রাউজানে ২৩২টি পূজামণ্ডপে হবে শারদীয়া দুর্গোৎসব – ব্যস্ত প্রতিমা তৈরিতে মৃৎশিল্পীরা

রাউজানে ২৩২টি পূজামণ্ডপে হবে শারদীয়া দুর্গোৎসব – ব্যস্ত প্রতিমা তৈরিতে মৃৎশিল্পীরা

শাহাদাত হোসেন, রাউজান প্রতিনিধি : সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাউজান উপজেলায় প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎ শিল্পীরা।
সরেজমিনে পরিদর্শনের দেখা যায়, রাউজান উপজেলার কুন্ডেশ্বরী , সত্যের দোকান, রাউজান ফকির হাট কালী বাড়ী, পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের সুলতানপুর আচার্য পাড়ায় ,সুলতানপুর বুড়া ঠাকুর আশ্রম, রাউজান পৌরসভার ৯নংওয়ার্ডের বাইন্যা পুকুর পাড়, নোয়াপাড়া পথের হাটসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিমা তৈরির করছেন মৃৎশিল্পীরা।
রাউজান ফকির হাট কালী বাড়ীর প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত নান্টু পাল জানান, রাউজানের বিভিন্ন পুজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করা হয়। এসব পুজা মন্ডপে প্রতিমাকে সামনে নিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করার জন্য তিনি ২০- ৩০টি প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়েছেন । তিনি রাউজান ও রাউজানের বাহিরের বিভিন্ন অঞ্চলের পূজা উদযাপন কমিটির লোকজন থেকে প্রতিমা তৈরির কাজের অর্ডারও নিয়েছেন।
একেকটি প্রতিমা ৩০- ৪০ হাজার টাকা দরদাম করে অর্ডার নিয়েছেন বলে জানান মৃৎশিল্পী নান্টু পাল। সময়মত প্রতিমা তৈরির অর্ডারের কাজ ডেলিভারি দিতে নান্টু পাল ৬ জন কর্মচারী রেখেছেন । দিনরাত প্রতিমা তৈরির কাজ করে যাচ্ছেন তারা। ইতোমধ্যে কাদা মাটি দিয়ে প্রতিমার তৈরির কাজ শেষে , চলছে রং তুলি ও সাজসজ্জার কাজ।
রং-তুলির আঁচড়ে দুর্গাকে দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় করে তুলছেন প্রতিমা তৈরি মৃৎশিল্পীরা। এদুর্গা পূজা উৎসব ঘিরে রাউজানের ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা জুড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে। রাউজানে সবচেয়ে বেশি মণ্ডপে দুর্গা পূজা উদযাপন হয় বলে জানা যায়।
রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি চেয়ারম্যান প্রিয়তোষ চৌধুরী জানান, রাউজানের ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় এ বৎসর ২৩২টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করা হবে। এবারে রাউজানে আরো ২টি পূজামণ্ডপ বেড়েছে।
রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোনায়েদ কবির সোহাগ বলেন, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করা হয়। এ বৎসর রাউজান উপজেলায় ২৩২টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে। উপজেলার ২৩২টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের শান্তি -শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনিকভাবে নিরাপত্তা প্রদান করা হবে। নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকবে। আগামী ৩ অক্টোবর থেকে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গোৎসব এবং ৮ অক্টোবর বিজয়াদশমী মধ্যদিয়ে পূজার সমাপ্তি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*