২ ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠ গরম করছেন !

একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: পাবনা-৩
২ ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠ গরম করছেন !
এস এ মারুফ।। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনও বেশ দেরী। তবে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বসে নেই। বিভিন্ন উপলক্ষকে সামনে নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় ভোটার জনগন, দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থকদের সাথে কুলাকুলি শুরু করে দিয়েছেন। নেতাকর্মীরাও বেজায় খুশি। ভাগ হয়ে তাদের সাথে মাঠে নেমেছেন। দলীয় বিভেদ বাড়ছে। শুধু তাই নয় শহর-গ্রামে-গঞ্জে বিশাল বিশাল ডিজিটাল প্যানাপ্লেক্স ব্যানার, পোষ্টারে ছেয়ে গেছে। চলছে গ্রামসভা-উঠোনসভা, সমাবেশ বেশুমার। এলাকায় এখনই ভোটের আমেজ বিরাজ করছে।
পাবনা-০৩ (চাটমোহর- ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর)আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র নবীন-প্রবীন মিলে এখন পর্যন্ত ২৩ জন নেতা নির্বাচনী মাঠে বেশ তৎপর রয়েছেন। দলীয় প্রতীক পেতেই তারা মাঠে
রয়েছেন নেতাকর্মীদের কাছে টানতে। তারা খরচ- খরচাও বেশ করছেন। এ সব নেতৃবৃন্দের (অধিকাংশ জেলা শহর ও রাজধানীতে বসবাসকারী) ছবি সংবলিত পোস্টার- বিল বোর্ডে ছেয়ে গেছে নির্বাচনী এলাকা। চলছে ঢাকাতেও দৌড়ঝাপ, লবিং-গ্রুপিং।
ধারনা করা যাচ্ছে নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসবে আসনটিতে প্রধান দুই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকা ক্রমশঃই দীর্ঘ হবে। অন্যদিকে দলীয় কোন্দল- বিভাজন ততটাই দৃশ্যমান হবে। এখন পর্যন্ত এই আসনে আওয়ামীলীগের ১৩ এবং বিএনপি’র ১০ জন নেতা দলীয় মনোনয়ন লাভের আশায় মাঠে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন অবিরাম। চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৩ আসনের ভোটার সংখ্যা সাড়ে ৪ লাখের অধিক। তাই এই আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সংখ্যাও বেশী হওয়া স্বাভাবিক মনে করা হচ্ছে। পাবনার ৫ টি আসনের মধ্যে এই আসনেই সবচেয়ে বেশি প্রচার প্রচারণা চলছে এখন পর্যন্ত। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র প্রচার-প্রচারণার দিক থেকে সব থেকে বেশি এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বিভিন্ন এলাকা ও গ্রাম-গঞ্জে নিজের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে
দিচ্ছেন। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত নিজের ছবি দিয়ে শুভেচ্ছা ব্যানার, ফেস্টুন টাঙ্গিয়ে দিয়েছেন প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জে ও বিভিন্ন জন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়।
আসনটির সরকার দলীয় সংসদ সদস্য, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মকবুল হোসেন ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলামকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনেও তিনি জয় লাভ করে দ্বিতীয় মেয়াদে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণসহ এলাকায় মোটা দাগে দৃষ্টি দেবার মতো উন্নয়ন করেছেন। বিশেষ করে তার নিজ এলাকা ভাঙ্গুড়াতে লক্ষ্যযোগ্য উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। ফলে তৃতীয় বারের মতো এমপি হতে ‘নৌকার পক্ষে’ জনসমর্থন আদায়ে সচেষ্ট থাকবেন সেটাই স্বাভাবিক।
এ ছাড়াও আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আরো ১২ জন আওয়ামীলীগের হেল্থী সাবেক নেতা মাঠে নেমেছেন এবার। এরা হলেন- জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা ও সেক্টর কমান্ডারস্ ফোরামের পাবনা জেলা
সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আ ফ ম আব্দুর রহিম পাকন, পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি পাবনা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল হামিদ মাস্টার, চাটমোহর উপজেলা
আওয়ামীলীগের সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সাখো, পাবনা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা
অ্যাডভোকেট শাহ আলম, জেলা আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও ভাঙ্গুড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বাকি বিল্লাহ, বিএমএ পাবনা জেলা শাখার সভাপতি আওয়ামীলীগ
নেতা ডাক্তার গোলজার হোসেন, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এসএম হল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান আতিক,
আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ- সম্পাদক ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আলিম, ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও আমেরিকার ভার্জিনিয়া রাজ্যের আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সাবেক ভিপি আবুল কালাম আজাদ, ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সরকার, ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র খ.ম কামরুজ্জামান মাজেদ, ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলী আশরাফুল কবীর।
বিএনপি’র মনোনয়ন  প্রত্যাশীরা হলেন-বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, ও চাটমোহর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি সাবেক এমপি আলহাজ্ব কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল(অবঃ)ফখরুল আযম রনি, জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হবিবুর রহমান হল ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস অ্যাডভোকেট মাসুদ খোন্দকার, জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও ফরিদপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বকুল, জেলা বিএনপি’র দপ্তর সম্পাদক সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম, জেলা বিএনপি’র আন্তর্জাতিক শ্রম বিষয়ক সম্পাদক চাটমোহর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাসাদুল ইসলাম হীরা, তার বড়ভাই বিশিষ্ঠ শিল্পতি আলহাজ্ব হাসানুল ইসলাম রাজা, তার ছোট বোন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা, ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা শিল্পপতি আলহাজ্ব রাজিউল হাসান বাবু, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রবিউল করিম। বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য কে এম আনোয়ারুল ইসলাম এ আসনটি থেকে দু’বার এমপি নির্বাচিত হন। চাটমোহর উপজেলা পরিষদের দুই দফায় চেয়ারম্যান ছিলেন। এলাকায় তার জনসমর্থনের একটি পুরনো লেয়ার রয়েছে। দেশের বৃহত্তম এ সংসদীয় আসনটিতে আওয়ামীলীগ-বিএনপি উভয় দলেই রয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। বিশেষ করে ক্ষমতার ভাগাভাগির লড়াইয়ে ক্ষমতাসীন  আওয়ামীলীগের কোন্দল লক্ষ করার মতো। অন্যদিকে ৯ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকলেও বিএনপি’র নবীন-প্রবীন গ্রুপের মধ্যে রয়েছে প্রকাশ্য বিভাজন। বিশেষ করে চাটমোহরে তারা দলীয় কর্মসূচি
এখনও পৃথক পৃথক ভাবে পালন করে থাকেন।
তবে অনেক সচেতন মহল মনে করছেন আগামী নির্বাচনে এলাকা ইজম একটি বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। সেক্ষেত্রে চাটমোহর উপজেলাবাসীই নির্ধারণ করবেন কে হবে একাদশ সংসদ নির্বাচিত এমপি। কারণ ভোট সংখ্যায় ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার দ্বিগুনেরও বেশী ভোটার রয়েছে চাটমোহরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*