বকশীগঞ্জে আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে জামালপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

বকশীগঞ্জে আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা
প্রত্যাহারের দাবিতে জামালপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

রোকনুজ্জামান সবুজ, জামালপুরঃ জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জের নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি ও স্কুল শিক্ষক সাইফুল ইসলাম খোকার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রবিবার সকালে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জামালপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে জামালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজ রায়হান সাদা ও সাধারন সম্পাদক লুৎফর রহমানসহ জামালপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্র্রনিক্স মিডিয়ার অর্ধশতাধিক সাংবাদিক ্এবং নির্যাতীত আ’লীগ নেতার বহু স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি ও স্কুল শিক্ষক সাইফুল ইসলাম খোকার সহধর্মিনী রৌনুর জাহান আলো লিখিত বক্তব্যে জানান, তিনি ও তার স্বামী বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের নিলক্ষিয়া পুরাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। নিলক্ষিয়া গ্রামের একটি মসজিদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব কলহ চলছে। ওই দ্বন্দ্ব কলহের জের ধরে এবং সাইফুল ইসলাম খোকার রাজনৈতিক জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা চক্রান্ত করে আসছিল নিলক্ষিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান ওয়াকার, হামিদুর রহমান তারেক, আশরাফুল ইসলাম মিথুন, তারিকুল ইসলাম ছোটন ও আকলাকুর রহমান ছোট বাবুসহ স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল। ওই কুচক্রী মহল নিজেদের হীনস্বার্থ হাসিলের জন্য গত ১৩ আগস্ট ২০১৯ ইং তারিখ রাতে সাইফুল ইসলামন খোকাকে রাস্তায় একা পেয়ে বেধরক মাইরপিট করে। এ ঘটনায় আহত সাইফুল ইসলাম খোকা ওই রাতেই বকশীগঞ্জ থানায় গিয়ে একটি অভিযোগ দাখিল করলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। এতে হাবিবুর রহমান ওয়াকার ও হামিদুর রহমান তারেক গংরা আরো বেপড়–য়া হয়ে উঠে। তারা পরদিন ১৪ আগষ্ট/২০১৯ তারিখ সকালে আবারো সাইফুল ইসলাম খোকার বসত বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট করে। এছাড়াও ওইদিন তারা নিজেদের বসতবাড়ির বেড়া নিজেরাই সামান্য ভাংচুর করে উল্টো সাইফুল ইসলাম খোকার বিরুদ্ধে বকশীগঞ্জ থানায় দ্রুত বিচার আইনে মিথ্যা অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলার বাদী হাবিবুর রহমান ওয়াকার তার অভিযোগ পত্রে মিথ্যা বর্ণনায় উল্লেখ করেছে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের মাননীয় বিচারপতি জনাব মির্জা হোসেন হায়দার এর বসতবাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে হাবিবুর রহমান ওয়াকার যে বসতবাড়িটি ভাংচুরের নাটক সাজিয়ে মামলা করেছে সেই বসতবাড়িটির মালিক মাননীয় বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দার মহোদয় নহেন। বকশীগঞ্জের নিলক্ষিয়া গ্রামে মাননীয় বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দার মহোদয়ের নিজস্ব কোন জমি ও বসতবাড়ি নেই। কাজেই নিলক্ষিয়া গ্রামে একজন বিচারপতির বাড়ী ভাংচুরের ঘটনা সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও মিথ্যা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো জানান, মাননীয় বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দার মহোদয়ের বাবা আজ থেকে অন্তত: ৫০ বছর আগেই বকশীগঞ্জের নিলক্ষিয়া এলাকার সকল সম্পদ মানুষকে দান করে বকশীগঞ্জ ছেড়ে জামালপুর জেলা শহরে বাসাবাড়ি করে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। অথচ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক ওই মামলায় মাননীয় বিচারপতি মহোদয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে দেশের একজন স্বনামধন্য মাননীয় বিচারপতিকেই হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে বলেও তিনি দাবী করেন। প্রকৃতপক্ষে নিলক্ষিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান ওয়াকার ও হামিদুর রহমান তারেক গংরা নিজেদের হীনস্বার্থ হাসিলের জন্যই তারা নিজেদের বসতবাড়ি নিজেরাই ভেঙ্গে মাননীয় বিচারপতির বাসভবন ভাংচুরের মিথ্যা কথা উল্লেখ করে সাইফুল ইসলাম খোকার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা করেছে। এদিকে নিলক্ষিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান ওয়াকারের মিথ্যা অভিযোগের ষড়যন্ত্রমূলক মামলাটির সঠিক তদন্ত না করেই বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ মামলাটি দ্রুত বিচার আইনের ধারায় এফআইআর ভুক্ত করে সাইফুল ইসলাম খোকাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেল হাজতেও প্রেরণ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে রৌনুর জাহান আলো আরো জানান, দেশের একজন স্বনামধন্য মাননীয় বিচারপতি মহোদয়কে হেয় প্রতিপন্ন করতে তাঁর নামটি একটি ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার অভিযোগে ব্যবহার করেছেন খোকার প্রতিপক্ষরা। এতে মাননীয় বিচারপতি ও আ’লীগ এর ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুন্ন করাসহ খোকার পরিবারের সুনাম দারুণভাবে ক্ষুন্ন করা হয়েছে। তাই তিনি নিলক্ষিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান ওয়াকারের দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক মামলাটি দ্রুত প্রত্যাহার পুর্বক অবিলম্বে সাইফুল ইসলাম খোকাকে মুক্তি দাবি করেছেন। তিনি আরো বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা আভিযোগের সাজানো মামলায় জেল হাজতে পাঠানোর পরেও প্রতিপক্ষরা খোকার পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার জন্য বসতভিটা জবর দখলের জন্য নানাভাবে হুমকী ধমকিও দিচ্ছে। তিনি বর্তমানে শিশু সন্তানদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন।
একই সংবাদ সম্মেলনে রৌনুর জাহান আলো আরো জানান, সাইফুল ইসলাম খোকা অত্যান্ত সহজ সরল একজন ভাল মানুষ হিসাবে এলাকায় ব্যাপক সমাদৃত। অপরদিকে প্রতিপক্ষ হাবিবুর রহমান ওয়াকার নিলক্ষিয়া এলাকায় একজন শঠ ও প্রতারক প্রকৃতির লোক হিসাবেই পরিচিত। হাবিবুর রহমান ওয়াকার এর বাবার দুর সম্পর্কের খালাত ভাই মির্জা হোসেন হায়দার এদেশের একজন স্বনামধন্য বিচারপতি। নিলক্ষিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান ওয়াকার যেখানে সেখানে মাননীয় বিচারপতি মির্জা হোসাইন হায়দার মহোদয়ের ভাতিজা পরিচয় দিয়ে এলাকার বহু সাধারণ মানুষকে হয়রানী করে আসছে। মাননীয় বিচারপতির নাম ভাঙ্গানো ছাড়াও তিনি কথায় কথায় জামালপুর জেলার সকল এমপি-মন্ত্রী, জেলার সকল বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ভাঙ্গিয়েও মানুষকে হুমকী ধামকি দিয়ে থাকে।
এব্যাপারে মামলার বাদী রবিউল ইসলাম ওয়াকার জানান, মাননীয় বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দার নিলক্ষিয়া গ্রামের যে বাড়িতে মাঝে মধ্যে আসেন সেটা তারই বাড়ি। ওই বাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এলাকার বহু নেতাই জানেন বাড়িটি তার। তবে নিলক্ষিয়া ইউয়িন ভুমি অফিস ও বকশীগঞ্জ উপজেলা ভুমি অফিসের তথ্যে নিলক্ষিয়া গ্রামে মাননীয় বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দারের কোন জমি ও বসতভিটা নাই জানালে মামলার বাদী রবিউল ইসলাম ওয়াকার পাশ কাটিয়ে বলেন আপনি বশীগঞ্জ এসে জেনে যান অথবা জামালপুরের ্সকল এমপি মন্ত্রীদের কাছে জেনে নেন।
বকশীগঞ্জ থানার ওসি একেএম মাহবুব আলম জানান, মামলার বাদী রবিউল ইসলাম ওরফে ওয়াকার তার লিখিত অভিযোগে যেভাবে ঘটনার বর্ণনা, আসামিদের নাম, স্বাক্ষীর নাম এবং তারিখ, সময় ও ঘটনাস্থলের তথ্য উপস্থাপন করেছেন সেভাবেই মামলা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগে ঘটনাস্থলটি মাননীয় বিচারপতির বাড়ী উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই বাড়িটি মাননীয় বিচারপতি মহোদয়ের কিনা তা মামলার বাদীর কাছে জেনে নিতে বলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*