প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের ষড়যন্ত্রকারী কারা ?

প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের ষড়যন্ত্রকারী কারা ?

ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান খান: কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত হার্ডসন সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেডের অধীনে চাকুরীরত মাতারবাড়ীর ৭৫ জন ব্যক্তির বেতন থেকে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা কর্তন করে নিচ্ছে। এভাবে ১ বছরে ঐ হার্ডসন কোম্পানী তাদের কাছ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ভোক্তভুগীরা ন্যায্য বেতন আদায়ের জন্য প্রতিবাদ করায় হার্ডসন সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড-এর ব্যারেক পরিচালক মোহাম্মদ কাজল, ম্যানেজার মোহাম্মদ তাহের, সুপারভাইজার মোহাম্মদ হাছান, বাবুর্চি নয়ন গত ৮ সেপ্টেম্বর বিকালে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে তাদেরকে ব্যাপক গালাগালিসহ চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেন। এতে মাতারবাড়ীর ঐ ৭৫ জন সিকিউরিটি গার্ডের সদস্যরা এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে কোল পাওয়ারের এমডি, মহেশখালীর থানার ওসি ও সুমিতমো কর্পোরেশন কোম্পানির এমডি সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৃথক পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে । কিন্তু তাদের প্রত্যেকের বেতন প্রতিমাসে ২৬ হাজার ২ শত ৩৫ টাকা হলেও তাদেরকে চাকুরী শুরু থেকে অদ্যাবধি ১২ হাজার টাকা করে প্রদান করে আসছেন অত্র সিকিউরিটি কোম্পানীটি । অথচ জাপানী সুমিতমো কোম্পানীর ফরমে লেখা রয়েছে প্রতি জনের বেতন ২৬ হাজার ২ শত ৩৫ টাকা। এভাবে ৭৫ জন সিকিউরিটি গার্ড থেকে গত ১ বছরে হার্ডসন সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেডের কর্তারা তাদের বেতন থেকে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা কর্তন করে নিয়েছে। গার্ড গফুরের সাথে মুটো ফোনে আলাপ করলে আমাদের জানায়, হার্ডসনের সুপাভাইজাররা আমাদের চাকরীচ্যুত করার হুমকি দেওয়াতে, আমাদের চাকরি বাচাতে আমরা মাতারবাড়ী চেয়ারম্যানের পক্ষে নিয়ে হার্ডসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করি ৷ আমাদের অভিযোগে যদি হার্ডসন কোম্পানী চলে যায়, আমাদের চাকরিও চলে যাবে ৷ আমরা খাব কি ? নতুন সিকিউরিটি কোম্পানী আসলে আবার পুনরাই নিয়োগ হতে হবে ৷ অভিযোহ করাটা আমাদের উচিত হয়নি ৷ হার্ডসন সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড-এর বাবুর্চি নয়ন, ব্যারেক পরিচালক মোহাম্মদ কাজল, ম্যানেজার মোহাম্মদ তাহের, সুপারভাইজার মোহাম্মদ হাছান-এর সাথে মোটু ফোনে যোগাযোগ করলে তারা সবাই এককথায় বলেন যে, সিকিউরিটি গার্ডের সদস্যরা আমাদের আন্ডারে কাজ করে । তারা সহ আমাদেরকে আমাদের কোম্পানী পক্ষ থেকে অনেক সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে । আমরা গার্ডদের নিজেদের ভাই বলে মনে করে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক এ কয়লা বিদ্যুত প্রকল্পের উন্নয়নের জন্য সবাই একযোগে কাজ করে যাচ্ছি । সেখানে আমরা তাদেরকে বকাবকি করার কোন প্রশ্নই আসে না । কারণ, তারা প্রায় সবাই স্থানীয় লোকজন । তাদের বেতন বৃদ্ধির জন্য তারা অভিযোগ করছে সেটা তাদের একতিয়ার বা অধিকার বা কোম্পনীর অভ্যন্তরীন ব্যপার, যাতে আমাদের কথা বলা উচিত বলে মনে করি না । আমাদের যতটুকু অভিজ্ঞতা, এ রকম সুযোগ সুবিধা দেওয়া সিকিউরিটি কোম্পানী বাংলাদেশে চোখে পড়ে না। আমরা অত্র কোম্পানী থেকে অনেক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকি । কোল পাওয়ারের সিকিউরিটি অফিসার আলফাজ এর সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি আমাদের জানান, হার্ডসনের সম্পর্কে আমাকেও অনেকে অভিযোগ করছে । আর্ডসনের বিরুদ্ধে আমার পক্ষ থেকে যতটুকু ব্যবস্থা নেওয়া দরকার আমি নিব । কিন্তু হার্ডসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার একমাত্র একতিয়ার সুমিতমো কোম্পানীর । কারণ হার্ডসন তাদের আওতাধীন প্রকল্পের একটি সিকিউরিটি কোম্পানী । কোল পাওয়ার সিকিউরিটি অফিসার ইমরুল কায়েস এর সাথে যোগাযোগ করলে আলফাজ এর মত তিনিও একই কথা বলেন । হার্ডসন সিকিউরিটির ম্যানেজি ডাইরেক্টর ফারজানার সাথে মোটু ফোনে আলাপ করলে তিনি আমাদের জানান, সুমিতমো আমাদের কোম্পনীকে প্রতি সিকিউরিটি ম্যান প্রতি ২৬২৩৫/- টাকা দেয় এ তথ্য সঠিক । কিন্তু সে টাকার মধ্যে আমাদের পরিচালক, ম্যানেজার, অফিস সহায়ক, সিকিউরিটি ম্যানেজার, বাবুর্চি বেতন, টহলকৃত গাড়ী ক্রয়, অন্যান্য অফিস ম্যান্টেনেজ খরচ হওয়ার পর বাকী টাকা সিকিউরিটিদের বেতন বাবদ দিয়ে থাকি । অত্র ২৬২৩৫/- টাকার মধ্যে সরকারি কর ও ভ্যাটও দিতে হয় । এ টাকার উপর ভিত্তি করে আমাদের কোম্পনী পরিচালিত হয়। এ টাকা আমরা মেরে খায় সেটা তারাই বলতে পারে যারা আমার কাছে ফোন করে ও লোক মারফতে বিভিন্ন চাঁদা দাবী করে । এমনকি চাঁদা দাবী নিয়ে স্থানীয় চেয়রম্যানের সাথে আমার লোকের সাথে বিভিন্ন সময় বাকবিতন্ডা হয় । ওনাকে চাঁদা না দেওয়াতে আমার লোকদের নিয়ে মিথ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছে । গার্ডদের ব্যবহার করে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তি উক্ত প্রকল্পের সম্মানকে খুন্য করতে চাচ্ছে । স্থানীয় চেয়ারম্যানের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য ফোনে যোগাযোগ করা হলে ওনার ফোন রিসিভ করেনি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*