বকশীগঞ্জের অতিদরিদ্র রাজু শেকের কন্যা রিয়াকে ঢাকায় ঝিয়ের কাজে নিয়ে হত্যার অভিযোগ

বকশীগঞ্জের অতিদরিদ্র রাজু শেকের কন্যা রিয়াকে ঢাকায় ঝিয়ের কাজে নিয়ে হত্যার অভিযোগ

রোকনুজ্জামান সবুজ, জামালপুর: জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জের নামাপাড়া গ্রামের অতিদরিদ্র রাজু শেকের কিশোরী কন্যা রিয়া(১৩) বকশীগঞ্জের আলীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আলহাজ গাজী আমানুজ্জামানের মেয়ে নুরজাহান বেগমের ঢাকা ধানমন্ডির বাসায় ঝিয়ের কাজ করতো। ঢাকা ধানমন্ডিতে নুরজাহান বেগমের বাসায় গত ১৫ আগষ্ট সে আকস্মিকভাবে নিহত হয়েছে। অতিদরিদ্র রাজু শেকের কন্যা রিয়া ওইদিন ১০ তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে আতœহত্যা করেছে বলে নুরজাহান বেগমের পরিবার থেকে জানানো হয়েছে। এদিকে ওই ঘটনাটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে দাবি করছে নিহত রিয়ার স্বজনরা। নিহতের স্বজনরা গত শনিবার সন্ধ্যায় বকশীগঞ্জ উপজেলা শহরে রিয়া হত্যার বিচার দাবীতে মানবন্ধনও করেছেন। অপর দিকে ওই ঘটনা ধামাচাপা দিতে আলহাজ গাজী আমানুজ্জামান ও তার কন্যা নুরজাহান বেগমের স্বজনরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বকশীগঞ্জ উপজেলা শহরে অনুষ্ঠিত মানবন্ধনের নিহত রিয়ার মা কুলসুম বেগম অভিযোগ করে বলেন, আলহাজ গাজী আমানুজ্জামান ও তার মেয়ে নুরজাহান বেগমের সহযোগীরা পরিকল্পিত ভাবে রিয়াকে হত্যা করে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিতে রিয়া আতœহত্যা করেছে বলে প্রচারনা চালিয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন রিয়া ১০ তলা ভবন থেকে পড়ে মারা গেলে হাত-পা ভেঙ্গে যাবে এবং মাথা ফেটে যাওয়াসহ শীরের বিভিন্ন অঙ্গপতঙ্গে ক্ষতচিহ্ন থাকতো। কিন্তু রিয়ার শরীরের কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয় যায়নি। তার অভিযোগ রিয়াকে হত্যা করা হয়েছে।
কিশোরী রিয়ার এই রহন্যজনক মৃত্যুর বিষয়ে রবিবার দুপুরে সরেজমিনেখোঁজ খবর নিতে গেলে বকশীগঞ্জ পৌরসভার নামাপাড়া গ্রামের ষাটোর্ধ কোরবান আলী, রেনুকা বেগম (৪০) ও মো. নয়ন জানান, অতিদরিদ্র রাজু শেকের নিজস্ব কোন বসতভিটা নাই। তার স্ত্রী ও দুই কন্যা নিয়ে অন্যের জমিতে ছোট্ট দুটি ছাপড়া ঘরের তুলে আশ্রিত হিসেবে বসবাস করে আসছেন। সম্পতি পাশ^বর্তী আলীপাড়া গ্রামের মিন্টু মিয়ার পুত্র জাকির হোসেন(৪০) রাজু শেকের দুই কন্যাকে ঢাকায় মোটা অঙ্কের বেতনে চাকুরী পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভনে ধনী হবার স্বপ্ন দেখায়। এরই একপর্যায়ে জাকির হোসেন অতিদরিদ্র রাজু শেকের দুই কন্যা রিয়া(১৩) ও শিমলাকে(১১) বকশীগঞ্জ পৌরসভার আলীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ঢাকার আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের সহকারী পরিচালক (রিয়েল এস্টেট) আলহাজ¦ গাজী আমানুজ্জামানের ঢাকার বাসায় ঝিঁয়ের কাজ পাইয়ে দেয়। সেই সুবাদে গত ৩ আগস্ট আলহাজ¦ গাজী আমানুজ্জামান অতিদরিদ্র রাজু শেকের ছোট কন্যা শিমলাকে নিজ বাসায় রাখেন। এছাড়াও আলহাজ¦ গাজী আমানুজ্জামান তার মেয়ে নুরজাহান বেগমের ধানমন্ডি বাসায় রেখে আসেন রাজু শেকের বড় কন্যা রিয়াকে। ওই বাসায় কাজে যোগদানের পর থেকে রিয়া কয়েকদফা নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে জানান রিয়ার ছোট বোন শিমলা।
শিমলা আরও জানায়, গত ১৫ আগষ্ট সকালে তার বড় বোন রিয়া বাসার ১০ তলা ছাদের উপর থেকে পড়ে মারা গেছে বলে তাকে জানানো হয়। সে লাশ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সে বলে ওই সময় লাশের গায়ে কোন আঘাতে চিহ্ন ছিল না। নিহত রিযার নাক দিয়ে তখন সামান্য রক্ত পড়েছে এবং মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়েছে। সে আরও বলে ওই সময় আলহাজ¦ গাজী আমানুজ্জামানসহ ওই বাসার লোকজন বলেছে তোর মা-বাবাকে বলবি রিয়া ছাদ থেকে পড়ে আতœহত্যা করেছে। তা না হলে তোকেও জবাই করা হবে। সেদিন ভয়ে তার মা-বাবাকে তাই বলেছিল বলে জানায় শিমলা। পরদিন অথাৎ ১৬ আগস্ট ভোরে আলহাজ¦ গাজী আমানুজ্জামানের স্ত্রী ভোর ৫টায় রাজুর নামাপাড়া গ্রামের বাড়িতে গিয়ে রাজুর স্ত্রী কুলসুম বেগমকে বলেছেন, রিয়া গুরুত্ব অসুস্থ্য। তোমাদের এখনই ঢাকা যেতে হবে। সেখানে গিয়ে রিয়াকে মৃত দেখতে পার রাজু ও তার স্ত্রী। রিয়া কি ভাবে মারা গেল জানতে চাই আলহাজ¦ গাজী আমানুজ্জামানের পরিবার তাদের বলেছেন, উড়না দিয়ে ফাঁস দিতে গিয়ে ১০তলার ছাদ থেকে পড়ে রিয়া আতœহত্যা করেছে। পরে তাদেরকে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে রিয়ার মরদেহ বকশীগঞ্জে না এনে তড়িঘড়ি করে রিয়ার নানার বাড়ি লক্ষীপুরে নিয়ে দাফন করে। এবাবেই আলহাজ¦ গাজী আমানুজ্জামানের পরিবার রিয়া হত্যাকান্ডের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রিয়ার মা ও তার স্বজনদের। তাই তারা মানববন্ধন করে রিয়া হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি করেছে নিহত রিয়ার পরিবারসহ প্রতিবেশীরা।
এব্যাপারে আলহাজ¦ গাজী আমানুজ্জামানের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার মেয়ে নুরজাহান বেগমের বাসার ১০তলায় উড়না দিয়ে ফাঁস দেয়ার সময় পড়ে মারা গেছে রিয়া। এটা মুলত: একটি আতœহত্যা। তবে এলাকার একটি কুচক্ররী মহল রিয়ার মা-বাবাকে দিয়ে হত্যার অভিযোগ তুলে তাকে হয়রানীর চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*