কোন্দলে জর্জরিত তানোর উপজেলা বিএনপি

কোন্দলে জর্জরিত তানোর উপজেলা বিএনপি

সারোয়ার হোসেন,তানোর ঃ রাজশাহীর তানোরে দুইটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে প্রতিটিতেই গড়ে উঠছে একেকটি গ্রুপ। স্থানীয় সাবেক মন্ত্রী নিয়ন্ত্রণ করছেন তাদের। এ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। উপজেলার প্রায় এলাকা থেকেই বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা দল থেকে পদত্যাগ করছেন। আবার কেউ কেউ ভিড়ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে।গত কয়েক বছরে তানোর উপজেলাতে অন্তত ১ হাজার নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ হয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছে। কেউ কেউ রাজনীতি থেকে একেবারেই অবসর নিয়েছে। সর্বশেষ গত পৌর নির্বাচনে পদত্যাগ করেছেন তানোর পৌরসভার বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক থানা সভাপতি বিশ্বনার্থ সরকার।দলীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সাধারণ সম্পাদক নিয়ন্ত্রণ করছেন আলাদা গ্রুপ। উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোজাম্মেল হক, সাবেক সম্পাদক মফিজ উদ্দিন নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছেন আলাদা গ্রুপকে।

এভাবে একের পর এক গ্রুপিংয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা পর্যুদস্ত। একসময়ের বিএনপির ঘাঁটি বলে পরিচিত তানোর গোদাগাড়ী আজ এ আসনের বিএনপি জয় পাওয়ার আশা দিনদিন ক্ষীণ বলে মন্তব্য করছে দলটির নেতাকর্মীরা। চলতি বছর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এমরান আলী মোল্লাকে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহত দেয়া হয়। তবে তিনি এ কারণে স্থানীয় সাবেক এমপি ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ওপর ক্ষুব্ধ বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত বছর মুন্ডমালা পৌর যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমানকে কোন কারণ ছাড়াই মনগড়া রেজুলেশন করে তাকে দল থেকে অব্যহতি দিয়ে রেজানুল ইসলাম রেজাকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

দলীয় সূত্র আরো জানায়, চলতি বছরে উপজেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যানসহ বিএনপির ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে ও নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে ঢাকাতে বসে কমিটি অনুমোদন দেওয়ার পর হতে দলের মধ্যে শুরু হয় লবিং গ্রুপিং । আজোবদি সেই লবিং থেকে বের হতে পারছেনা তানোর উপজেলা বিএনপি। দিনদিন সমস্যা বেড়েই চলেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন আগামীতে এআসন পেতে হলে ব্যারিস্টার আমিনুল হককে ঢাকা ছেড়ে মাঠে বসে ত্যাগি নেতামর্কীদের নিয়ে সমঝতা করতে হবে। তা নাহলে এ আসনটি হাতছাড়া হয়ে যাবে বলে তারা মনে করছেন।

উপজেলা বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক বলেন, ‘সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অন্যরা যেখানে ঘর গোছাতে ব্যস্ত, তখন তানোর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন্দল বাড়ছেই। এসব কারণে একের পর এক নেতাকর্মীরা পদত্যাগ করছে। কেউ বা দল থেকে চলে যাচ্ছে অন্য দলে। আবার কেউ হচ্ছে রাজনীতিবিমুখ। তিনি ব্যারিষ্টার আমিনুল হকের সমলোচনা করে আরো বলেন, হাইকোট ছুটি ছাড়া তাকে এলাকায় দেখা যায় না। আর দীর্ঘদিন ধরে নেতাকর্মীদের সাথে তার যোগাযোগ নেই। এমনকি তার নির্বাচনী এলাকায় নেতাকর্মীদের মাঝে কোন অর্থ ব্যায়ও করেনা বলে তিনি জানান।

দলীয় কোন্দল নিয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোজ্জাম্মেল হক খাঁন বলেন, তানোর পৌর মেয়র ও সাধারণ সম্পাদকের কারণে উপজেলা পর্যায়ের দু-তিনটি করে গ্রুপিং সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সেটিকে ভেঙে একত্রে আনার চেষ্টা করছি। এ নিয়েই হয়তো কিছু কিছু জায়গায় সমস্যা হচ্ছে। আবার তাঁর কারণে দল থেকে কেউ কেউ পদত্যাগও করছে। অল্পদিনের মধ্যে নিরশন হবে বলে তিনি জানান।এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপি”র সাধারণ সম্পাদক তানোর পৌর মেয়র মিজানুর রহমার মিজান জানান, দলে সিনিয়র জুনিয়র বলে কোন কথা নেই। যে বেশী কাজ করবে সে পদে আসবে। আমি তার ব্যতিক্রম নয়। আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে অনেকবার জেলে যেতে হয়েছে। বিধায় দলে নেতাকর্মীরা আমাকে চেয়েছেন বলেই সাধারণ সম্পাদকের পদ পেয়েছি। আমি সবাইকে নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি ।

মুন্ডমালা পৌর যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় নেতাদের পরামর্শ না নিয়ে যুবদল সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইচ্ছামতো রেজুলেশন করে আমাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। সে কারণে মুন্ডমালা যুবদলের নেতাকর্মীরা আরো ক্ষুব্ধ হয়েছে। তাই একযোগে কিছু নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছিল। ’এ বিষয়ে তানোর থানা বিএনপি সাবেক সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এমরান আলী মোল্লা জানান, আমি অসুস্থ্য যে জন্য আমাকে কমেটির প্রধাণ উপদেষ্টা পদ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন সভা সমাবেশ করছি। বিএনপি বৃহত্তরদল মতবিরোধ থাকবে। কিন্তু আগামী নির্বাচনে দলীয় ঐক্যবধ্য ভাবে কাজ করবেন বলে আমার বিশ্বাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*