আসন্ন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাচনে জামাত ঘরণার প্রার্থী মোতালেবকে বর্জন তৃণমূল নেতাকর্মীদের

আসন্ন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাচনে জামাত ঘরণার প্রার্থী মোতালেবকে বর্জন তৃণমূল নেতাকর্মীদের

কুতুব উদ্দিন রাজু,চট্টগ্রাম :  ১৪ অক্টোবর সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২৭ জানুয়ারী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জেলা-উপজেলা নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে তৃণমূল সভায় মো: আবদুল মোতালেব চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করেও নিজে উপস্থিত হননি বা কারো মাধ্যমে নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করেননি। ওমরা হজ্বে গিয়ে সাতকানিয়ার জনগণকে পবিত্র মক্কা মদিনায় ঘোষণা করেন আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন না।
বিগত ২২ আগস্ট সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত জাতির জনকের শোক দিবসের সভায় বয়:বৃদ্ধ ও অসুস্থতার কারণে প্রার্থী হবেন না বলে জনসমক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। এছাড়া স্থানীয় সাংসদ আবু রেজা নদভী এম.পি কে ব্যাক্তিগতভাবে প্রার্থী হবেন না বলে শপথ করে বলেন যেটা আমরা স্যোসাল মিডিয়া ফেইসবুক হতে আবু রেজা নদভী এমপি’র ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টের স্ট্যাটাস থেকে পেয়েছি। এমপি সহ তৃণমূলকে উপেক্ষা করে কেন্দ্রে তার নাম পাঠানোতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। মোতালেব’র এধরণের আচরণ প্রতারণার শামিল বলে উল্লেখ করেন। নেতাকর্মীরা আরো বলেন, তিনি ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগ বা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তার ভাই মাওলানা মাহমুদুল হক জামাতের রোকন, তিনি যখন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগে যোগদান করবে বলে নেতাকর্মীদেরকে জামাতের পক্ষে কাজ করিয়েছিলেন ভাইয়ের পক্ষে।
বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার সুবাদে হারুনকে নৌকা প্রতীক নিয়ে দিয়ে নির্বাচন করালেও তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়। জানা যায় তার পুরো পরিবারে তিনি ছাড়া আর কেউ আওয়ামী লীগ করেন না। অথচ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সবসময় দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের সকল ক্ষেত্রে নির্বাচন করার ও নেতৃত্বে আনার ঘোষণা প্রদান করলেও এটি একটি স্ববিরোধী আত্মঘাতী মনোনয়ন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
সাতকানিয়া বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে টাকার বিনিময়ে জামাত সংশ্লিষ্ট বিত্তশালীদেরকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়েছিলো। এবারো তারা মনে করছে বিশাল অংকের টাকার বিনিময়ে এ মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে। বিগত ১৪ সালের ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাকে দল থেকে মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু জামাত-বিএনপি’র সৃষ্ট বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে মনোনয়ন পত্র জমাদানের আগের দিন নির্বাচন করছেন না বলে অবহিত করলে দূর্দিনের কারা নির্যাতিত দলের ত্যাগী নেতা সাবেক চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নুরুল আবছার চৌধুরী তরিঘরি করে কেউ যেহেতু প্রার্থী হচ্ছে না আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করে স্বল্প ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। নির্বাচন পরবর্তী তার গাছ বাগানে আগুন লাগিয়ে দিয়ে তাকে আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়। পার্শ্ববর্তী লোহাগড়া উপজেলায় সে নির্বাচনে দল প্রার্থী দিতে পারেননি। জামাত এজেন্ট মোতালেব নিজের অবৈধ ও ভেজাল খাদ্য পরিবেশনে নিজ ও ব্যবসাকে রক্ষার স্বার্থে আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত হয়ে বিশাল অংকের টাকা ভেজাল ও অবৈধ ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছে যা সচেতন নাগরিক পরিষদ সাতকানিয়ার সকল জনগণ অবহিত।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিমত মনোনয়ন প্রত্যাশী নুরুল আবছার চৌধুরী, আবু সাঈদ, গোলাম ফারুক ডলার, মোস্তাক আহমদ আঙ্গুর, ডা: মিনহাজুর রহমান, বশির উদ্দীন চৌধুরী, কুতুব উদ্দীন চৌধুরী, ফয়েজ আহমদ লিটন, আবু সালেহ, জসিম উদ্দীন, এরফানুল করিম চৌধুরী প্রমুখ মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ছাত্র জীবন থেকেই দলের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে অবদান সৃষ্টিকারী। তাদের কারো নাম কেন্দ্র না পাঠানো তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কোন অবস্থাতেই মেনে নিতে পারছে না এবং ভবিষ্যতে মানবে না বলে জানান। তাই তারা টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন ক্রয় করা জামাত ঘরনার এ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন না, তিনি ব্যাতীত যাকেই দল মনোনয়ন প্রদান করবে তার পক্ষে কাজ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*