ধুঁকছে শিল্প-কারখানা অর্থনীতিও ঝুঁকিতে পড়ছে

04_201793এখন বিডি ডেস্ক :: রাজনৈতিক অস্থিরতা একটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দেখা দেয়। একটি দেশের অর্থনীতি নির্ভর করে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না থাকলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার প্রভাব পড়ে। তাই বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। এখন এখানে বিদেশ থেকে বড় বড় অর্ডার আসে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও চামড়াশিল্পের আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশ একটি অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে। অন্যদিকে ওষুধশিল্পের বাজারও বড় হচ্ছে। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে।

বিদেশের ক্রেতারা এখন নতুন করে অর্ডার দেওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এরই মধ্যে ভারতের একটি ইংরেজি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় বিদেশি ক্রেতারা এখন ভারতের গার্মেন্টশিল্পের দিকে ঝুঁকেছে। এ খবর সত্য হলে তা অবশ্যই আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। শুধু গার্মেন্টশিল্পেই নয়, সব ধরনের শিল্প-কারখানাই রয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করে এমন অনেক কারখানা উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে পারেনি।

অনেক শিল্পে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়েছে কাঁচামালের অভাবে। সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে বড় ধরনের আঘাত এসেছে বড় শিল্পে। বড় বড় শিল্প-কারখানা গড়ে তুলতে প্রয়োজন বড় অঙ্কের আর্থিক বিনিয়োগ। অনেক শিল্পোদ্যোক্তাকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ের পর এই ঋণের কিস্তি গুনতে হয়। উৎপাদন ব্যাহত হলে বিপদে পড়তে হয় উদ্যোক্তাদের। এসব শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হলে শিল্প মালিকদেরই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

টানা আড়াই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকা রাজনৈতিক কর্মসূচি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু জানুয়ারিতে চামড়াশিল্পের ক্ষতি ৪৫৯ কোটি টাকা। বিজিএমইএর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক দিনের অবরোধ বা হরতালে ৬৯৫ কোটি টাকার পোশাক রপ্তানি কম হয়।

রপ্তানিমুখী ৭০টি পাটকলে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব। সব ধরনের শিল্পেই রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়ে। সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় উৎপাদন কম হয়। কারখানাগুলো আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। আবার এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনেকে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের পথেও যায়; যার প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়ে।

বিশ্ববাজারে রাজনৈতিক সংঘাতের দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পরিচিত হচ্ছে। দেখা দিচ্ছে আস্থার সংকট। রাজনৈতিক অবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার পরও এই আস্থা ফিরিয়ে আনতে অনেক সময় লেগে যাবে। তত দিনে হয়তো বড় ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। একবার বিদেশের বাজারে ইমেজ নষ্ট হলে তা উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক অস্থিরতা আমাদের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে বিশ্বাসযোগ্যতা, অন্যদিকে উৎপাদনবান্ধব পরিবেশ- কোনোটাই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*