গর্ভপাত ঘটানোর সময়ে রাউজানের এক সন্তানের জননীর মৃত্যুর অভিযোগ

গর্ভপাত ঘটানোর সময়ে রাউজানের এক সন্তানের জননীর মৃত্যুর অভিযোগ

শাহাদাত হোসেন , রাউজান প্রতিনিধি : রাউজান পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের পূর্ব গহিরা এলাকার মুহুরী বাড়ীর হতদরিদ্র চায়ের দোকানের কর্মচারী ধনা মুহুরী (৫৫)ত”র দ্বিতীয় স্ত্রীর সাড়ে চার মাসের গর্ভপাত ঘটনোর সময়ে মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, ধনা মুহুরীর প্রথম স্ত্রী দু”কন্যা , দু”ছেলে সন্তান রেখে মারা গেলে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের লালন পালন করার জন্য দ্বিতীয় বিয়ে করে সুলতান পুর জানালী হাট এলাকার মৃত টুন্টু তালুকদারের কন্যা রিংকু মুহুরীকে। ধনা মুহুরীর প্রথম স্ত্রীর ছেলে -মেয়েদের দ্বিতীয় স্ত্রী লালন পালন ও বড় করে দু” কন্যা সন্তানকে বিবাহ দেয়।
রিংকু মুহুরীর গর্ভে এক ছেলে সন্তান জম্মলাভ হয় । জম্ম নেওয়া সে ছেলে সন্তান রিন্টু মুহুরী প্রকাশ রিমনের বয়স বর্তমানে ১০ বৎসর। রিমন বর্তমানে কুন্ডেশ্বরী সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্র।
রিংকু মুহুরীর স্বামী ধনা মুহুরী ও এলাকার লোকজন অভিযোগ করে বলেন- রিংকু মুহুরী সাড়ে চার মাসের গর্ভবর্তী হলে গহিরা পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের সহকারী পরির্দশিকা কল্পনা দে রিংকু মুহুরীর গর্ভপাত ঘটানোর পরামর্শ দেয় । রিংকু মুহুরী স্বামীর দরিদ্রতার কথা চিন্তা করে পরির্দশিকা কল্পনা দে রিংকু মুহুরীর (৩৫)”র গর্ভপাত ঘটাতে সম্মত হলে তার কাছে থেকে সাত হাজার টাকা দাবী করেন।
রিংকু মুহুরী তার স্বর্ণলংকার বিক্রয় করে সাত হাজার টাকা সহকারী পরিবার পরিকল্পনা পরির্দশিকা কল্পনা দের”র হাতে দিলে সে গর্ভপাত ঘটানোর জন্য চট্টগ্রাম নগরীর বাদুতলায় একটি বাসায় নিয়ে যায় ।
তখন গর্ভপাত না ঘটিয়ে ভয়ে বাড়ীতে চলে আসার চেষ্টা করিলে ঐ সময়ে পরির্দশিকা কল্পনা দে রিংকু মুহুরীকে গর্ভপাত ঘটালে তার কিছু হবেনা বলে অভয় দিয়ে গর্ভপাত ঘটানো হয় ।
পরে তার অবস্থা আশংকাজনক হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখান থেকে নগরীর পাচঁলাইশ ডেল্টা ক্লিনিকে নিয়ে আসা হয়। ডেল্টা ক্লিনিকে গত ১ আগষ্ট রিংকু মুহুরীর মৃত্যু হয় বলে তার স্বামী ধনা মুহরী জানান।
ক্লাসিক থেকে গহিরা পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের সহকারী পরির্দশিকা কল্পনা দে রিংকু মুহুরীর মরদেহ গোপনে স্বামী ধনা মুহুরীর বাড়ীতে নিয়ে এসে এলাকার কিছু টাউটদের মোটা অংকের টাকা দিয়ে রিংকু মুহুরীর মরদেহ তার স্বামী ধনা মুহুরীর পারিবারিক শ্বশানে তড়িঘড়ি করে দাহ করা হয় ।
ক্লিনিক দেওয়া মৃত্যুে সনদ ও ছাড় পত্র এলাকার দিলিপ নামের এক ব্যক্তি দরিদ্র ধনা মুহুরীর কাছ থেকে রাউজানের পরির্দশিকা কল্পনা দে”র বিরুদ্ধে মামলা করার কথা বলে নিয়ে যায় বলে অভিযাগ করে রিংকু মুহুরীর স্বামী । রিংকু মুহুরীর মৃত্যুর পর থেকে তার শিশুসন্তান কুন্ডেশ্বরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্র রিন্টু মুহুরী প্রকাশ রিমন ঘরে রক্ষিত তার ছবি নিয়ে মায়ের জন্য আহাজারী করছে বলে বাবা ধনা মুহুরী জানান।
শিশু সন্তান রিন্টু মুহুরী তার মাতা রিংকু মুহুরীকে হত্যা করেছে বলে দাবী করে তার মায়ের হত্যাকারী রাউজানের গহিরা পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের সহকারী পরির্দশিকা কল্পনা দে”র শাস্তির দাবী করে এই প্রতিবেদকের সামনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ।
এবিষয়ে ব্যাপারে রাউজানের গহিরা পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের সহকারী পরির্দশিকা কল্পনা দে”র কাছে জানতে চাইলে সে বলেন, আমি রিংকু মুহুরীকে নিয়ে গিয়ে কোন গর্ভপাত করেনি। আমার বিরুদ্ধে তার স্বামী ও পরিবারের সদস্য, এলাকার লোকজনের দেওয়া অভিযোগ মিথ্যা।
এই ব্যাপারে রাউজান থানার ওসি কেপায়েত উল্লাহ বলেন রাউজানের পূর্ব গহিরায় গর্ভপাত ঘটনোর সময়ে মৃত্যুবরনকারী কোন অভিযোগ কেউ করেনি রাউজান থানায়।
রিংকু মুহুরীর স্বামী ধনা মুহুরী জানান, আমি একজন দরিদ্র চায়ের দোকানের কর্মচারী। মাসিক ৬ হাজার টাকা বেতনে চাকুরী করি। আমার কোন টাকা সম্পদ না থাকায় আমার স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনার ব্যাপারে মামলা করতে পারেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*