ফটিকছড়িতে বন্যা,যোগাযোগ বন্ধ বিভিন্ন প্রধান সড়কে

ফটিকছড়িতে বন্যা,যোগাযোগ বন্ধ বিভিন্ন প্রধান সড়কে

এম আর আই রফিক,ফটিকছড়ি টানা কয়েকদিনের বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন খাল নদীর ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয়েছে বিভিন্ন এলাকা। যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে বিভিন্ন প্রধান সড়ক ও গ্রামীণ সড়কে। উপজেলার সুয়াবিল,হারুয়ালছড়ি,রোসাংগিরী,লেলাং,ভুজপুর,সুন্দরপুর নাজিরহাট পৌরসভা,ফটিকছড়ি পৌরসভাসহ বিভন্র স্থানে বন্যায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। হাজীপাড়া অংশে হালদার বাঁধ ভেঙ্গে দক্ষিণ রোসাংগিরী এবং উত্তর সমিতিরহাটে পানি প্রবেশ করে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান শিক্ষক বেলাল উদ্দিন আকাশ। হালদার ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে সুয়াবিলের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে নাজিরহাট- কাজিরহাট সড়কে। উক্ত এলাকার বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসাইন জানান পূর্বের কয়েকটি পুরনো ভাঙা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে নাজিরহাট পৌরসভার সুয়াবিলের ৩ নং ওয়ার্ড,টেকের দোকান, বারমাসিয়া, কার্পাসপাড়া, পূর্ব সুয়াবিল এলাকার বিভিন্ন স্থানে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।সুয়াবিলের টেকের দোকানের প্রধান সড়কের উপর পানি উঠে যাওয়ায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে আছে। মানুষ হেটে হেটে নাজিরহাট-সুয়াবিল যাতায়াত করছে।কয়েকটি গ্রামীণ সড়কও পানিতে ডুবে গেছে। বারমাসিয়াএলাকার নিম্নাঞ্চল ও গ্রামীণ সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। নাইস্যারহাট ঘাটের পূর্বের ভাঙন দিয়ে পানি বের হওয়াতে কয়েকটি মৎস ও মুরগীর খামারেও পানি ঢুকে পড়েছে। নাজিরহাট রশিদা পুকুর পাড়,কুম্ভারপাড়া,বাঘমারা পুকুর সংলগ্ন হালদার ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করছে।শংকায় রয়েছে এলাকাবাসী।চট্টগ্রাম- খাগড়াছড়ি সড়কের কয়েকটি স্থানে পানি গড়িয়ে পড়ছে বলে জানা গেছে। গত ক‌য়েক‌দি‌নের টানা বৃ‌ষ্টি‌তে হারুয়ালছ‌ড়ির বিভিন্ন এলাকা প্লা‌বিত হয়েছে। উক্ত এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হাসান জানান, গাউ‌ছিয়া রহমা‌নিয়া সু‌ন্নিয়া দা‌খিল মাদ্রাসা ও হারুয়ালছ‌ড়ি উচ্চ বিদ্যালয়সহ এলাকায় অ‌ধিকাংশ শিক্ষা প্র‌তিষ্ঠান বন্যায় প্লা‌বিত হ‌য়ে‌ছে। লেলাং ইউনিয়ন থেকে মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ও বন্যায় ঘরবন্দী হয়ে পড়েছেন ইউনিয়নের নিচু এলাকার বাসিন্দারা। গহিরা -হেঁয়াকো সড়কসহ বিভন্ন গ্রামীণসড়ক ডুবে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।বন্যায় লেলাংবাসীর জন্য ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ৫ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে বলে জানান লেলাং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সরোয়ার উদ্দীন চৌধুরী শাহীন। সুন্দরপুর ইউনিয়নের মাস্টার বটন কুমার দে জানান,হালদা ও ধুরুং এর ভাঁঙ্গা বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে প্লাবিত হয়েছে।ডুবে রয়েছ বিভিন্ন সড়ক। এছড়া উপজেলার আরো বিভিন্ন স্থানে টানা বর্ষণ,পাহাড়ি ঢল ও বিভিন্ন খাল নদীর ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে বন্যা ও জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় অর্ধশত গ্রামের মানুষ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সায়েদুল আরেফিন উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ২০০ প্যাকেট শুকনো খবার ও ৫ মেট্রিক টন চাউল বিতরন করছেন বলে জানান। তিনা আরো বলেন,জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে খবরাখবর নিচ্ছি এবং জনপ্রতিনিধিদের এলাকাবাসীর পাশে থাকার অনুরোধ করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*