তানোরে প্রকৃত আওয়ামীলীগ আতংকে …

তানোরে প্রকৃত আওয়ামীলীগ আতংকে …

সারোয়ার হোসেন,তানোর: রাজশাহীর তানোরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে গতিশীল, দলীয় কর্মকান্ড জোরদার এবং প্রবীণ-ত্যাগী, নিবেদিতপ্রাণ নেতা ও কর্মীদের সক্রীয় ভাবে চাঙ্গা করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ায় আতংকিত হয়ে পড়েছে দলের কিছু হাইব্রিড নেতাকর্মীরা। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কিছু বগি নেতার কারণে হাইব্রিডরা দলে স্থান পেয়ে নিজের ইচ্ছা মত চালিয়ে যাচ্ছিল বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ড। কিন্তু এবার দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে তানোর উপজেলা আওয়ামীলীগের তৃনমূল ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন সম্মেলন মতবিনিময় সভা সেমিনার শুরু করায় বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে দলের ভিতরে কাপ্তি মেরে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির আওয়ামী লীগের স্যাইনবোর্ড ব্যবহারকারী হাইব্রিড নেতাকর্মীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তানোর পৌর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, যাদের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য হবার যোগ্যতা নাই, যারা একসময় বিএনপির দাপটে থানার মোড়ে ওপেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কোন মিটিং মিছিং সমাবেশ করতে দেয়নি অথচ তারাই কোট প্যান পরে এসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য আজ দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোন জায়গা নেই।

তবে এবার বিষয়গুলো নিয়ে দলের নীতিনির্ধারকদের ভাবিয়ে তুলেছে। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানারে দলে দলে নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগে যোগদান করছে। আসলে এরা পূর্বেও আওয়ামী লীগ ছিল না, এখানো নাই ভবিষ্যতেও হবে না, এরা নিজেদের চাকরি ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে কেউ আবার অপকর্ম আড়াল করে মামলা থেকে বাঁচতে আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন যেটা আওয়ামী লীগ বুঝতে পারছে না।

আর তাই এরা দলে দলে আওয়ামী লীগে যোগদান করার পরেও দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ডে কোনো প্রভাব পড়ছে না ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুরস্থা কাটছে না। ফলে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণের মনে প্রশ্ন উঠেছে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানারে শত শত নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করছেন আসলে তারা কারা ? আর তাদের যোগদানের উদ্দেশ্যেই বা কি ? বিপুল নেতাকর্মীর যোগদানের পরেও যদি দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ড গতিশীল না হয় ? তাহলে ঢাকঢোল পিটিয়ে তাদের এতো ঘটা করে দলে যোগদান করিয়ে লাভ কি ? বরং তাদের কারণে আওয়ামী লীগ মাথাভারী সংগঠনে পরিনত হচ্ছে বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতা ও কর্মী-সমর্থকগণ। আর এসব নবাগতদের ভিড়ে প্রবীণ, ত্যাগী, পরীক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ ত্যাগী নেতাকর্মীরা হারিয়ে যাচ্ছে। এতে করে দল সাংগঠনিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে তৃনমূল নেতাকর্মীরা নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কিছু হাইব্রিড জনবিচ্ছন্ন বগি নেতা গণমাধ্যমে প্রচার পেতে ও দলের হাইকমান্ডের কাছে নিজের অবস্থান জাহির করতেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানারে এলাকার একশ্রেণীর সুবিধাভোগী মতলববাজদের দলে দলে আওয়ামী লীগে যোগদান করাচ্ছে। আর এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের জন্য কিছু বখাটে যুবককে মুঠোফোন কিনে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নয় নিজেদের মতলব পূরণের জন্য মতলববাজরা দলে দলে আওয়ামীলীগে ভিড় জমাচ্ছে বলে নেতাকর্মীরা জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*