ফটিকছড়িতে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্ধি, বন্যার পানিতে ডুবে ১ শিশুসহ ২ জনের মৃত্যু

ফটিকছড়িতে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্ধি, বন্যার পানিতে ডুবে ১ শিশুসহ ২ জনের মৃত্যু

এম.বেলাল উদ্দীন আকাশ,স্টাফ রিপোর্টার৷৷১২ জুলাই- বন্যার পানিতে ডুবে ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে পৃথক ঘটনায় ইমাম হোসেন (৭) নামে এক শিশু ও আদনান(১৬) নামে এক ছাত্রের প্রাণহানি ঘটে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়,ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর থানাধীন নারায়াণহাট ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের চাঁনপুরের অন্তর্গত নতুন পাড়ার মেকানিক বেলালের ছেলে মুহাম্মাদ ইমাম হোসাইন শুক্রবার সকালে বন্যার পানিতে ডুবে প্রাণ হারায়। অপর দিকে,নাজিরহাট পৌরসভা ৮নং ওয়ার্ডস্থ পশ্চিম পাড়া কাসেম গোমস্তার বাড়ী নিবাসী নুরুল আবছারের ২য় পুত্র আদনান(১৬) বৃহস্পতিবার বিকালে হাটহাজারীর কাটিরহাট নানুর বাড়ীতে বেড়াতে গেলে সেখানে পানিতে ডুবে মারা যায়।আদনান এবার এসএসসি পরিক্ষার্থী ছিল। এদিকে কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে ফটিকছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি হয়ে আছে উপজেলার প্রায় ২০ হাজার মানুষ। সেই সাথে পানিতে ভেসে গেছে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত মৎস্য প্রকল্প ও মুরগীর খামার। এছাড়া ফসলের ক্ষেত, আউশ ধানের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। কাঁচা, পাকা, আধাপাকা রাস্তাসহ গ্রামীণ সড়কগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় যানবাহন ও জনচলাচলে দূর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। উপজেলার নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়ক, গহিরা-ফটিকছড়ি সড়ক কয়েকফুট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের কারণে হালদ ও ধুরুং নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় শংকায় দিন কাটাচ্ছে মানুষ। জানা যায়, ভারি বর্ষণে পানি বৃদ্ধির ফলে সুন্দরপুর, সমিতিরহাট, ভূজপুর, লেলাং, নারায়ণহাট, দাঁতমারা, হারুয়ালছড়ি, পাইন্দং, রোসাংগিরী নানুপুর সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে জীবন যাপন করছে। এসব ইউনিয়নের অনেক কাঁচা সড়ক ধসে যাওযায় মানুষের চলাচলের বিঘ্ন ঘটছে বলে এলাকাবাসী জানান। উপজেলার লেলাং ইউপির সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান সরোয়ার হোসেন জানান, ‘টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে তার ৪টি পুকুরের ৭ লক্ষ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এতে করে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।’ উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, পানিবন্দি পরিবারে ভোগান্তির শেষ নেই। প্রবাসী বাবুল মিয়ার স্ত্রী জোবেদা বেগম বলেন, রান্না ঘরে পানি উঠার কারণে বৃহস্পতিবার সারাদিন রান্না করা সম্ভব হয়নি। এদিকে উপজেলার পানি বন্দি মানুষেরে জন্য জরুরী ত্রাণ সহায়তা দিছে জেলা প্রশাসন। এসব ত্রাণ বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার সুন্দরপুর ও পাইন্দং ইউনিয়নে বিতরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। অপরদিকে, সুন্দরপুর, পাইন্দং,ভূজপুর,নারায়ণহাট ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সায়েদুল আরেফিন ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হোসাইন মোহাম্মদ আবু তৈয়ব। এসময় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেবুন্নাহার মুক্তা, পি.আই.ও আবুল হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ, আব্দুল কুদ্দুস, মিজানুল আলম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হোসাইন মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন,বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরস্থিতির চরম অবনতি হবে। এতে লাখো মানুষের দূর্ভোগ বাড়বে। ইতোমধ্যে যেসব এলাকার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে, সেসব এলাকায় আমরা সার্বক্ষণিক খবরাখবর রাখছি এবং যে কোন পরস্থিতিতে আমরা মানুষের পাশে থেকে সহায়তা করে যাব। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সায়েদুল আরেফিন বলেন, ফটিকছড়িতে ৩ হাজারেরও বেশী পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় আছে। জেলা প্রশাসন হতে জরুরীভাবে আমরা ৫০০ কেজি ত্রাণ সহায়তা পেয়েছি। এসব ত্রাণ ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে যোগাযোগ করে পানিবন্দি এলাকার মানুষের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া ক্ষয়ক্ষতির পরমিাণ ও সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে ইউপি চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*