নড়াইলে মেডিকেল পর্যন্ত পুলিশ চাকরি পেলেন ভ্যানে সবজি বিক্রেতার ছেলে ও রুটি বিক্রেতার মেয়ে: পরিচ্ছন্ন নিয়োগের কারিগর পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন

নড়াইলে মেডিকেল পর্যন্ত পুলিশ চাকরি পেলেন ভ্যানে সবজি বিক্রেতার ছেলে ও রুটি বিক্রেতার মেয়ে: পরিচ্ছন্ন নিয়োগের কারিগর পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন
উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি■: দক্ষ করতে মেধাবী নিয়োগের বিকল্প নেই। তাই ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় কোনো তদবির ছাড়াই যোগ্যদের কনস্টবল ট্রেইনি পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। ২৯জুন থেকে ৫ জুলাই মেডিকেল পর্যন্ত কয়েক ধাপে পরীক্ষা শেষে সহস্রাধিক প্রার্থীর মধ্যে ২০ জনকে চূড়ান্ত নির্বাচন করা হয়েছে। যার মধ্যে নারী ও পুরুষ। সদ্য নিয়োগ প্রাপ্তরা মেধার পরিচয় দিয়ে আগামী দিনে পুলিশ বাহিনীর ভাবমুর্তিকে আরো উজ্জল করবে বলেও মন্তব্য। এদের প্রত্যেকের খরচ হয়েছে মাত্র ১০০ টাকা। চাকরী প্রাপ্তদের মধ্যে অধিকাংকশরই পিতা দিনমজুর। কারো পিতা মৎস্যজীবী, কেউ রাজমিস্ত্রি, কেউ রিকসা ভ্যান চালক, কেউ এতিম কেউবা কৃষক, কেউবা রুটি। অর্থ বিত্তের জোরে এবার চাকরী হয়নি কারো। দালাল চক্র ভিড়তে পারেনি ধারে কাছে। মেধা ও যোগ্যতার বলে বিনা ঘুষে পুলিশে চাকরী পেয়েছেন ২০ জন। চাকরী পাওয়ার ঘোষনা শুনে খুশিত কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন অনেকের পিতা-মাতা। আর পরিচ্ছন্ন নিয়োগের কারিগর হচ্ছে নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার)’র। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরীর জন্য। তার মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। চুড়ান্ত ভাবে উত্তীর্ণ হন ২০ জন। পুলিশ সুপারের ঘোষনা অনুযায়ী স্বচ্ছভাবে নিয়োগের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নড়াইলের পুলিশের ইতিহাসে ঘুষ বিহীন চাকরী প্রদান করায় বিভিন্ন মহল থেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার)কে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন গনমাধ্যমে তিনি প্রশংসায় ভাসছেন। উল্লেখ্য এর আগে নড়াইলের অনেক যুবক ভিটেবাড়ি বিক্রি করে চাকরী গ্রহনের ইতিহাস রয়েছে। সাবেক অনেক পুলিশ সুপার এমন অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত ছিলেন। আবার কেও দালালদের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন এমন কথাও শোনা গেছে। নড়াইলে মাত্র ১শ টাকায় পুলিশ কনেস্টবল পদে নিয়োগ পেয়েছে দরিদ্র পরিবারের ২০ জন ছেলে-মেয়ে। শারীরিক, লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা উত্তীর্ণ হওয়ার পর নিয়োগপ্রাপ্ত ২০ জনের নাম ঘোষণা করেন নিয়োগ বোডের সভাপতি ও নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার)। এ সময় নিয়োগ বোডের সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সহকারী পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া পুলিশ বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে গত ২৯ জুন পুলিশ লাইন্সে প্রায় ১ হাজার চাকরী প্রার্থী শারীরিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এদের মধ্যে শারীরিক পরীক্ষায় ৬২৪ জন উত্তীর্ণ হয়ে ৩০ জুন লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৮০ জনের মধ্যে ভাইভা পরীক্ষায় চুরান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়। পরে পুলিশ সুপার কনেস্টবল পদে এই ২০ জনের নাম ঘোষণা করেন। এদের অধিকাংশই দিনমজুর, রিক্সা ভ্যান চালক ও খেটে খাওয়া পরিবারের সন্তান। মাত্র ১শ টাকায় দরিদ্র পরিবারের ২০ জন কনেস্টবল পদে চাকরী পেয়ে অনেকেই খুশিতে কেঁদে ফেলেন। নিয়োগ হয়েছে পুলিশ কনস্টেবল পদে। চাকরী পেয়ে খুশিতে কান্না ধরে রাখতে পারলেন না। বলেন,আমি একজন দরিদ্র পরিবারের সন্তান। আমার মা একজন সামান্য ভ্যান চালিয়ে সবজি বেচে। আমি কখনো ভাবিনি আমার চাকরী হবে। অনেকে অনেক ধরনের কথা বলছে। টাকা ছাড়া চাকরী হবে না এ কথাও বলছে। আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করি। আজ আমার চাকরী হয়েছে। ১শ টাকা ছাড়া আমার কোন টাকা লাগে নাই। এজন্য আজকে আমি খুশি ও আনন্দিত। বিনা টাকায় চাকরী দেওয়ার জন্য আমি পুলিশ সুপার স্যারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। মতো আরো অনেকেই টাকা ছাড়া চাকরী পাওয়ার গল্প শোনান। যারা সবাই দরিদ্র পরিবার থেকে এসেছে। চাকরী পেতে কোন টাকা না লাগায় তারা সকলেরই পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। আজ যারা এখানে পুলিশ কনেস্টবল চাকরী পেয়েছে তারা সকলেই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। এই দরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়েদের বিনা টাকায় চাকরী দিতে পেরে আমি গর্বিত। কারণ যাদের টাকা পয়সা আছে, তারা অনেক ভাবে আরাম আয়েশ করতে পারে। দামি জামা প্যান্ট জুতা পড়তে পারে। ভালো খাবার খেতে পারে, ঘুরতে পারে। কিন্তু যারা দরিদ্র পরিবারের সন্তান তাদের ইচ্ছা থাকলেও ভালো দামি একটা শার্ট কিনতে পারে না, ইচ্ছে করলেই দাবি খামার খেতে পারে না। তাই আমি এই দরিদ্র ছেলে-মেয়েদের চাকরী দিতে পেরে গর্ববোধ করছি। হতদরিদ্র পরিবারের সদস্য হয়েও পুলিশে নিয়োগ পেয়েছেন অনেকেই। মেধাকে মূল্যায়ন করায় এমন হতদরিদ্র পরিবারের লোকজন চাকরির সুযোগ পেয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার), আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়কে জানান, পুলিশ বাহিনীকে দক্ষ করতে মেধাবী নিয়োগের বিকল্প নেই। তাই ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় কোনো তদবির ছাড়াই যোগ্যদের কনস্টবল ট্রেইনি পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। ২৯জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত কয়েক ধাপে পরীক্ষা শেষে সহস্রাধিক প্রার্থীর মধ্যে ২০ জনকে চূড়ান্ত নির্বাচন করা হয়েছে। যার মধ্যে নারী ও পুরুষ। সদ্য নিয়োগ প্রাপ্তরা মেধার পরিচয় দিয়ে আগামী দিনে পুলিশ বাহিনীর ভাবমুর্তিকে আরো উজ্জল করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*