অনন্যায় কাশফুলের অনন্য স্নিগ্ধতা

অনন্যায় কাশফুলের অনন্য স্নিগ্ধতা

মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম (বায়েজিদ প্রতিনিধি) : কাশফুল এক ধরনের ঘাসজাতীয় জলজ উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Saccharum Spontaneum. এরা উচ্চতায় সাধারণত ৩ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়।
নদীর ধার, জলাভূমি, চরাঞ্চল, শুকনো রুক্ষ এলাকা, পাহাড় কিংবা গ্রামের কোনো উঁচু জায়গায় কাশের ঝাড় বেড়ে ওঠে। তবে নদীর তীরেই এদের বেশি জন্মাতে দেখা যায়। এর কারণ হল নদীর তীরে পলিমাটির আস্তর থাকে এবং এই মাটিতে কাশের মূল সহজে সম্প্রসারিত হতে পারে। শরত ঋতুতে সাদা ধবধবে কাশফুল ফোটে। বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই কাশফুল দেখতে পাওয়া যায়। কাশফুল পালকের মতো নরম এবং রঙ ধবদবে সাদা। গাছটির চিরল পাতার দুই পাশ খুবই ধারালো।
প্রকৃতির পালা বদলের খেলায় এখন চলছে শরতের মাঝামাঝি সময়। চার দেয়ালের বাইরে প্রকৃতিতে চোখ রাখলে ধরা পড়ে শরৎ-প্রকৃতির মোহনীয় রূপ। কাচের মতো স্বচ্ছ নীল আকাশে গুচ্ছ গুচ্ছ সাদা মেঘের ভেলার ছোটোছুটি, নদীর ধারে কিংবা গ্রামের কোনো প্রান্তে মৃদু সমীরণে দোল খাওয়া শুভ্র কাশফুলের স্নিগ্ধতা, গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদ আর বর্ষায় অঝোরধারায় শ্রাবণ ঢলের পর আসে শরতের রৌদ্রছায়ার খেলা- এই মেঘ, এই বৃষ্টি, আবার এই রোদ। আরও থাকে বিল ও ঝিলের পানিতে শাপলা শালুক ফুলের সুন্দর মায়াবী দৃশ্যের সমারোহ।
সম্প্রতি এই শরতের এমনই শুভ্র কাশফুলের দেখা মিলেছে ইট কংক্রিটের শহর চট্টগ্রামের অক্সিজেনস্থ অনন্যা আবাসিক এলাকায়।
এই আবাসিকের কয়েক কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে কাশফুল আর কাশফুল। যেন কোন মালি তার হাতের নিপুণতা দিয়ে গড়ে তুলেছে এই বাগান। প্রতিদিন বিকেল হলে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয় এই এলাকা। দর্শনার্থীরাও কাশফুলের স্নিগ্ধতা গ্রহণে কাশফুলের বাগানে ঘুরে বেড়ায়।
অনন্যার এই জলজ উদ্ভিদ কাশফুলের মৌ মৌ সুবাসিত গন্ধ আপনার মনকে ফিরে আসতে মানা করবেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*