রাজনীতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কময় অধ্যায় হিসেবে থাকবে ২১ আগস্ট

রাজনীতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কময় অধ্যায় হিসেবে থাকবে ২১ আগস্ট

ডাঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম

আওয়ামী লীগ কেন বিএনপির সঙ্গে সংলাপ বা আলোচনায় বসে না তা নিয়ে কারো কারো আক্ষেপের শেষ নেই। মনে হয় দুই দল আলোচনায় বসলেই সব রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সম্প্রতি একাধিকবার বলেছেন যে, আলোচনার টেবিলে বসলেই নাকি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। ব্যাপারটি আসলেই এত সহজ? আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট বলেছেন, যতদিন ভুয়া জন্মদিন পালন করা হবে ততদিন বিএনপির সঙ্গে সংলাপ হবে না। দুই বছর ধরে বিএনপি বিভিন্ন অজুহাতে কেক কেটে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করছে না। তাহলে কি এটা ধরে নেয়া যাবে যে, বিএনপি সংলাপের পরিবেশ তৈরি করতে চাচ্ছে? না, বিষয়টি এত সরলভাবে দেখা ঠিক হবে না। ১৫ আগস্ট বিএনপি আর খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করবে না- এমন ঘোষণা দলের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি। বিএনপি যে আওয়ামী লীগের ব্যাপারে ‘মুখে শেখ ফরিদ, বগলে ইট’ নীতি নিয়ে চলে তার একাধিক দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা যায়। এখন দায়ে পড়ে বিএনপি গণতন্ত্র নিয়ে হাহাকার করলেও ক্ষমতায় থাকতে আওয়ামী লীগের জন্য বিএনপি কোনো গণতান্ত্রিক স্পেস না দিয়ে নির্মূল করার নীতি নিয়েছিল। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা তার বড় প্রমাণ।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে নৃশংস গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। মূলত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্যই ওই গ্রেনেড হামলা চালানো হলেও তিনি সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান। তবে আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী রহমানসহ কমপক্ষে ২২ জন নেতাকর্মী নিহত হন। শেখ হাসিনাসহ অসংখ্য নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। এদের অনেকেই সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। কেউ কেউ এখনো শরীরে অসংখ্য স্পিন্টার নিয়ে দুঃসহ জীবনযাপন করছেন। ২১ আগস্টের বীভৎস হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কময় অধ্যায় হিসেবেই চিহ্নিত থাকবে। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার সময় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। দেশে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে প্রাথমিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সরকারের দায়িত্ব। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মতো এত বড় অপরাধ যারা করেছিল তাদের চিহ্নিত করা, গ্রেপ্তার করা এবং আইনের হাতে সোপর্দ করার জরুরি কর্তব্যটি তৎকালীন সরকার সম্পাদনে কেবল চরমভাবে ব্যর্থতারই পরিচয় দেয়নি, বরং ঘটনাপ্রবাহ অন্য খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টাই চালানো হয়েছে। অপরাধীরা যাতে নিরাপদে থাকতে পারে কৌশলে সেই চেষ্টাই করা হয়েছে। নিরপরাধ নিরীহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে নিষ্ঠুর নির্যাতন চালানো হয়েছিল। সাধারণ মানুষের চোখে ধুলা দেয়ার জন্য যে নানা অপচেষ্টা-অপপ্রয়াস বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার নিয়েছিল তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
এখন এটা অনেকের কাছে পরিষ্কার হয়েছে যে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সংশ্লিষ্টতা ছিল। গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের দেয়া তথ্য থেকেই জানা যায় যে, হামলাকারীদের সঙ্গে তৎকালীন সরকারের একাধিক মন্ত্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের যোগাযোগ ছিল। সে সময়ে ক্ষমতার বিকল্প কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ‘হাওয়া ভবনে’ তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের উপস্থিতিতে হামলায় প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু এটাও আমাদের জানা আছে যে, তখন সরকার জজ মিয়া নামের একজন ছিঁচকে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল। সরকার তখন শৈবাল সাহা পার্থ নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেও নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছিল। ২১ আগস্টের হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে এবং শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দিয়ে সংবাদপত্রে একটি ই-মেইল বার্তা পাঠানোর সূত্র ধরে পার্থকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পার্থই ওই ই-মেইল বার্তাটি পাঠিয়েছিল তার কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া না গেলেও সম্পূর্ণ অনুমানের ওপর নির্ভর করে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে প্রথম চারদিন অজ্ঞাতবাসে রাখে এবং পরে তিন দফা রিমান্ডে নিয়ে তার ওপর প্রচণ্ড শারীরিক-মানসিক নির্যাতন চালায়। দরিদ্র বাবা-মায়ের সন্তান পার্থ সাহা একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন। অত্যন্ত কষ্ট করে উচ্চ শিক্ষা শেষে যখন চাকরি খুঁজছিলেন, তখনই তার ওপর নেমে আসে জোট সরকারের ভয়াবহ থাবা। পার্থ সাহার প্রথম অপরাধ তিনি ‘হিন্দু’ এবং দ্বিতীয় অপরাধ তিনি ভারতের মাদ্রাজে গিয়ে বিবিএ ও এমবিএ পাস করেছেন। এমন একজন মানুষ ‘র’-এর এজেন্ট না হয়ে পারেন! তার কাছ থেকে যেমন সন্দেহজনক কোনো গোপন তথ্য পাওয়া যায়নি, তেমনি মারপিট করে প্রায় পঙ্গু বানিয়েও কোনো স্বীকারোক্তি আদায় করা সম্ভব হয়নি। তা সত্ত্বেও সরকারিভাবে তাকে ‘র’-এর এজেন্ট বানিয়ে প্রচারের কোনো কমতি দেখা যায়নি। ই-মেইলে হুমকি দেয়ার জন্য অন্য কাউকে সন্দেহের তালিকায় না এনে পার্থর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো থেকেই বোঝা গিয়েছিল জোট সরকার ২১ আগস্টের ঘটনা তদন্তে কোন নাটকের মহড়া দিতে চেয়েছে।
কোনো ঘটনা ঘটলেই তার দায় বিরোধী দলের ওপর চাপানো ছিল জোট সরকারের একটি বদঅভ্যাস। ২১ আগস্টের ঘটনার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ২২ আগস্ট, ২০০৪ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের এক সমাবেশে সংগঠনের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছিলেন, ‘শেখ হাসিনা এবং সাবের হোসেন চৌধুরীকে রিমান্ডে নিলেই প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হবে’! এ ধরনের বালখিল্য মন্তব্যের জন্য বিএনপি নেতারা ছাত্রদল নেতাকে তিরষ্কৃত তো করেনইনি উল্টো নিজেরাও ওই ধারায় গলাবাজি করেছেন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছিলেন, ‘উই আর লুকিং ফর শত্রুজ’। তারপর ৩০ আগস্ট, ২০০৪ বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে দলের তৎকালীন মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়াসহ কয়েকজন মন্ত্রী ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার জন্য আওয়ামী লীগকেই দায়ী করেন। তৎকালীন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী আমানুল্লাহ আমান ওই সমাবেশে বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক তদন্ত চাচ্ছেন। আমরা সব ধরনের তদন্ত করব। খুব তাড়াতাড়িই তদন্ত রিপোর্ট দেব। ওই রিপোর্টে গ্রেনেড হামলার জন্য আব্দুস সামাদ আজাদ, মোহাম্মদ নাসিম, সাবের হোসেন চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ এবং মতিয়া চৌধুরীকে দায়ী করা হবে।’ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা নিয়ে বিএনপি যে কত ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা ফেঁদেছিল সেটা আমানুল্লাহ আমানের বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়। তদন্ত না হতেই তদন্ত রিপোর্টে কী থাকবে সেটা একজন প্রতিমন্ত্রী বলার পর ওই তদন্ত রিপোর্ট সম্পর্কে মানুষের মনে কী ধারণা হতে পারে সেটা বোঝার ক্ষমতাও জোট সরকারের মন্ত্রীদের ছিল না।
খালেদা জিয়া নিজেও গ্রেনেড হামলার কথা বলতে গিয়ে খুব দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পেরেছিলেন সেটাও বলা যায় না। ২ সেপ্টেম্বর, ২০০৪ বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গ্রেনেড হামলার ঘটনাকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছিলেন, সরকারের সাফল্যকে আড়াল করতে ‘বোমা’ হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। খালেদা জিয়ার এই বক্তব্য দেশের মানুষকে হতবাক করেছে। শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা এবং আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছিল সরকারের সাফল্যকে আড়াল করতে- এমন বক্তব্য সরকারপ্রধানের মুখ থেকে বের হওয়ার পর ২১ আগস্টের ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত যে হবে না সেটা তখন সবার কাছেই স্পষ্ট হয়েছিল। বাস্তবে ঘটেছিলও তাই। জোট সরকার ক্ষমতায় থাকতে তদন্ত কাজ অগ্রসর হয়নি, বরং প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার জন্য, সব কিছু ধামাচাপা দেয়ার কসরতই চালানো হয়েছিল।
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন বর্তমান সরকারের সমালোচনায় অত্যন্ত মুখর। এই সরকারের আমলে খারাপ কাজ কিছু হচ্ছে না, তেমন কথা বলা যাবে না। ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের পরিচয় দিয়ে দুর্বৃত্তপনাও চলছে। একজন রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে সরকারের ভুলত্রুটির সমালোচনা করার অধিকার খালেদা জিয়ার আছে। কিন্তু তিনি যখন ঢালাওভাবে সরকারের সমালোচনা করেন তখন বিনীতভাবে জানতে ইচ্ছে হয়, তিনি কি আয়নায় নিজের মুখ দেখেন না? তার শাসনামলে দেশ কেমন চলছিল সেসব কি তার মনে আছে? তিনি কি একবার ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সংবাদপত্রগুলোর পাতায় চোখ বুলিয়ে দেখবেন? ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এস এম কিবরিয়াসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের হত্যাসহ অসংখ্য বোমা হামলার ঘটনা এবং দেশজুড়ে জঙ্গি গোষ্ঠীর উত্থানের ঘটনাগুলোর কথা মনে পড়লে তার তো বর্তমান সরকারের লাগামহীন সমালোচনা করার কথা নয়। রাজনীতিতে মতভিন্নতা থাকাটাই স্বাভাবিক। সব শিয়ালের এক রা’র মতো সব রাজনৈতিক দলের এক রা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নানা মতের, নানা পথের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করবে- এটাই গণতন্ত্রের রীতি। কিন্তু মত ও পথের ভিন্নতার জন্য সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে পরিবেশ নষ্ট হওয়াটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অথচ আমাদের দেশের রাজনীতিতে পরমত সহিষ্ণুতার অভাব অত্যন্ত প্রকটভাবেই লক্ষ করা যায়।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। ফলে সংসদীয় রাজনীতিতে এখন বিএনপির কোনো ভূমিকা নেই। তার মানে অবশ্য এটা নয় যে, বিএনপি ভবিষ্যতেও জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে না। সেই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী না করেও বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে দেশের মানুষ জানতে চাইতে পারে, আগামীতে তিনি তার সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে ক্ষমতায় গেলে দেশে প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির চর্চা বন্ধ করবেন কি? এখনই তিনি যেভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন তা থেকে তো মনে হয় ক্ষমতায় গেলে দেশে আবার বিরোধী রাজনীতি দমনের নামে নিষ্ঠুর ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হবে। তার কাছে আরো জানার বিষয় যে, তিনি ক্ষমতায় গেলে বর্তমান সরকার যেসব বিচার কাজ শুরু করেছে সেসব অব্যাহত থাকবে কি না? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ কি চলবে? ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা কিংবা দশ ট্রাক অস্ত্র আটকের মামলারই বা পরিণতি কী হবে? দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছিল তার শাসনামলে। অথচ তিনি বলেছেন, দেশে কোনো জঙ্গি নেই। জঙ্গিদের তিনি আড়াল করতে চেয়েছেন কেন সে প্রশ্নের জবাব তাকে এখন দিতে হবে বৈকি! ভবিষ্যতে আবার ক্ষমতায় গেলে জঙ্গিদের প্রশ্রয় দেবেন কিনা সেটাও তাকে এখন স্পষ্ট করে বলতে হবে।
সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় বিএনপি একদিকে বৃহত্তর ঐক্যের ডাক দিচ্ছে, অন্যদিকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে এমন কিছু ব্যক্তিকে জায়গা করে দিয়েছেন যাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে। বিশেষ করে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের নাম বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এটা মনে করা কঠিন যে, দলটি সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবেলা করতে চায়। যে লুৎফুজ্জামান বাবর ‘লুকিং ফর শত্রুজ’ উক্তি করে রাজনীতিতে কৌতুকের জোগান দিয়েছিলেন তার নামও কমিটি থেকে বাদ দিতে পারেননি খালেদা জিয়া। দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাবরকে কমিটিতে রেখে যে বার্তা খালেদা জিয়া দিয়েছেন তাতে তার বিএনপির সংলাপের আহ্বানে আওয়ামী লীগের সাড়া দেয়ার কোনো যুক্তিগ্রাহ্য কারণ থাকতে পারে কি?
লেখক পরিচিতিঃ সাবেক সহ-সভাপতিঃ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ,ঢাকা মহানগর উত্তর। সাবেক সভাপতিঃ সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*