সাতক্ষীরায় ৯ জন ডেঙ্গু রোগি সনাক্ত : সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান শুরু

সাতক্ষীরায় ৯ জন ডেঙ্গু রোগি সনাক্ত : সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান শুরু

হেলাল উদ্দীন , সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি : ডেঙ্গু আতঙ্কে সাতক্ষীরা বাসী। গত ২২ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত সাতক্ষীরায়ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ৯ জন রুগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। তারা সাতক্ষীরা সদর ও সাতক্ষীরামেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিচ্ছেন। তবে, ডেঙ্গু প্রতিরোধেইতিমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ পালনসহ নানা জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযান শুরু করা হয়েছে।ডেঙ্গু আক্রান্তরা হলেন, আশাশুনি উপজেলার দরগাপুর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের বাবুর আলীর ছেলে হামিদুল ইসলাম (৩৫)। তিনি  সর্ব প্রথম গত ২২জুলাই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। এর পরপর্যায়ক্রমে যারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তারাহলেন, দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া এলাকার মাহাবুবার রহমানের ছেলে মেহেদিহাসান (২৮), সাতক্ষীরা সদর উপজেলার চুপড়িয়া মাধবকাটি গ্রামের মৃত মালেকসরদারের ছেলে দিনমজুর আব্দুর রকিব ( ৫০), একই উপজেলার থানাঘাটা গ্রামের মীর ইদ্রিস আলীর ছেলে কলেজ ছাত্র মীর শামিম নাহিদ (১৮), তালা উপজেলারআঠারই গ্রামের কলেজ ছাত্রী সারবিনা দীবা (১৯), কলারোয়া উপজেলার হঠাৎগঞ্জগ্রামের আব্দুল মাজেদের স্ত্রী শাকিলা পারভীন (৩২), এছাড়া একজন মেডিকেলকলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন এবং অপর একজনকেঢাকায় রেফার করা হয়েছে। তবে তাদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ৭ জন ঢাকা থেকে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরায়এসেছেন। বাকী দুই জন দিনমজুর রকিব ও গৃহবধু শাকিলা তাদের স্ব স্ব এলাকাথেকে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।এদিকে, সাতক্ষীরায় এ পর্যন্ত ৯ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হওয়ায় অনেকেই আতঙ্কিত। যেকোন সময় যে কেউ এই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হতে পারে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের সভাপতি এড. ফাহিমুল হককিসলু জানান, এখনই সমস্ত নাগরিককে সচেতন করতে হবে এবং যেকোন মূল্যেপ্রত্যেক স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সচেতনতামুলক কাজ করতে হবে।তিনি বলেন, এখনই ডেঙ্গু শুরু হয়েছে তা অতি দ্রুত নির্মুল করতে না পারলেএর প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। ফলে প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ওপৌর কর্তৃপক্ষ যৌথ ভাবে উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব। তানা হলে এর প্রাদুর্ভাব আরও বিস্তার হতে পারে। তবে, মশক নিধনে বাজেটথাকলেও পৌর কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে তেমন কোন ভুমিকা পালন করেননা বলে তিনিক্ষোভ প্রকাশ করেন।সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার জয়ন্ত কুমার সরকার জেলায় ৯ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এর মধ্যে একজন মেডিকেলকলেজ হাসাপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বাকী ৬ জন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালেচিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া একজনকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে এবং অপর একজন সুস্থহয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তিনি জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতিমধ্যে স্কুল কলেজেরশিক্ষার্থীদের মাঝে চিকিৎসক ও শিক্ষকরা সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করেছে।
তিনি আরো জানান, আগামীকাল সোমবার থেকে সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু কর্ণার নামেএকটি মেডিকেল ক্যাম্প চালু করা হবে।সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞআসাদুজ্জামান জানান, গাঁয়ে ব্যাথা ও জ্বর হলে আতঙ্কের কিছু নেই। সাথে সাথে ডাক্তারের পরামর্শ নেবারকথা বলেন তিনি।  একই সাথে তিনি পানি ও পানি জাতীয় খাদ্য ( ডাব, শরবত,পেঁপে) বেশী খাবার পরামর্শও দেন। এছাড়া বাড়ির আঙিনায় বদ্ধ ময়লা পানিপরিষ্কারসহ বাড়িতে সবাইকে মশারি টানিয়ে ঘুমানোর পরামর্শ দেন। এছাড়া স্কুলও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের ফুলহাতা শার্ট পরে স্কুল-কলেজে যাওয়ার পরামর্শদেন।এ ব্যাপরে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, ইতোমধ্যেজনসচেতনা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। আমাদের মাঠপর্যায়ে যেসমস্ত কর্মী আছে আমরা তাদেরকেও সচেতনতামূলক প্রচারে নির্দেশ দিয়েছি। ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য সব ধরণের প্রচারণা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনকরা, ঘুমানোর আগে অবশ্যই মশারি ব্যবহার করা, বসত বাড়ির আশপাশে পরিস্কারপরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং কাজ চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*