বয়সের ভারে মন্ত্রীরা

all-lider1-400x252সিটিজি পোস্ট ডেস্ক :: বর্তমান সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর বয়স ৭০’এর কোটায়। এসব মন্ত্রীরা বয়সের কারণে দলের সংগঠনিক কাজে বেশি সময় দিতে পারেন না বলে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা অভিযোগ করেন। নানা কারণে তাদের নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে। আবার প্রায় অসুস্থ থাকায় এদের অনেকেই নিয়মিত মন্ত্রণালয়ে আসতে পারেন না।

রাজনৈতিক জীবন পেরিয়ে শেষ বয়সে মূল্যায়িত হওয়া অধিকাংশ মন্ত্রীই এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ। ‘৭১-এর আন্দোলনে তরতাজা এসব যুবক এখন নিজ শরীরকে শাসন করতে অপারগ। বয়স আর নানা জটিল অসুখ শাসন করতে না পারলেও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলো অলঙ্কৃত করে আছেন। একসময়ের দাপুটে, বর্তমানে অসুস্থ, এসব রাজনীতিকের মন্ত্রণালয়গুলোও এখন স্থবির হয়ে পড়েছে।

বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। জন্ম ১৯৩৪ সালের ৬ অক্টোবর। ৮১ বছর বয়সেও দৃঢ় হাতে তদারকি করে চলেছেন সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়টি। দিয়েছেন চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরেরসহ টানা ৬টি বাজেট। তবে মাঝে মধ্যেই মেজাজ হারিয়ে ফেলেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে দেওয়া তার বক্তব্য দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত হয়েছে। এদিকে বয়সের কারণে প্রায়ই অসুস্থ থাকেন তিনি। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড তদারকি করে চলেছেন একনিষ্ঠভাবে।

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। জন্ম ১৯৪২। ‘৭১ সালে ২৯ বছরের টগবগে এ যুবক দেশমাতৃকার জন্য মুক্তিসংগ্রাম করেছেন। ৭৩ বছর বয়সী আওয়ামী লীগের এ প্রবীণ রাজনীতিবিদ এখন নানা জটিল রোগে আক্রান্ত। প্রায়ই অসুস্থ থাকেন। নিয়মিত চেকআপ করান। মন্ত্রণালয়ে উপস্থিতিও অনিয়মিত। হুইলচেয়ার ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। তবে মাঝেমধ্যে তিনি ক্র্যাচে ভর করে মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। অসুস্থতার জন্য নিজ নির্বাচনী এলাকায়ও তেমন যান না। কয়েকবার হেলিকপ্টারযোগে নিজ এলাকা ময়মনসিংহে গিয়েছেন।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহা. ইমাজউদ্দিন প্রামাণিক। জন্ম ১৯৪১। বর্তমান বয়স ৭৫ বছর। তার অবস্থাও একই। দায়িত্ব গ্রহণের আগে থেকেই তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। এ জন্য নিয়মিত মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত হতে পারেন না। অধিকাংশ সময় থাকেন চিকিৎসাধীন। আওয়ামী লীগের জন্য নিবেদিত ও নওগাঁ-৪ আসন থেকে পাঁচবার নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য শেষবেলার এই মূল্যায়ন কাজে লাগাতে পারছেন না। মন্ত্রণালয়ে উঠতে-নামতে দুপাশে দুজনকে ধরে থাকতে হয়। মাঝেমধ্যে লাঠিতে ভর করে একা ওঠার চেষ্টা করেন। মনের জোরে বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত হলেও শরীর যেন সায় দেয় না।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা একটি দৈনিককে বলেছিলেন, স্যারের নিজ শরীরের ওপরই বশ নেই, মন্ত্রণালয় বশ মানাবেন কী করে? আমরা আছি আমাদের মতো। স্যার আছেন তার মতো। তার ওপর যেমন কোনো চাপ নেই, আমাদের ওপরও চাপ নেই।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছায়েদুল হক। জন্ম ১৯৪২ সালে। বর্তমান বয়স ৭৩ বছর। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কিছুদিন ভালোই চালিয়েছেন মন্ত্রণালয়। পরে বয়স ও নানা রোগে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এখনো অসুস্থ।

সামছুর রহমান শরীফ। পাবনা-৪ আসন থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে চারবার এমপি নির্বাচিত হন। দলে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে বতর্মান আওয়ামী লীগ সরকার ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়। কিন্তু ১৯৪০ সালে জন্ম নেওয়া এই প্রবীণ নেতার বর্তমান শারীরিক অবস্থা খুবই নাজুক। ৭৫ বছর বয়সি এই নেতার শরীরের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই। তার ওপর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। অধিকাংশ সময়ই তিনি অসুস্থ থাকেন। মাঝেমধ্যে অন্য কারও সাহায্যে চলাফেরা করেন। এ মন্ত্রণালয়ের গতি একেবারেই মন্থর বলে জানান সেখানে কর্মরত দুই কর্মকর্তা। তিনিও বিভিন্ন সময়ে সরকারি কোষাগার থেকে চিকিৎসা-ভাতা নিয়ে চিকিৎসা করান।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, দলের জন্য অসামান্য অবদান রাখায় প্রধানমন্ত্রী তাদের মূল্যায়িত করে মন্ত্রিত্ব দিয়েছেন। এখন তাদের উচিত বয়সের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রীর উদারতার কথা ভেবে মন্ত্রিসভা থেকে অবসর নেওয়া। এতে তাদের গৌরবোজ্জ্বল জীবন আরও গৌরবান্বিত হবে। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভা আবার নতুন কলেবরে সাজাতে পারবেন। আরও ত্যাগী ও নিবেদিত নেতাদের ঠাঁই দিতে পারবেন। নতুনদের স্থান দিতে তাদের এ ছাড় দেওয়া উচিত। এতে মন্ত্রিসভার গতি বাড়বে। সরকারের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*