শ্রীমঙ্গল থানার ওসিসহ ৬ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

image_221824.mouluvi-bazar-d_27723মৌলভীবাজার সংবাদদাতা :: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানার ওসি-সহ ৬ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে মৌলভীবাজারের সিনিয়র

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বুধবার (১৩ মে) একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার বাদী পুলিশের হাতে নির্যাতিত রুমি বেগম।

বুধবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রে মোহাম্মদ জুলফিকার আলীর আদালতে নির্যাতিত সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের স্ত্রী রুমি বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় আসামি করেছেন শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুল জলিল, এসআই গিয়াস উদ্দিন, এসআই মো. জাকির হোসেন, এসআই মো. মাসুদ, ট্রফিক সার্জেন্ট মো. মাহফুজ, এএসআই মো. বাশার।

মামলাটি বিজ্ঞ বিচারক আমলে নিয়ে আগামী ১৪ জুলাই তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ডিবির ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় রুমী বেগম উল্লেখ করেন, তার স্বামী সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম দৈনিক জনতা, ঢাকার বাংলা ট্রিবিউন ও সাপ্তাহিক পাতাকুঁড়ির দেশ পত্রিকার শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। তিনি বিভিন্ন সময় শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করেন। এর জের ধরে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুল জলিল ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন।

রুমি বেগম উল্লেখ করেন, তার স্বামীকে ওসি নানা সময় মোবাইল ফোনে হুমকি দেন। ওসি তাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন তার লেখনী অব্যাহত থাকলে তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে আটকিয়ে রাখবেন ও পুলিশ রিমান্ডে এনে উচিত শিক্ষা দেবেন।

মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, সাইফুল ইসলামকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী একটি নাশকতার মামলায় আসামি করেন ওসি আব্দুল জলিল। ওই মামলায় গ্রেপ্তার-হয়রানি ও অভিযোগপত্র হতে মুক্ত হতে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ওসি। কিন্তু আমার স্বামী তার সততায় অবিচল থেকে একজন সংবাদকর্মী হিসেবে তার কর্ম অব্যাহত রাখেন।

গত ২৩ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার সময় শ্রীমঙ্গল শহরের রুপসপুরস্থ বাসা থেকে সাইফুল ইসলাম একা বের হয়ে পূর্বাশা এলাকায় যাওয়ার সময় শ্রীমঙ্গল শহরের ক্যাথলিক মিশন রোড এলাকায় পৌছলে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সিএনজি অটোরিকশা থেকে সাদা পোশাকে কয়েকজন পুলিশ নেমে পেছন দিক থেকে জাপটে ধরলে সাইফুল ইসলাম অপহরণকারী ও ছিনতাইকারী ভেবে আত্মরক্ষার জন্য চিৎকার করেন এবং তাদের কাছ থেকে নিজে রক্ষা পেতে চেষ্টা করেন।

এ সময় তার সাথে ছিল ল্যাপটপ, নগদ ৩০ হাজার টাকা ও মোবাইল সেট। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি চিনতে পারেন শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুল জলিলসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্য। সেখান থেকে তাকে টেনেহিঁচড়ে নেওয়া হয় শ্রীমঙ্গল থানায়।

ওই রাতেই শ্রীমঙ্গল থানা ওসি আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে চোখ বেঁধে তারই কক্ষে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে থানা হাজতেও তাকে নির্যাতন করা হয়। তাদের নির্যাতনে সাংবাদিক সাইফুলে হাত, পা ও কোমর থেঁতলে যায়।

পরবর্তীতে নির্যাতনের শিকার সাইফুল ইসলামকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতাল ও পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি অত্যাচার ও নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*