বিনোদন প্রেমীদের খুলে দেওয়ার দাবি 

গোদাগাড়ীর শত শত মানুষ কর্মহীন,সাফিনা পার্ক দেড় বছর ধরে বন্ধ
বিনোদন প্রেমীদের খুলে দেওয়ার দাবি 

শামসুজ্জোহা বাবু,গোদাগাড়ীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বরেন্দ্র অঞ্চলে গড়ে উঠা সাফিনা পার্কটি দেড় বছর থেকে বন্ধ তাই শত শত শ্রমিক ও ব্যবসায়ী কর্মহীন হয়ে পড়েছে। উজেলায় অবস্থিত একমাত্র বড় বিনোদন কেন্দ্র ছিল সাফিনা পার্ক। কিন্ত মালিকানা নিয়ে দ্বদ্বের কারণে দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ থাকায়,উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিনোদন প্রেমীরা ক্ষোভ জানিয়েছে। পার্কটিতে বড়দের পাশাপাশি কোমলমতি শিশুরাও আনন্দ মেতে উঠত। বিনোদন প্রেমীদের পাশাপাশি পার্কটিকে ঘিরে দোকান পাট, হোটেল ও বিভিন্ন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানগড়ে উঠায় কর্ম সংস্থান ঘটেছিল এলাকার শত শত মানুষের। গত বছরের ১লা এপ্রিল থেকে পার্কটি সিলগালা করে দেয় ,পার্কটি বন্ধ থাকায় বিনোদন প্রেমীরা বঞ্চিত হচ্ছে বিনোদন থেকে, সাথে সাথে কর্ম সংস্থান হারিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাই সাফিনা পার্কটি খুলে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে উত্তরাঞ্চলের বিনোদন প্রেমীসহ বেকার হওয়া মানুষেরা। ঐ এলাকার হোটেল মালিক দুরুল বলেন,আমি এনজিও থেকে এক লক্ষ টাকা কিস্তি উঠিয়ে একটি ছোট দোকান দিয়েছিলাম পার্ক বন্ধ হওয়ার কারণে কিস্তির টাকা পরিশোধ করা দায় হয়ে গেছে। এবং পরের হোটেলে কাজ করে সংসার চালাতে পারছিনা। আমার মত আরো কয়েকজন পথে বসেছে যারা দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালাছে। এছাড়াও অনেক শ্রমিক আজ কর্মহীন যারা মানবেতর জীবন যাপন করছে। শ্রী যুবনা রানী একজন সুইপার সে পার্কে কাজ করে সংসার চালাত কিন্তু সে আজ বেকার এরকম শ্রমিক যারা দিন আনে দিন খাই তাদের দায় ভার কে নিবে। সবাই প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে আছে পার্কটি কবে খুলে দিবে। উপজেলার বালিয়াঘাট্রা গ্রামের দুই ভাই ফজলুর রহমান ও সাইফুল ইসলাম ২০১২ সালে নিজেদের ৩০ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে উপজেলার দিগরাম এলাকায় ‘সাফিনা পার্ক’ নামে এই পিকনিক স্পট গড়ে তোলেন।চুক্তি অনুযায়ী ফজলুর রহমানের বড় ছেলে মিজানুর রহমান ফরিদ শতকরা ৮০ ভাগ, ফজলুর রহমান শতকরা ১০ ভাগ ও সাইফুল ইসলাম শতকরা ১০ভাগ মালিকানায় পার্কটি পরিচালিত হতে থাকে। ওই সময় ফজলুর রহমান পার্কেরর্ চেয়্যারম্যান ও তার ছোটভাই সাইফুল ইসলাম পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদে আসীন হন। শুরু থেকেই উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিনোদন প্রেমীরা মনের খোরাক যোগাতে পার্কটিতে এসে ভিড় জমাতো। এদিকে,১৯ মাস ধরে পার্কটি বন্ধ থাকায় বিনোদন প্রেমীরা বিনোদনের জন্য হারিয়ে ফেলেছে আশ্রায়াস্থল। এমনকি পার্কে ঘিরে গড়ে উঠা দোকান পাট ও হোটেলসহ বিভিন্ন ব্যাবসায়ি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মরত শ্রমিকরা পরিবার নিয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করেছে।ফজলুর রহমান ও সাইফুল ইসলাম দুই ভাইয়ের মধ্যে মালিকানা ও মুনাফা বণ্টন নিয়ে দ্বন্দ¦ বেঁধে যায়। দ্বদ্বের জের ধরে পার্ক নিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিলে উপজেলা প্রশাসন পার্কটি সিলগালা করে দেয়। পার্কটি বন্ধ হওয়ার কিছুদিন পর পার্কের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুর রহমান মৃত্যু বরণ করেন।এ বিষয়ে পার্কের এমডি সাইফুল ইসলাম বলেন, পার্কের অর্ধেক জমি আমার, শতকরা ৩০ ভাগ পার্কের মালিকানা আমার ছিল। কাগজে কলমে তারা জাল করে শত করা ১০ ভাগ দিয়েছিল। ১ বছরে পার্ক তৈরীর সব ব্যয় উঠে গেলেও তারা আমাকে কোন মুনাফা দিত না। মালিকানা ও মুনাফা বণ্টন নিয়ে দ্বদ্বের সৃষ্টি হয়েছিল । একটি বিচারের মাধ্যমে দ্বদ্বের সমাধান হয়েছে। আমি তা মেনে নিয়েছি। কিন্তু তারা মানছেনা।উপজেলা নিবাহী অফিসার জাহিদ নেওয়াজ বলেন, উভয় পক্ষের- মামলা নিষ্পত্তি অথবা সমঝোতা হলে বন্ধ পার্কটি খুলে দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*