আমার বাবা ছিলেন আমার আদর্শ দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকীতে

আমার বাবা ছিলেন আমার আদর্শ দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকীতে

মোঃ কুতুব উদ্দিন রাজু!

২৮ জিলকদ্ ১৪৩৮ হিজরী,২১ আগস্ট ২০১৭ সালের ঠিক এমন একটি দিনে রাত ৯:৪০ মিনিটে বাবাকে হারাতে হয়েছে, চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলায় জে কে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবা আমাদের ছেড়ে চলে যান না ফেরার দেশে, যেখানে আমার মেঝ ভাই,সেজ ভাই ও সেজ বোন উপস্থিত ছিল, সেদিনেই বুঝেছি বাবাকে হারানোর শোকটা কতটা কষ্টের । যকন আমার ভাই আমাকে মোবাইল করে বলল বাবা আমাদের মাঝে নেই,তখন আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না। কারন সেই দিন বিনাজুরী ইউনিয়ন পরিষদে আমাদের চাচাদের সাথে জায়গার ঝামেলা নিয়ে আমার মেঝ ও সেঝ ভাই বাবাকে নিয়ে বোর্ড অফিসে যায় শহর থেকে গিয়ে ওদের সাথে আমিও যোগ দি। তখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম বাচ্চু অফিসে এসে সকাল ১১ টায় তার পাশে আমার বাবা বসে জায়গার দলিল চেয়ারম্যান নিযুক্ত মুন্সির হাতেই দিল। ঠিক ১০ মিঃ পর আমার বাবার খারাপ লাগতে লাগল, তখন আমরা তিন ভাই মিলে সিএনজিতে করে ১১.৪৫ মিঃ জে কে হাসপাতালে নিয়ে যায়,কর্তব্যরত ডাঃ পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বলল উনি ভালো আছে টেনশনের কোন কারন নেই। আমারা পাচঁ ভাই,তিন বোনের মধ্যে, চার ভাই, দুই বোন বাবা পাশে বসে আছি, তখন বাবা আমাকে বলে উটল বৌ বাসায় একা তুই বাসায় চলে যা, সবকিছু ঠিক টাক করে আমার ভাই বোনকে রেখে আমি বিকাল ৫ টার সময় শহরে চলে আসি, আমি এশার নামাজ পড়ে ফোনে বাবার সাথে কথা বলে ভাত খেতে বসবো সেই সময় ফোন আসল আল্লাহ্ চুরান্ত সিদ্ধান্তে আমার বাবা না ফেরার দেশে চলে গেল। সেই সময়টা মনে পড়লে দমবন্ধ হয়ে আসে । বাবাকে হারিয়ে আমি পাথর হয়ে গেছিলাম । তখন ভাবলাম মাকে নিয়ে আমারা ভাই বোন বেচে থাকব কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস গত ৭ মার্চ ২০১৯ আল্লাহ ডাকে সারা দিয়ে আমার মাও না ফেরার দেশে চলে গেলেন।
এখন, মা, বাবার সাথে পথ চলার সময় গুলোকে অনুভব করছি, চলার জীবনে বাবার ছায়াতেই বড় হয়েছি, মা বাবার ভালোবাসা,মা বাবার স্নেহ,মা বাবার আদর আজও আমার স্মৃতিতে সতেজ হয়ে ভাসে। আমার মা বাবা ছিলেন আমার আর্দশ। আজ মা বাবাকে আমার খুব প্রয়োজন ছিলো মা বাবার সাথে আমার অনেক কথা বলার ছিলো আমি বলতে পারিনি তাই মনের লুকানো কথাগুলো আজও কারো সাথে ভাগাভাগি করতে পারিনি। মা বাবার আর্দশ,মা বাবার সততা,মা বাবার নৈতিকতা আমার কাছে অতুলনীয়। মা বাবাহীন পৃথিবীটা বেশ অদ্ভুত ! যাদের মা বাবা নেই তারা শুধু জানেন মা বাবার অনুপুস্থিতিটা কেমন । এক সময় মা বাবার বুদ্ধিছাড়া কোন কাজেই সফল হওয়া যেতো না, আর আজ মা বাবাকে ছাড়া চলতে হচ্ছে প্রতিটা মুহূর্ত । বুদ্ধিহীন অবস্থায় চলতে হচ্ছে এই অচেনা জীবন শহরতলীতে। কিন্তু মা বাবার সেই স্মৃতি মা বাবার সেই উপদেশমূলক কথাগুলো আজও আমার অন্তরকে গভীরভাবে নাড়া দিয়ে যায়। বেশ কিছু আশা,স্বপ্ন ,কাজ অপূর্ণ থেকে গেল আমার। আমার বাবার নাম মোঃ আব্দুল হালিম ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৩২ সালে চট্টগ্রাম জেলা রাউজান উপজেলা লেলাংগারা গ্রামে হেদায়েত আলী সারাং এর বাড়ীতে আহমদুর রহমান ও মমেনা খাতুনে গর্ভে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি বিনাজুরী ইউনিয়নের দুই বারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য ছিলেন ও জায়গা জমির মাপ ঝোপ বুঝার ক্ষেতে এবং শালিশ বিচারের ক্ষেতেও অনেক অভিগ্য লোক ছিলেন বিনাজুরী ইউনিয়ন ও আশে পাশের ইউনিয়নসহ বাবাকে আব্দুল হালিম মেম্বার (হালিম মেম্বার) বললে এখন সবাই ছিনে এবং আমাদের বাড়ীর নামও এখন আব্দুল হালিম মেম্বার বাড়ী। সব কিছুই শেষ করে গত ২১ আগস্ট ২০১৭ সালে শেষ নি:শাস ত্যাগ করেন। সবাই আমার বাবার জন্য ও আমার মার জন্যও দোয়া করবেন । আল্লাহ যেন আমার মা বাবাকে জান্নাতে আলা মকাম দান করেন। আমিন ছুম্মা আমিন!

লেখক, সংবাদকর্মী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*