উখিয়ায় দ্ধিতীয় দিনেও রোহিঙ্গা নেতাদের সাথে বৈঠকে বসলেন মিয়ানমার প্রতিনিধি দল

উখিয়ায় দ্ধিতীয় দিনেও রোহিঙ্গা নেতাদের সাথে বৈঠকে বসলেন মিয়ানমার প্রতিনিধি দল

শ.ম.গফুর,উখিয়া,কক্সবাজার থেকেঃ রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসা মিয়ানমার ও আহা সেন্টারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের মত বৈঠকে বসেছেন রোহিঙ্গা নেতারা। আজ (২৮জুলাই) সকালে উখিয়ার কুতুপালং-৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথকভাবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রোহিঙ্গা নেতারা বরাবরের মত তাদের দাবি গুলো উত্থাপন করেন। এসময় প্রতিনিধিদলের নেতৃবৃন্দরা রোহিঙ্গা নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন যে নিয়মিত বৈঠক অব্যাহত থাকলে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে জটিলতা দূর হবে।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আসা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের দূযোর্গ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আহা সেন্টারের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন রোহিঙ্গা নেতারা। বৈঠকে আহা সেন্টারের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে রোহিঙ্গা নেতারা খোলামেলা আলোচনা করেন। এরপর বেলা ১১টার দিকে একইভাবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রসচিব মিন্ট থোয়ের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি বৈঠকে বসেন রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গেও। এরপর আন্তজার্তিক বিভিন্নদাতা সংস্থা ও এনজিও এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুরূপ বৈঠকে বসেন এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করেন। পরে দুপুর ১টার দিকে ১০জন হিন্দু রোহিঙ্গা নেতা ও ৪জন খ্রিষ্টান ধর্মলম্বী রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে আলাপ-আলোচনা করেন। এসময় রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য বুঝিয়েছেন।

কক্সবাজার রোহিঙ্গা ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো: আবুল কালাম সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সকাল থেকে মিয়ানমারের উচ্চ প্রতিনিধিদল ও আহা সেন্টারের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের দফায় দফায় বৈঠকে বসেন। এসময় রোহিঙ্গা নেতাদের মিয়ানমারের ফিরে যাওয়ার জন্য বার বার অনুরোধ করছেন। একইভাবে রোহিঙ্গা নেতারাও তাদের দাবি গুলো প্রতিনিধিদলের সামনে তুলে ধরছেন। এভাবে নিয়মিত আলোচনা অব্যাহত থাকলে আগামীতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ইতিবাসক হিসাবে দেখছেন তিনি।

এর আগে গত ২৭ জুলাই প্রতিনিধিদলটি সকাল ১০টার দিকে সে দেশের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে’র নেতৃত্বে কক্সবাজার বিমান বন্দরে পৌছেন। এরপর ইনানীতে অবস্থিত রয়েল টিউলিপ হোটেল হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং এক্সটেনশন-৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে দুপুর ১টার দিকে রোহিঙ্গা নেতাদের সাথে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলটি বৈঠক করেন। এসময় রোহিঙ্গা ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো: আবুল কালাম, অতিরিক্ত কমিশনার শামসুদ্দোজা নয়ন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম সরওয়ার কামালসহ ‘আরআরআরসি’ জেলা প্রশাসন, পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্নদাতা সংস্থার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজারে সফরে আসা মিয়ানমারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সাথে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের দূযোর্গ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আহা সেন্টারের একটি প্রতিনিধিদলও। আহা সেন্টার ও মিয়ানমারের প্রতিনিধিদল একসঙ্গে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নিতে আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদেও বুঝিয়েছেন। এসময় প্রতিনিধিদলটি রোহিঙ্গাদের জন্য মিয়ানমার সরকার যেসব কাজ করছে সেগুলো তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৪ আগষ্ট থেকে রোহিঙ্গাদের উপর রাখাইন রাজ্যে চলা হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাচঁতে এই পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ ১৮ হাজার ৯৭৫জন রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গা অবস্থান করছে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ পাহাড়ে ৩২টি ক্যাম্পে। দীর্ঘ সময় ধরে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে দ্বিপক্ষীয় একটি চুক্তিতে সই করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। সব রকমের প্রস্তুতির পরও মিয়ানমার রহস্যজনক কারণে চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেনি। পরে জাতিসংঘসহ বিশে^র প্রায় সব দেশেই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ করে। চীনের ভূমিকা অস্পষ্ট থাকলেও সম্প্রতি তারাও সবুজ সংকেত দিয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরজমিনে দেখে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার পক্রিয়ায় দ্বিতীয় বারের মত মিয়ানমারের উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধি দলের আগমন বলে ধারণ করছে কূটনীতিক মহল। প্রতিনিধিদলটি আজ বিকালে ঢাকায় ফিরে যাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*