রাউজান পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ভবন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম : কাজ শেষ হয়নি আড়াই বৎসরে

porb gojera polece tatonda kandra bobonতৈয়ব চৌধুরী, রাউজান :: রাউজান পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ভবন নির্মান কাজ শেষ হয়নি আড়াই বৎসরেও। যার কারনে ভাড়া ঘরেই চলছে পুলিশি কার্যক্রম। রাউজান উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়ার হাট এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যলয়ে এলাকায় সন্ত্রাস প্রতিরোধে ও আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য এলাকার মানুষের আবেদনের পরিপেেিত পুলিশ ফাড়ীঁ বসানো হয়।

গত ১৯৯৩ সালের ১৫ জানুয়ারী পুর্ব গুজরা ইউনিয়ন পরিষদের কায্যলয়ে বসে সালিশ করার সময়ে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য দিবালোকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে প্রবেশ করে গুলি করে হত্যা করে তৎকালিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকতার হোসেন রাজুকে। এই ঘটনার পর এলাকাবাসীর দাবীর পরিপেেিত অলি মিয়া হাটে পুলিশ ফাড়ী দেওয়া হয়। গত ১৯৯৮ সালে পূর্ব গুজরা পুীলশ ফাড়িকে পুলিশ তদন্ত ফাড়ি হিসাবে স্বীকৃতি দেয়।

ইউনিয়ন পরিষদ কার্যলয়ে পূর্ব গুজরা অলিমিয়ার হাট পুলিশ ফাড়ির পুলিশ অফিসের কাজ ও পুলিশ বসবাস করে এলাকার আইন শৃংখলা রায় কাজ করতো। এলাকার সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর প্রচেষ্টায় গত ২০১৩ সালের নভেম্বর মাস থেকে পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবন ভেঙ্গে পাশ্ববর্তী নিজস্ব জায়গা নিয়ে নতুন ভবন নির্মান কাজ শুরু করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় ভেঙ্গে ফেলা হলে অলি মিয়ার হাট এলাকায় হাজী নাজিম বিল্ডিংয়ের তিন তলা প্রতি মাসে সাত হাজার টাকায় ভাড়ায় নেয় পুলিশ। ভাড়া ভবনে প্রতিমাসে বিদ্যুৎতের বিল সহ দশহাজার টাকা করে পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্ত ফাড়িকে দিতে হয়।

পুর্ব গুজরা পুলিশ তদন্ত ফাড়ির ইনচার্জ এস আই মহসিন রেজা জানান, প্রতিমাসে দশ হাজার টাকা প্রদান করার পর ও ভাড়া নেওয়া ঘরে নেই শৌচাগার, নেই রান্নার ঘর, নেই গোসল করার ব্যবস্থা। বাইরে থেকে রান্না করে অফিসার সহ ১৫ জন পুলিশ কনষ্টেবল প্রতিদিনের খাওয়া খেতে হয়। ভাড়া ঘরের অদুরে পুকুরের পানিতে গোসল করতে হয় ফাড়ির পুলিশদেরকে। ভাড়া করা ভবনের নিচে গিয়ে শৌচাগারে মল মুত্র ত্যাগ করে ফাড়ির পুলিশেরা।

গৃহায়ন ও গণপুর্ত মন্ত্রনালয় থেকে তৎকালিন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি এক কোটি চলিশ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকায় পুর্ব গুজরা অলিমিয়ার হাটের দক্ষিণ পার্শ্বে এক একর জমিতে পুর্ব গুজরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ভবন নির্মানের ব্যবস্থা করেন।

গত ২০১৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী পুর্ব গুজরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ভবন নির্মান কাজের ভিত্তিপ্রস্থর প্রদান করেন এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি। ঠিকাদারী প্রতিষ্টান এন জেড এসোসিয়েটস ভবনের নির্মান কাজ শুরু করেন। নির্মান কাজ চলে ধীর গতিতে। পুর্ব গুজরা পুলিশ তদন্ত ফাড়ি ভবন নির্মান কাজের মধ্যে আড়াই বৎসরে দ্বিতল ভবন নির্মান কাজ করেন। ভবনের নির্মান কাজ শেষ না হতে নির্মানাধিন ভবনের দেওয়ালে ও ছাদে ফাটল সৃষ্টি হয়। নির্মানাধিন ভবনের ছাদে ও দেওয়ালে ফাটল সৃষ্টি হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এলাকাবাসী ও পুর্ব গুজরা পুলিশ ফাড়ির ইনচাজ এস আই মহসিন রেজা সংশিষ্ট কতৃপ বরাবের অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পরিপেেিত গৃহায়ন ও গণপুর্ত বিভাগের উধত্বন কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা সরেজমিনে এসে তদন্ত করেন।

গত ১৩ জুন শনিবার গৃহায়ন ও গণপুর্ত বিভাগের প্রকৌশলী ও পুলিশের উধত্বন কর্মকতারা সরেজমিনে এসে ভবনের নির্মান কাজ দেখে হতবাক হয়ে পড়েন।

সরেজমিনে তদন্তে আসা  অতিরিক্ত আইজিপি অর্থ মোখলেসুর রহমান জানান পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্ত ফাড়ি ভবনের নির্মান কাজ দেখে ফেরার সময়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন  নির্মানাধিন ভবনের দেওয়ালে ছাদে শতাধিক ফাটল রয়েছে। ভবনটি নির্মানে নিম্মমানের ইট ব্যবহার, নিম্মমানের পাথর দিয়ে ভবনের পিলারগুলো ঢালাই করা হয়েছে। নির্মানাধীন ভবনের ঠিকাদারের বিরুদ্বে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশিষ্ট কতৃপরে কাছে জানিয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*