সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক অভিযান, উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র

image_266968.syriaআন্তর্জাতিক ডেস্ক :: প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দিতে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী সিরিয়ায় ‘সামরিক অভিযানে’ অংশগ্রহণ করতে শুরু করেছে।

সিরিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির বিষয়ে অবগত তিনটি লেবাননি সূত্র বুধবার এ কথা জানিয়েছে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সূত্রগুলো এ খবর জানিয়েছে। তবে এসব অভিযানে জড়িত রুশদের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত অল্প বলে জানিয়েছেন তাদের মধ্যে একজন।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক ভূমিকা গভীর হচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্রের এমন শঙ্কার মধ্যেই লেবাননি সূত্রগুলো বিষয়টি সম্পর্কে প্রথমবারের মতো সরাসরি স্পষ্ট তথ্য দিল।
লেবাননি সূত্রগুলোর মধ্যে দুজন জানিয়েছেন, সিরিয়ায় দুটি ঘাঁটি স্থাপন করছে রাশিয়া। একটি উপকূলের কাছে ও অপরটি দেশের অভ্যন্তরে। দ্বিতীয়টি অভিযান পরিচালনার ঘাঁটি হতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

এদের মধ্যে একজন বলেছেন, “রুশরা উপদেষ্টা মাত্র। তবে তারা সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” অপর লেবাননি সূত্রটি জানিয়েছে, লড়াইয়ের ক্ষেত্রে রুশদের ভূমিকা এখনও ছোট।

“অল্প সংখ্যা দিয়ে তারা শুরু করেছে। তবে বাহিনীর বড় অংশটি এখনও অংশ নেয়নি। সিরিয়ায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রুশ বিভিন্ন ভূমিকা রাখছে। কিন্তু তারা এখনও সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে পুরোপুরি যোগ দেয়নি,” বলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, কয়েকদিনে বা এই সময়ের মধ্যে সিরিয়ায় দুটি ট্যাঙ্ক ল্যান্ডিং জাহাজ ও পরিবহন বিমান পাঠিয়েছে রাশিয়া এবং নৌবাহিনীর অল্প কিছু পদাতিক সেনাকে সেখানে মোতায়েন করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তারাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক উদ্যোগের উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়। এদের মধ্যে একজন কর্মকর্তার ধারণা, প্রেসিডেন্ট আসাদের অন্যতম শক্তিকেন্দ্র বন্দর শহর লাতাকিয়ায় একটি বিমানক্ষেত্র প্রস্তুত করাই সম্ভবত রুশ সামরিক উদ্যোগের উদ্দেশ্য। বিমান হামলা করতে রুশরা বিমানক্ষেত্রটি ব্যবহার করতে চাইছে, এমন সম্ভাবনাও বাতিল করেননি যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তারা।

ভূমধ্যসাগরে রাশিয়ার একমাত্র নৌঘাঁটি সিরিয়া উপকূলের টার্টাউসে অবস্থিত। এলাকাটি এখনও প্রেসিডেন্ট আসাদের অধীনে আছে। এই ঘাঁটিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ক্রেমলিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত উদ্দেশ্য হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সিরীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, “রুশ বিশেষজ্ঞরা সবসময়ই ছিলেন। কিন্তু গেল বছর তাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।”

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের মিত্র সিরিয়ার মাটিতে তাদের ‘বিশেষজ্ঞরা’ আছেন বলে মস্কোও নিশ্চিত করেছে। তবে তাদের সামরিক উপস্থিতির পরিমাণ ও সক্ষমতার বিষয়ে কিছু জানাতে রাজি হয়নি রাশিয়া।

রাশিয়া বলছে, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই সিরীয় সরকারকে সহায়তা করা দরকার। কিন্তু গৃহযুদ্ধে রুশদের জড়িত হওয়ার থাকার কথা অস্বীকার করেছে দামেস্ক।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত ইরান ও লেবাননি মিত্র হিজবুল্লাহই প্রেসিডেন্ট আসাদের সামরিক সমর্থনের প্রধান উৎস হয়ে আছে। তারপরও সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ার খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে চারদিনে দ্বিতীয়বারের মতো বিষয়টি নিয়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।

রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এতে ওই অঞ্চলে সহিংসতা আরো বাড়বে বলে সতর্ক করেছেন কেরি। পরিস্থিতির উপর গভীরভাবে নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*