তিন মাসের ঘর ভারা বাকী টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন

তিন মাসের ঘর ভারা বাকী টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন

এম এ মমিনঃ তিন মাসের ঘর ভারা বাকী টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন মোল্লা। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে শরিয়ত পুর জেলার ভেঁদরগঞ্জ উপজেলার মহিষার গ্রামের অসহায় গরীব ও ভূমিহীন পরিবারের সন্তান মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন মোল্লা স্বাধীনতা সংগ্রামে নিজের জীবন বাজি রেখে দেশ মাতৃকার জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশ স্বাধীনে অগ্রনী ভুমিকা পালন করেন সে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সনদ প্রাপ্ত একজন মুক্তিযোদ্ধা, (সরকারি গেজেট নং ১৫৭৪ মুক্তিবার্তা নং (লালবই)০১১২০৫০২০৯) পিতা মৃত আহাদ মোল্লার পৈত্রিক কোন জমি জমা না থাকায় ভূমিহীন পরিবারটি স্হানীয় সরকারি খাস জমিতে ঘর তুলে বসবাস করতে থাকে, অভাবের তারনায় ছেলে মেয়েদের নিয়ে ঢাকায় এসে দিন মজুর ও শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ ও মুক্তি যোদ্ধার সম্মানি ভাতা দিয়ে কোন রকমে পরিবারের ভরনপোষণ ও ছেলে মেয়েদের বিবাহ সাদী করিয়েছেন। বর্তমানে ৩ ছেলে গার্মেন্টসে চাকরি করে ও মেয়েদের বিবাহ হয়েছে। এভাবেই কোন রকমে দিন চলছিল মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন মোল্লার, হটাৎ করে ব্রেন স্ট্রোক ও প্যারালাইসিস হয়ে তার জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। মুক্তি যোদ্ধা ভাতার সামান্য টাকা দিয়ে চিকিৎসার ব্যয়ভার ও খাওয়া দাওয়ার খরচ বহন সম্ভব হচ্ছে না। তিন মাসের ঘর ভারা বাকী হওয়ায় বাড়ী ওয়ালা বাসা ছেড়ে দিতে বলছে, তিন সন্তান গার্মেন্টসে চাকরি করে যা রোজগার করে তা দিয়ে তারা নিজেদের চলা ফেরা করতেই হিম সিম খাচ্ছে, তার উপর বাবার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা কোন ভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। এমতাবস্থায় চিকিৎসার সাহায্যের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মুক্তি যোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী, গাজীপুর সিটি মেয়র সহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করে এখন পর্যন্ত কোন সাহায্য সহযোগীতা না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পরেছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় শুয়ে আছেন সাংবাদিক পরিচয় দিতেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন এবং কান্না জরিত কন্ঠে বললেন বাবা আমার কিছুই নেই চিকিৎসা করাতে অনেক টাকা লাগছে বিভিন্ন থেরাপি দিতে হবে, তিন মাসের ঘর ভারা বাকী বাসা ওয়ালা টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন। ঘরে খাবার নেই আমাকে মেরে ফেলে দাও বলে কান্নায় ভেঙে পরলেন সান্ত্বনা দিলাম স্বাভাবিক হয়ে অভিযোগ করলেন আমার ৩ ছেলে ২ মেয়ে, ঘুস দিতে না পারায় একজনের ও সরকারি অথবা ভাল কোন চাকরি হয়নি। ছেলেদের সাথে কথা বলে জানলাম টাকার অভাবে লেখাপড়া করতে পারেনি ৮ম / ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েই ঢাকায় এসে গার্মেন্টস জব করছে। তাদের মাথা গোঁজার কোন ঠাঁই নেই ভুমিহীন ও নিঃস পরিবার হিসাবে সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের দাবী সরকারি ভাবে তাদের থাকার জন্য একটি আবাসন ব্যবস্হা বরাদ্দ করা হলে পরিবার পরিজন নিয়ে বাকি জীবন টা কাটিয়ে দিতে পারবেন। এছাড়াও তার চিকিৎসা সহায়তার জন্য বিভিন্ন দাতা সংস্থা, হৃদয়বান প্রবাসী বাংলাদেশি সহ দেশের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*